এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ‘চুল্লুর’ খোঁচায় নাজেহাল রাজ্য সরকারের কাছে ‘ডেডলাইন’ ২০ নভেম্বর – জানুন ডিএ মামলার বিস্তারিত

‘চুল্লুর’ খোঁচায় নাজেহাল রাজ্য সরকারের কাছে ‘ডেডলাইন’ ২০ নভেম্বর – জানুন ডিএ মামলার বিস্তারিত

কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাওয়া যাবে কিনা অথবা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মত বছরে দুবার রাজ্য সরকার ডিএ দেবে কিনা সেই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশিকায় গতকাল থেকে স্টেট এডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনেল বা স্যাটে যে মামলার শুনানি শুরু হয়েছে তার দিকেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছেন। দুপুর আড়াইটায় শুরু বিকেল ৪:৪০ পর্যন্ত চলে দীর্ঘ শুনানি। আর সেই শুনানির শেষে অন্যতম মামলাকারী কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ীজ-এর অন্যতম শীর্ষনেতা সুবীর সাহার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। তিনি, আজকের শুনানি নিয়ে যা বললেন তা হল –

প্রথমেই আইনজীবী ফিরদৌস শামীমের সওয়াল করা নিয়ে বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার – কিন্তু, স্যাটের বিচারপতিরা রাজ্য সরকারি আইনজীবীদের সেই দাবিকে মান্যতা দেন নি। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যে আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলা লড়েছেন তাঁরা এখানেও লড়তে পারবেন। কেননা কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা ডিএর হার বা তা বছরে কবর করে দেওয়া হবে সেই সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়ায় আছি। সুতরাং, আমি ওনাদের সওয়াল না করতে দিতে পারি না। ফলে, রাজ্য সরকারি আইনজীবীরা পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন – সওয়াল করেন ফিরদৌস শামীম।

কনফেডারেশনের আইনজীবী সর্দার আমজাদ আলি মামলার বিচার্য বিষয় স্পষ্ট করে দেন – এরপর নিজের সওয়ালে কনফেডারেশনের আইনজীবী আমজাদ সাহেব স্পষ্ট করে দেন, কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখানে দুটি বিচার্য বিষয়। এক – ডিএ কি হারে হবে? এবং দুই, দিল্লি বা চেন্নাইতে কর্মরত এখানকারই রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় হারে অর্থাৎ সিপিআই অনুযায়ী ডিএ পায়, অথচ রাজ্যে কর্মরত কর্মীরা পান না – সেটা যথাযথ কিনা।

প্রথম পয়েন্টে আমজাদ সাহেবের যুক্তি – ২০০৯ সালের রোপাতে বিভিন্ন সংগঠনের ‘প্রপোসালের’ ভিত্তিতে পে কমিশন যে ‘রেকমেন্ডেশন’ করে, তাতে স্পষ্ট ভাবে বলে দেওয়া আছে – রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা অল ইন্ডিয়া প্রাইসিং ইনডেক্স অনুযায়ী ডিএ পাবেন এবং বছরে দুবার করে পাবেন। রাজ্য সরকার তা ‘একসেপ্ট’ করে এবং সংবিধানের ৩০৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী তার ‘গেজেট’ বেরিয়েছে। যখন কোন রাজ্য সরকার সংবিধানের ৩০৯ ধারা অনুযায়ী কোন আইন বের করে – তখন তা সাংবিধানিক অধিকার হয়ে যায়। সুতরাং ডিএ সংক্রান্ত এই আইন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে এসে গেছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

বিচারপতিদের পাল্টা প্রশ্ন – বিচারপতিরা এই প্রসঙ্গে জানতে চান সেই গেজেট নোটিফিকেশনে কি ডিএর কথা বলা হয়েছে নাকি ‘পে-ব্যান্ডের’ কথা বলা হয়েছে। আমজাদ সাহেব সুনিশ্চিত করেন এই সংক্রান্ত গেজেটে ডিএর কথায় বলা আছে। ফলে, বিচারপতিদের দেখে মনে হয় তাঁরা সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট।

