এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > দিল্লির বুকে বড় মান্যতা – মোদিজীর রাতের ঘুম যদি কেউ কেড়ে নিতে পারেন, তবে সেই আইরন লেডি মমতাই!

দিল্লির বুকে বড় মান্যতা – মোদিজীর রাতের ঘুম যদি কেউ কেড়ে নিতে পারেন, তবে সেই আইরন লেডি মমতাই!

বর্তমানে সারাদেশে বিজেপি বিরোধী মুখ হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করবার জন্য কিছুদিন আগেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সিবিআই হানার ঘটনায় মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসে পড়তে দেখা গিয়েছিল খোদ তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

কিন্তু আর বাংলা নয়, যেনতেন প্রকারে সারাদেশে সেই বিজেপি বিরোধী মুখ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার জন্য এবার দিল্লির মাটিতে গিয়েও বিজেপি বিরোধিতার সুর চওড়া করলেন তৃণমূল নেত্রী। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতেই সমস্ত বিরোধী দলগুলোর ডাকে দিল্লিতে ধরনা সমাবেশে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর গতকাল থেকেই শুরু হয় তাঁর একের পর এক কর্মসূচি।

জানা যায়, গতকাল সকালে সংসদ ভবন চত্বরে গান্ধী মূর্তির সামনে নিজের দলের সাংসদদের নিয়ে মোদীর বিদায়ের শপথ নেন তৃণমূল নেত্রী। আর তারপরই দুপুরে পৌঁছে যান সেই যন্তরমন্তরের ধরনা মঞ্চে। আর এই মঞ্চ থেকেই ফের গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশ্যে তোপ দাগতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির উদ্দেশ্যে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এদিনের ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিবিআই, ইডি দিয়ে আর কতদিন ভয় দেখাবে! আজ তো লোকসভার অধিবেশন শেষ হয়ে গেল! কয়েকদিনের মধ্যেই ভোট ঘোষণা হবে। তখন সব অফিসাররাই নির্বাচন কমিশনের হয়ে যাবে। তাই যতই চেষ্টা করুক, কোনো ভয় দেখানো যাবে না।”

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর 56 ইঞ্চি ছাতি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “রাবণেরও 56 ইঞ্চি ছাতি ছিল। মোদী আর অমিত শাহ মিলে দেশটাকে টুকরো টুকরো করে দিতে চাইছে। এমার্জেন্সি থেকেও আজকে সাংঘাতিক অবস্থা এই দেশের। আর তো কটা দিন! ওদের এক্সপায়ারি ডেট শেষ হয়ে এসেছে।” অন্যদিকে বাংলার প্রতি কেন্দ্র সরকার বঞ্চনা করছে বলেও এদিন গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে বৈষম্যের কথা তুলে ধরে বিজেপি নেতাদের অলআউট অ্যাটাক করতে দেখা যায় তৃণমূল নেত্রীকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “কলকাতার পুলিশ কমিশনার থেকে রাজ্যের সমস্ত অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা সবাই চোর আর ওরা শুধু সাধু! যে যাই করুক না কেন, বাংলা থেকে আমরা 42 আসন নিয়েই লোকসভায় আসবো।” এদিকে কেন্দ্র থেকে বিজেপি সরকারকে সরাতে বিজেপি বিরোধী দলগুলো যে যেখানে শক্তিশালী, সেখানে তাকে লড়ার কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

এদিন সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে দল যেখানে শক্তিশালী বিজেপিকে রুখতে গেলে সেই দলকেই জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।” এদিকে এদিনের এই দিল্লির যন্তরমন্তরে ধরনা মঞ্চে দেশের প্রায় কমবেশি প্রতিটি বিজেপি বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক থাকার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনা মঞ্চে আসার আগেই সেইখানে বক্তব্য রেখে চলে যান সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি।

তবে এদিনের ধরনা মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপি বিরোধী মন্তব্য দেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করতে শুরু করেছেন যে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুটা হলেও গেরুয়া শিবিরের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কেননা বাংলা থেকে তিনি যেভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তা জাতীয় রাজনীতিতে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তা সেই তৃণমূল নেত্রীর জাতীয় নেত্রী হয়ে ওঠার পেছনে একটা বড় কারণ। আর সেই সুযোগটিকে হেলায় নষ্ট না করে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রের মসনদ থেকে বিজেপিকে সরাতে আয়রন লেডি হিসাবে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এই উচ্চস্বর যে আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকবে সেই ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল।

Top
error: Content is protected !!