এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কাটমানির অভিযোগ নিয়ে জনগণকে নয়া নিদান দিলেন মন্ত্রী, জেনে নিন কি

কাটমানির অভিযোগ নিয়ে জনগণকে নয়া নিদান দিলেন মন্ত্রী, জেনে নিন কি

লোকসভা ভোটে তৃনমূলের বিপর্যয়ের পরই দলকে শৃংখলায় বাধতে কাটমানি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এরপরই দিকে দিকে তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। যাকে ঘিরে প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দল।

বিরোধীদের দাবি, আসলে তৃণমূলের উপরতলা থেকে নিচতলা পর্যন্ত দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। আর তাইতো তাদের নেতাকর্মীরাও কাটমানিতে অভিযুক্ত বলে সাধারণ মানুষ তাদের বাড়িতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। আর এই পরিস্থিতিতে এবার কাটমানি নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তাকে আইনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, সোমবার রাজ্য বিধানসভায় নিজের দপ্তরের বাজেট পেশ করেন সুব্রত বাবু। যে বাজেটের প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় কংগ্রেসের বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায়, অসিত মিত্রকে, সিপিএমের সুজিত চক্রবর্তী, আনিসুর রহমানকে এবং তৃণমূলের বঙ্কিম হাজরা, নার্গিস বেগম, নির্মলচন্দ্র মন্ডল, রহিমা মন্ডল, শীতল সর্দার এবং শওকত মোল্লার মত বিধায়কদের।

জানা যায়, এই বাজেট নিয়ে আলোচনাতেই বারবার পঞ্চায়েত দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে শাসকদলের বিরুদ্ধে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলের বিধায়করা। পঞ্চায়েত মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র বলেন, “আপনি বা আপনার দপ্তরের উদ্যোগ থাকলেও নীচুতলায় দুর্নীতিতে ভরে গেছে। শৌচালয় তৈরি না হলেও পেমেন্ট হয়ে গিয়েছে।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

পাশাপাশি বহরমপুর ব্লক ভেঙে সেটাকে দুটো ব্লক করার দাবিও জানান কংগ্রেস বিধায়ক। আর এরপরই কংগ্রেস বিধায়কের বহরমপুরকে দুটি ব্লক করার প্রস্তাবে সায় দিতে দেখা যায় পঞ্চায়েত মন্ত্রীকে। তিনি বলেন, “কেউ বলতে পারবে না যে গ্রাম বাংলায় উন্নতি হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন, উন্নয়ন যেন শুধু শহরকেন্দ্রিক না হয়। আমরা সেদিকে নজর দিয়েই কাজ করেছি। যে কাজ আমাদের সরকার করেছে, তাতে গ্রাম বাংলার উন্নয়ন আজ ইতিহাস। আমরা চাই আর্থিক সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে। কেন্দ্রীয় সরকার সব প্রকল্পে অনুদানের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তা সত্বেও রাজ্য অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে এগোচ্ছে।”

আর এরপরই এদিনের বিধানসভার অধিবেশনে রাজ্যে কাটমানি নিয়ে যে বিক্ষোভ প্রদর্শন হচ্ছে, তার ব্যাপারে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার প্রবীণ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমার সৌভাগ্য 1973 সালে এই পঞ্চায়েত আইন আমি করেছিলাম। আজ সেই দপ্তর চালাচ্ছি। কোনো ত্রুটি নেই তা আমি বলছি না। ত্রুটি, দুর্নীতির অভিযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু যে কেউ ফোন করে বা লিখিতভাবে সেই অভিযোগ জানান। কাটমানি নিয়ে বাড়িতে বিক্ষোভ দেখিয়ে সিপিএম রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। ওরা চায় না যে দোষী ব্যক্তির সাজা হোক। আইনের পথে গিয়েই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাটমানি নিয়ে হুঁশিয়ারি পরেই সব থেকে বেশি তৃণমূলের নেতা, বিধায়কদের কাছ থেকে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। আর তাই এর ফলে তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বেড়েছে। আর তাই এবার পরিস্থিতিকে আঁচ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন না করে সকলকে আইনের দ্বারস্থ হওয়ার নিদান দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। যাতে সাপও মড়ল, আবার লাঠিও ভাঙল না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!