বিষয় সুপ্রিম কোর্ট ও পে কমিশন – আমজাদ সাহেব আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের যে সাংবিধানিক বেঞ্চ হয়েছিল এর আগে, তাতে স্পষ্ট বলা আছে কোন সরকার যদি পে-কমিশনকে ‘একসেপ্ট’ করে নেয় তাহলে পে কমিশনের সেই ‘রেকোমেন্ডেশনকে ইমপ্লিমেন্ট’ করতে বাধ্য থাকবে রাজ্য সরকার। ফলে পে কমিশনে নির্দিষ্ট সুযোগ সুবিধা যেহেতু রাজ্য সরকার মেনে নিয়েছে – তা দিতে রাজ্য সরকার বাধ্য।

বিষয় দিল্লি ও চেন্নাইয়ের কর্মীদের ডিএ – আমজাদ সাহেব বলেন, দিল্লি বা চেন্নাইতে কর্মরত রাজ্যের সরকারি কর্মীদের সর্বদাই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া হয় এবং সম্প্রতি আবারো সেপ্টেম্বর মাসে তাঁদের তা দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকার হাইকোর্টে জানিয়েছে যেহেতু ওই কর্মীদের ‘বাইরে’ থাকতে হয়, সেখানে খরচ বেশি তাই তাঁদের কেন্দ্রীয় হরে ডিএ দেওয়া হয়। কিন্তু এই সংক্রান্ত কোনো নথি রাজ্য সরকার জমা দেয় নি। এই যুক্তি অনুযায়ী তো কাল রাজ্য সরকার বলতে পারে কলকাতায় বা নবান্নে যে কর্মী চাকরি করে তাঁর খরচ বেশি, আর পুরুলিয়ায় যিনি চাকরি করেন তাঁর খরচ কম, তাই এখানেও ডিএর পার্থক্য হবে! তা কি হতে পারে?

সিপিআই অনুযায়ী সর্বত্র ডিএর হার এক – উদাহরণ তুলে আমজাদ সাহেব বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার তো দিল্লিই হোক বা বাংলা তার সমস্ত কর্মচারীকে সিপিআই মেনেই ডিএ দেয়, সমগ্র ভারতবর্ষে ডিএর হার সর্বত্র এক। এই রাজ্য বা ওই রাজ্য এরকম কোনো ব্যাপার নেই, শহর বা গ্রাম বলে কোন ব্যাপার নেই, এখানকার খরচ বেশি বা ওখানকার খরচ কম – ডিএর ক্ষেত্রে এরকম কোনো ব্যাপার নেই! তা যদি হয় তাহলে তা সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারাকে লঙ্ঘন করে।

সরকারি আইনজীবীর যুক্তি – রাজ্য সরকারের আইনজীবী অপূর্বলাল চৌধুরী বলেন, রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দাবি করতে পারেন না। কেননা, কেন্দ্রীয় সরকারের ও রাজ্য সরকারের ‘রিক্রুটমেন্ট রুল’ ও ‘সার্ভিস কন্ডিশন’ পৃথক। তাই সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

বিচারপতিদের পাল্টা প্রশ্নবাণ – এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতিদের পাল্টা প্রশ্ন, নবান্নের একজন কর্মী ও জেলার একজন কর্মী, দুজনেরই নিয়োগ পদ্ধতি বা কাজের ধরন আলাদা। তাহলে কি এই দুই কর্মীদের মধ্যেও ডিএ ভিন্ন ভিন্ন হারে হবে? সরকারি আইনজীবী নিরুত্তর থেকে যান। বিচারপতিরা এই সংক্রান্ত নথি দেখতে চাইলে, তাও দিতে পারেন না সরকারি আইনজীবী।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

ডিএ বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন হারে দেওয়া হয় – এরপরেই সরকারি আইনজীবী দাবি করে বসেন ডিএর হার বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম হয়। তাঁর এই সওয়াল শুনে হাসির রোল ওঠে গোটা কক্ষে – কেননা ডিএর সমগ্র দেশেই এক! দমে না গিয়ে সরকারি আইনজীবী ত্রিপুরার প্রসঙ্গ তোলেন। তখন মামলাকারীদের আইনজীবীরা স্পষ্ট করেন, কোনও রাজ্য কেন্দ্রীয় হার মানতে পারেন বা নাও মানতে পারেন – কিন্তু, তার মানে ডিএর হার আলাদা। তা গোটাদেশের ক্ষেত্রেই এক!

