এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কাঠমানিতে অভিযুক্ত নেতা নয়, প্রার্থী নিয়ে নয়া অসন্তোষ তৃণমূলের অন্দরে!

কাঠমানিতে অভিযুক্ত নেতা নয়, প্রার্থী নিয়ে নয়া অসন্তোষ তৃণমূলের অন্দরে!

Priyo Bandhu Media

গত লোকসভা নির্বাচনে অনেক আসনেই তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত হতে হয়েছিল দলের নিচুতলার নেতাকর্মীদের দুর্নীতির জন্য। আর লোকসভার ফলাফল পর্যালোচনা করতে গিয়ে এই বিষয়টি উঠে আসার পরেই তৃণমূল নেতৃত্ব এই ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করে। কোনোভাবেই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা যাবে না বলে জানিয়ে দেয় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এমনকি প্রশান্ত কিশোরের টিমকে দিয়ে সার্ভে করে কোথায় কোন নেতা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তার খোঁজখবর নিতেও শুরু করে ঘাসফুল শিবিরের উচুতলার নেতারা।

যার ফলে অনেকেই আশা করেছিলেন, এবার পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকা মুখকে প্রার্থী করা হবে না। এখনও পর্যন্ত কোনো প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়নি। তবে তার আগে যাতে কোনো দুর্নীতিযুক্ত মুখকে প্রার্থী করা না হয়, তার জন্য দলের কাছে সওয়াল করতে শুরু করল তৃণমূলের একাংশ। সূত্রের খবর, দুদিন আগেই মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আর সেখানেই দলের একাংশ জেলা নেতৃত্বের কাছে দাবি জানায় যে, বিগত দিনে যে সমস্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে, তাদের যেন আর প্রার্থী করা না হয়। তবে দলের একাংশ দুর্নীতি নিয়ে জেলা নেতৃত্বের কাছে এরূপ কথা বললেও, যদি তা সত্যি হয়, তাহলে তৃণমূলের অনেক বর্তমান কাউন্সিলর এবার টিকিট পাবেন না বলেই মনে করছে অনেকে। কেননা বিগত দিনে মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গীপুর, ধুলিয়ান, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদ পৌরসভার অনেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং দলের কাছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে।

তাই দল যদি সত্যিই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে এই সমস্ত পৌরসভার কাউন্সিলরদের অনেকেই টিকিট পাবেন না বলে দাবী তৃণমূলের একাংশের। তবে অনেকে আবার বলছেন, তৃণমূলে অনেক গোষ্ঠী রয়েছে। তাই সেদিক থেকে অনেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করে তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীরা তার টিকিট পাওয়া বন্ধ করতে চাইছেন। ফলে দল যদি সঠিকভাবে খোঁজখবর না নেয়, তাহলে এই ব্যাপারটি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে জঙ্গিপুর, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ এবং জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পৌরসভার বেশ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলর এবার টিকিট পাবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। কেননা অতীতে তাদের বিরুদ্ধে ঘর দেওয়ার নাম করে অনেক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

শুধু তাই নয়, অনেক দলবিরোধী কাজের সঙ্গেও এই সমস্ত পৌরসভার অনেক তৃণমূল কাউন্সিলরদের নাম জড়িয়ে পড়েছে। তাই সেই সমস্ত ব্যক্তিত্বকে টিকিট দিয়ে নিজেদের দোষের ভাগিদার করতে চাইছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। অন্যদিকে জেলায় তৃণমূলের এক প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং এক বর্তমান চেয়ারম্যানকে যাতে টিকিট দেওয়া না হয়, তার জন্য দাবি তুলেছে তৃণমূলের আরেক গোষ্ঠী। তবে শেষ পর্যন্ত এই ব্যাপারে তৃণমূল নেতৃত্ব কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। কেননা এবার তৃণমূলের টার্গেট পৌরসভা নির্বাচনে ভালো ফল করা।

সেদিক থেকে প্রশান্ত কিশোরের টিমকে দিয়ে তৃণমূলের বর্তমান কাউন্সিলরদের জনমত যাচাই করে নিতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। তবে দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকা ব্যাক্তিদের তৃণমূল যদি আবার প্রার্থী করে, তাহলে তাদের বড় বেকায়দায় পড়তে হবে বলেই দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এদিন এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল বলেন, “দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কোনো কাউন্সিলরকে পৌরসভা ভোটের টিকিট দেওয়া হবে না। যারা মানুষের পাশে থেকেছেন বা এলাকার উন্নয়ন নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন, তাদেরকেই প্রার্থী করার জন্য বলা হয়েছে। অনেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে, সেগুলো তদন্ত করে দেখার পরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব অভিযোগ সব সময় সত্য হয় না।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে জঙ্গিপুরের তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, “কিছু কাউন্সিলার নিজেদের এই কয়েক বছরে অনেক বড় মাপের নেতা বলে ভাবতে শুরু করেছিলেন। তারা দলের নেতাদের গুরুত্ব দিতেন না। তাছাড়া অনেক অনিয়মের সঙ্গে তাদের নাম জড়িয়েছিল। এলাকায় তাদের ভাবমূর্তি খারাপ হয়ে গিয়েছে। তাদের টিকিট না দেওয়ার জন্য দলকে জানিয়েছি।” তবে এই ব্যাপারে কি বলছেন মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান!

এদিন এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখনও প্রার্থী তালিকা ঠিক হয়নি। তবে সংগঠনের কাজ চলছে। সব কিছু বিচার বিবেচনা করে টিকিট দেওয়া হবে। বুথে বুথে বৈঠক চলছে।” তবে জেলা তৃণমূল সভাপতির এই কথা যদি সত্যি হয়, যদি সত্যিই বিচার-বিবেচনা করে টিকিট দেওয়া হয়, তাহলে দুর্নীতিযুক্ত মুখেরা বাদ করবে বলেই মনে করছেন একাংশ। আর যদি সেক্ষেত্রে দুর্নীতির ছোঁয়া তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় থাকে, তাহলে একদিকে গোষ্ঠী কোন্দল, অপরদিকে এই ঘটনায় চরম বেকায়দায় পড়তে হবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!