এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > জটিল হচ্ছে রহস্য, কার ইশারায় বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন দেবশ্রী

জটিল হচ্ছে রহস্য, কার ইশারায় বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন দেবশ্রী

কিছুদিন আগেই দিল্লীতে তৃনমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা প্রিয় কানন তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তার বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। আর শোভনবাবু ও বৈশাখীদেবীর বিজেপিতে যোগদানের দিনই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। আর তারপর থেকেই সেই দেবশ্রী দেবীর অন্তরালে চলে যাওয়ার রহস্য নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা চলছে।

একাংশের প্রশ্ন, কার হাত ধরে সেদিন দিল্লিতে হাজির হয়েছিলেন দেবশ্রীদেবী? কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়েও তিনি কেন বিজেপিতে যোগ দিলেন না! তাহলে কী শেষমুহূর্তে বদল করা হল সিদ্ধান্ত? বর্তমানে এই বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও জানা গেছে, লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির বিজ্ঞাপনের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তির মারফত বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছিল বিধায়িকা দেবশ্রী রায়ের।

আর এরপরই দেবশ্রী রায়ের ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনার পর প্রাথমিকভাবে এটাও ঠিক হয় যে, ১৪ আগস্ট দিল্লিতে বিজেপিতে যোগ দেবেন এই তৃণমূল নেত্রী। বিজেপির অনেকের আশা ছিল, যে দেবশ্রী রায়কে দলে নিয়ে সেদিন চমক দেবে তারা। কিন্তু আশ্চর্য্যজনকভাবে দেবশ্রী রায়ের দিল্লি যাত্রার দিন সেই একই বিমানে ছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। সূত্রের খবর, সেখানেই দেবশ্রীদেবী তাঁকে জানান যে, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতেই দিল্লি যাচ্ছেন। তবে এই গোটা বিষয়টি শোনার পর কিছুটা বিস্মিত মুকুল রায় চুপ করে থাকেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

অন্যদিকে, দেবশ্রী রায়ের বিষয়টি জেনে অবাক হয়ে যান বিজেপির শমীক ভট্টাচার্যও। কেননা এর আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে তাঁর সঙ্গে দেবশ্রী রায়ের কথা হয়েছিল বলে খবর। কিন্তু দেবশ্রীদেবী যোগ দেবেন বলে চূড়ান্ত করেছেন, তা তিনিও জানতেন না। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিকভাবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেবশ্রী রায়ের দ্বন্দ্বের বিষয়টি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়।

তবে শেষপর্যন্ত সেদিন শোভন-বৈশাখী বিজেপিতে যোগ দিলেও দেবশ্রীদেবী যোগ দেননি। তবে দেবশ্রী রায় অন্তরালে থাকলেও তার বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা থামেনি। দলীয় সূত্রের খবর, বিজেপি নেতৃত্ব শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বুঝিয়ে দিয়েছে যে রাজ্যে তৃণমূলকে ভাঙাই এখন মূল লক্ষ্য। তাই দেবশ্রী রায়কে দলে নেওয়া হলে সেই কাজ আরও কিছুটা এগোবে। গোটা বিষয়টি নিয়ে বরফ সামান্য গলেছে বলেও খবর।

বিজেপির তরফে জানা গেছে, দেবশ্রী রায়কে ফের জিতিয়ে আনার জন্য শোভনবাবুর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে যখন দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়, তখন শোভন চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, একজন কর্মী হিসাবে এর জন্য তিনি যা করার, সবই করবেন। তবে এই প্রসঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দেবশ্রী-শোভনবাবুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী। দেবশ্রী বিজেপিতে যোগ দিতেই পারেন।”

কিন্তু এতে কি শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর পথ আলাদা হয়ে যাবে? সূত্রের খবর, এই বিষয় নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে না চাইলেও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সময়ই বলবে।” সব মিলিয়ে দেবশ্রী রায় বিজেপি দপ্তর থেকে ঘুরে গেলেও বিজেপিতে যোগ না দেওয়ায় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।

Top
error: Content is protected !!