সরকারের টাকা নেই – এই বার সরকারি আইনজীবী জানান, সরকারের ‘রিসোর্স’ নিয়ে ‘লিমিটেশন’ আছে – তাই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়!

চুল্লুর চরম খোঁচা – সরকারি আইনজীবীর এহেন মন্তব্য শুনে, আমজাদ সাহেব বলেন, সরকারের যদি আর্থিক অসুবিধায় থাকে তাহলে ইমামভাতা দেওয়া হয় কিভাবে? এই প্রসঙ্গ উঠতেই বাধা দেন সরকারি আইনজীবী। তিনি জানান, এই প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনার কথা হাইকোর্ট বলে দেয় নি, তাই এই প্রসঙ্গ উত্থাপিত হতে পারে না। আমজাদ সাহেব পাল্টা দেন, সরকারি আইনজীবীই তো ‘আর্থিক দুরাবস্থার’ কথা তুললেন – তাহলে আমি কেন তার পাল্টা ব্যাখ্যা দেব না? সারারাত কীর্তন করলে দুহাজার টাকা, ক্লাবকে দুর্গাপূজার জন্য ১০ হাজার টাকা, সরকার গ্রামে গ্রামে ‘চুল্লুর’ দোকান খুলবে আর সেই ‘চুল্লু’ খেয়ে কেউ মারা গেলে ২ লক্ষ টাকা – এই সবের বেলায় সরকার আর্থিক অবস্থা আছে। শুধুমাত্র, সরকারের নিজের কর্মচারীরা – যাঁরা, তাঁদের শ্রমের বিনিময়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের দেবার জন্য সরকারের টাকা নেই!

সরকারি আইনজীবীর শেষ মরিয়া চেষ্টা – সরকারি আইনজীবী বলেন, দিল্লি বা চেন্নাইতে কর্মীদের নিজের পরিবার-পরিজন ছেড়ে থাকতে হয়, তাই কেউ যেতে চান না। আর তাই, তাঁদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া হয়।

বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন – স্যাটের বিচারপতি বলেন, বাইরে কাজ করতে গেলে ডিএ কেন ভিন্ন হবে? তার জন্য আলাদা কোনো ‘আউট স্টেশন আলাউন্স’ দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ভিন্ন হারে ডিএ কেন? আপনি এই যে দাবি করছেন, এই সংক্রান্ত সরকারি নথি আপনি কি দিতে পারবেন? সরকারি আইনজীবী বলেন, এই সংক্রান্ত নথি তিনি জমা দিতে পারবেন।

শেষ কথা – আজ যেহেতু নিজেদের দাবির স্বপক্ষে সরকারি আইনজীবী কোনো নথি দিতে পারেননি, তাই আগামী ২০ শে নভেম্বর সেই নথি জমা দিতে বলা হয় তাঁদের। সরকারি আইনজীবী এর জন্য ২৮ তারিখ পর্যন্ত সময় চাইলে, তা নাকচ হয়ে যায়। অপরদিকে, মামলাকারীদের মামলা সংক্রান্ত দুটি রায়ের কপি ওই ২০ তারিখের মধ্যেই জমা দিতে বলা হয়। ২o তারিখের মধ্যে যদি কোন পক্ষ কোন নথি জমা দিতে না পারে – তাহলে পরবর্তী ক্ষেত্রে তা আর গৃহীত হবে না। সব থেকে বড় কথা, এই সংক্রান্ত শুনানি শেষ – ২০ তারিখ নথি জমা দিলেই, স্যাট ১১ ই ডিসেম্বরের মধ্যে নিজেদের রায় জানিয়ে দেবে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!