এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় হারের পর বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় হারের পর বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই দেখা গেছে, দিল্লি থেকে কংগ্রেস একেবারে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র কংগ্রেস যে আসন পায়নি তা নয়, এবার দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীর দল প্রদত্ত ভোটের 5 শতাংশ আসনও জোগাড় করতে পারেনি। উপরন্তু, কংগ্রেসের এবারের নির্বাচনে পারফরম্যান্স এতটাই খারাপ হয়েছে যে তাদের 67 জন প্রার্থীর বেশীরভাগের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার ভোটদান শুরু হওয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল কংগ্রেসকে নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করে দিয়েছিলেন। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেল, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ভবিষ্যৎবাণী খুব একটা ভুল নয়। অন্যদিকে, দিল্লিতে মারাত্মক খারাপ ফলের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান।

এদিন আব্দুল মান্নান দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় ফলের পর কংগ্রেসের শীর্ষ এবং রাজ্য স্তরের নেতাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।  তিনি পরিষ্কার বলেন, কংগ্রেসের কিছু সুবিধাবাদী নেতা ক্রমাগত তৈলমর্দন করে চলেছেন গান্ধী পরিবার ও দিল্লির কিছু কংগ্রেস নেতাকে। যার ফলে, সক্রিয় কংগ্রেস নেতা ও কর্মীরা বস্তুত কাজের সুযোগই পাচ্ছেন না। এবং সর্বোপরি তাঁদের মধ্যে চূড়ান্ত হতাশা দেখা দিয়েছে। যার প্রমাণ, দিল্লি বিধানসভার এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রচার পর্বে কোনরকম ইস্যু তৈরী করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে হেরে এবারে কংগ্রেসের সামনে অস্তিত্ব সংকটের মতন পরিস্থিতি এসেছে। যেখানে 2015 সালে কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল 9.7 শতাংশ। এবারে তা কমে এসে দাঁড়িয়েছে 4.27 শতাংশে। এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল মান্নান বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আজ এমন কিছু নেতা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য পর্যায়ে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যাদের কোনও যোগ্যতাই নেই শুধু দিল্লির কোনও নেতাকেই যে কোন প্রকারে সন্তুষ্ট করতে পারলেই হল, তাহলে কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে যাবেন বিধানসভা/ লোকসভা/ রাজ্যসভায় মনোনয়ন পেয়ে যাবেন কিংবা এ, আই, সি, সি র পর্যবেক্ষক নিযুক্ত হয়ে কোনো না কোনো প্রদেশ কংগ্রেসে মাতব্বরি করার সুযোগ পান। কিছু না হলেও প্রদেশের কংগ্রেসের নেতা হয়ে যাবেন ।’

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

আব্দুল মান্নান এখানেই ক্ষান্ত দেননি। বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা আরো বলেন, ‘কি লোকসভা কি বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন রাজ্যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এই শোচনীয় ফলাফলের কারন বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশ্লেষনের আশু প্রয়োজন। দেশকে স্বাধীন করার জন্য এবং স্বাধীনতা উত্তর ভারতবর্ষকে আধুনিক উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে, দেশের গণতন্ত্র ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করতে অসংখ্য জাতীয় নেতা এবং লাখো লাখো কংগ্রেস কর্মী সহ নেহেরু-গান্ধী পরিবারের কয়েক প্রজন্ম যে ত্যাগ স্বীকার এমনকি আত্মবলি দান করেছেন তার কোনও নজির অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীর মধ্যে নেই। তাই এই পরিবারের নেতৃত্ব দেশ তথা জাতীয় কংগ্রেসের সম্পদ।’

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, দিল্লী বিধানসভা নির্বাচনে হারের ফলে কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান বস্তুতই হতাশার শিকার হয়েছেন। তিনি এদিন আরও বলেন, ‘এলাকায় কংগ্রেসের কেউ না চিনলেও বা এলাকায় কংগ্রেস না করলেও তাতে এইসব লোকের নেতা হতে কোনও অসুবিধা হয় ন। এজন্য তৃণমূল স্তরের প্রকৃত সক্রিয় কংগ্রেস নেতা ও কর্মীদের মধ্যে হতাশা আসে। ফলে কংগ্রেসের এইরকম শোচনীয় বিপর্যয় আসে।’ তবে এদিন সাধারণ কংগ্রেস কর্মীদের সমালোচনা করলেও আব্দুল মান্নান গান্ধী পরিবারের প্রতি তাঁর আস্থা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের দলের এত সম্পদ থাকা সত্বেও সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মনমোহন সিংহ, প্রিয়াংকা গান্ধীরর মত জনপ্রিয় নেতৃবৃন্দ থাকলেও ভুঁইফোঁড় কিছু আপদ তথাকথিত স্বঘোষিত নেতারাই দলের সর্বনাশ করছে ।’

উল্লেখ্য, দিল্লিতে মাত্র তিনটি আসনে কোনরকমে জামানত জব্দ করা আটকেছে কংগ্রেস প্রার্থীরা। প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এবারের নির্বাচনী প্রচারে কোন চমক দেখাতে পারেনি শতাব্দীপ্রাচীন দল কংগ্রেস বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে কংগ্রেসের পারিবারিক ঐতিহ্যকে সামনে এনে ভোটের প্রচার কিংবা বিজেপির সমালোচনায় আপের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ- দিল্লির বাসিন্দাদের মনে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করেনি। তবে একথা স্পষ্ট, এবারের দিল্লী বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে মূলত বিজেপি ও আপের মধ্যে। অন্যান্য দল সেখানে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপাতত দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে প্রদেশ কংগ্রেস নতুন করে রাজনীতির জমি শক্ত করতে পারেন কিনা, সেদিকে লক্ষ্য রাখবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!