এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দীর্ঘ বিরতির পর আজ শুরু ডিএ মামলা, কি হতে চলেছে ভবিতব্য? আশায় সরকারি কর্মীরা

দীর্ঘ বিরতির পর আজ শুরু ডিএ মামলা, কি হতে চলেছে ভবিতব্য? আশায় সরকারি কর্মীরা

আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রাজ্যের সরকারি কর্মীরা বড় জয় ছিনিয়ে আনেন মাস খানেক আগে। এক ঐতিহাসিক রায়ে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের হকের পাওনা – রাজ্য সরকারের দয়ার দান নয়। কিন্তু, সেই ডিএর হার কি হবে বা তা বছরে কতবার করে রাজ্য সরকার দেবে – সেই সংক্রান্ত বিষয়ে ফয়সালা করার জন্য কলকাতা হাইকোর্ট স্টেট অ্যা ডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যাল বা স্যাটকে নির্দেশ দেয়।

আদালতে অন্যতম মামলাকারী কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ীজ সেই নির্দেশানুসারে স্যাটে আবেদন করলে সেই আবেদন গৃহীত হয়। এরপরের স্যাটের বিচারপতিরা রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয় এই সংক্রান্ত হলফনামা জমা দিতে এবং মামলাকারীদের নির্দেশ দেয় তার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা হলফনামা জমা দিতে। কিন্তু, নির্দিষ্ট দিনে রাজ্য সরকারের তরফে কোনো হলফনামা জমা পরে নি। ফলে, বিনা হলফনামাতেই মামলার শুনানি শুরু হয়।

সেই শুনানিতে রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা জানান, এই সংক্রান্ত হলফনামা জমা দিতে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী নাকি খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাঁদের যেন অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্যাটের আইনজীবীরা জানিয়ে দেন, তাঁদের পক্ষে আর অতিরিক্ত সময় দেওয়া সম্ভব নয় – তাঁদের যদি সত্যিই অতিরিক্ত সময়ের দরকার হয় তাহলে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্ত হতে পারেন। আর এরপরেই পূজার ছুটির জন্য বন্ধ হয়ে যায় স্যাটের কার্যাবলী। আজ সেই মামলার পুনরায় শুনানি শুরু হতে চলেছে। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার কোন খবর পাওয়া যায় নি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এই বিষয়ে মামলাকারীরা অত্যন্ত আশাবাদী যে এবার ডিএর হার বা তা বছরে কবার করে দেওয়া হবে তা নিয়ে একটা সুরাহা হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটে আটকে থাকা এই ডিএ মামলা এবার আইনের গেরো থেকে মুক্ত হয়ে দিনের আলো দেখবে। ফলে আশায় বুক বাঁধছেন সরকারি কর্মচারীরা। কিন্তু সত্যিই কি তাই? আমরা এই নিয়ে বিভিন্ন আইনজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করি। তাঁদের বক্তব্য, আইনি পরিভাষায় এই মামলা এত তাড়াতাড়ি মুক্ত হতে চলেছে – একথা ভাবলে ভুল ভাবা হবে।

কিন্তু কেন এমন ভাবনা? আইনজ্ঞদের মতে, রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা যে কথা বলছেন যে পুরোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না, তার মধ্যে একটা ‘লজিক’ আছে। কেননা, রাজ্য সরকারি তথ্য আগে কাগজে সংরক্ষিত হত – ‘ডিজিটাল’ ভাবে নয়। সুতরাং সেই পুরোনো ফাইল ঘেঁটে তথ্য বের করে হলফনামা তৈরী করতে সময় লাগতেই পারে। আর এই যুক্তিতে যদি রাজ্য সরকার আদালতে যায়, মনে হয় না আদালত বলবে – আর সময় দেওয়া যাবে না! আর আদালত যদি হলফনামার জন্য অতিরিক্ত সময় দেয়, সেক্ষেত্রে স্যাট তা মানবে না – এমন হতে পারে না। সেক্ষত্রে, প্রবল সম্ভাবনা এই মামলার শুনানি পিছিয়ে যাবে।

এছাড়াও তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ডিএ মামলার রায়ে কলকাতা হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ আছে – হলফনামা ও পাল্টা হলফনামার ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি সম্পন্ন করতে হবে। সেক্ষত্রে যদি হলফনামায় পেশ না হয়, তাহলে সেই মামলা আইনের ভাষায় কতখানি ‘গ্রহণযোগ্য’ সেই প্রশ্ন তুলে পরবর্তীকালে কেউ উচ্চতর আদালতে চলে যেতে পারে। আর সেক্ষত্রে কিন্তু আবার বিশ বাঁও জলে চলে যেতে পারে এই মামলার রায়। আর তাই, তাঁদের পরামর্শ – এই মামলায় আরেকটু ধৈর্য্যশীল হয়ে মামলাকারীদের হলফনামার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

এই প্রসঙ্গে আমরা সরকারি কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশিস শীলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমাদের সংগঠনও এই একই বিষয়ে একটি মামলা করেছে যা বর্তমানে স্যাটে বিচারাধীন এবং আগামী ২২ শে নভেম্বর সেই মামলার শুনানি আছে। তবে এই ডিএ মামলা তো আসলে বৃহত্তর কর্মচারী স্বার্থে – তাই কে করলেন বা কার হাত ধরে তা অর্জিত হল তা গৌণ। মূল লক্ষ্য হল, সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে তাঁদের হকের পাওনা তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া। আজ যদি এই মামলার শুনানিতে সব ফয়সালা হয়ে যায় এবং তা সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সদ্রথ হয়, আমার থেকে বেশি খুশি কেউ হবে না। কিন্তু, আমার অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, যেহেতু মামলার বিষয়টি এক – তাই স্যাটের আইনজীবীরা সব মামলার শুনানি শেষ করে একত্রেই রায় দেবেন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!