এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সভাধিপতির “নির্দেশে” কোটি টাকার অর্ডার পেয়ে “আতান্তরে” বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী!

সভাধিপতির “নির্দেশে” কোটি টাকার অর্ডার পেয়ে “আতান্তরে” বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী!

সর্বশিক্ষা মিশনের অন্তর্গত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পোশাক সরবরাহের নোটিশ কয়েকদিন আগেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার স্কুলগুলিতে পৌঁছে গেছে। প্রতিটি ছাত্র ছাত্রীর প্রতি দুই সেট পোশাক সরবরাহের জন্য 600 টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। আর এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাসের এক কলমের খোঁচায় প্রায় কোটি টাকার স্কুল ইউনিফর্ম সরবরাহের দায়িত্ব পেয়ে গেল পূর্ব মেদিনীপুরের 25 টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। জেলায় প্রায় 40 হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মধ্যে কী করে 25 টি ব্লকে ব্লকে মাত্র 25 টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী এই দায়িত্ব পেল, তা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

শুধু তাই নয়, দশ জন সদস্যকে দিয়ে কি করে প্রায় এক কোটি টাকা ইউনিফর্ম সাপলাই দেবে স্বনির্ভর দলগুলি, সেটাও প্রশ্নের বিষয়। বস্তুত, এত ব্যাপক পরিমাণ পোশাক সরবরাহ করার দায়িত্ব দশজনকে দিয়ে কি করে পালন করা সম্ভব হবে! এই ব্যাপারে ধন্ধে পড়ে গেছে খোদ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দলনেত্রীরা। তাই নিজেদের বুদ্ধিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে এবার নেতাদের কাছ থেকে পরামর্শ ধার চাইতে তাদের দরজায় এসে উপস্থিত হয়ে গেছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর লিডাররা।

জানা গেছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় 45 টি সার্কেলের অন্তর্গত 4250 টি স্কুলে 3 লক্ষ 95 হাজার 628 জন পড়ুয়ারা দুটি করে ইউনিফর্ম সরবরাহ করার জন্য মোট 23 কোটি 73 লক্ষ 76 হাজার 800 টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মাথাপিছু 600 টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত 14 আগস্ট জেলাশাসক পার্থ ঘোষ এই ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করেছেন। স্কুলগুলি নথিভূক্ত এবং উপযুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাছ থেকেই ইউনিফর্ম কিনতে পারবে বলে জেলাশাসক নির্দেশিকা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন। আর তাই গত 22 আগস্ট জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি তথ্য সমিতির কর্মাধক্ষ মধুরিমা মন্ডলের স্বাক্ষর করা একটি তালিকা স্কুলে স্কুলে পৌছে যায়। তাতে স্পষ্ট বলা হয়, 25 টি ব্লকের জন্য 25 টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

সংশ্লিষ্ট ব্লকের অন্তর্গত সবকটি স্কুলে জেলা পরিষদের ঠিক করে দেওয়া স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাছ থেকেই ইউনফর্ম কিনতে হবে। কিন্তু জেলা পরিষদের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ। এমনকি এই ধরনের নির্দেশিকা দেওয়ার জেলা পরিষদের আছে কিনা, তাই নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দায়িত্ব সরিয়ে জেলাপরিষদ নিজেদের হাতে দায়িত্ব তুলে নিয়েছে বলেও একাধিক সংগঠন দাবি করেছে।

এছাড়াও গত কুড়ি ফেব্রুয়ারী সর্বশিক্ষা অভিযানের স্টেট প্রজেক্ট ডিরেকটর প্রতিটি জেলায় একটি করে নির্দেশিকা পাঠান। যে নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে পোশাক সরবরাহের গাইডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। স্কুল স্তরে স্বনির্ভর গোষ্ঠী নিযুক্ত করে ইউনিফর্ম সাপ্লাই করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। এমতাবস্থায় পূর্ব মেদিনীপুরে ইউনিফরম সরবরাহ করার ব্যাপারে জেলা পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপে অসন্তুষ্টি ছড়িয়েছে শিক্ষকদের একাংশের মনে।

পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক সতীশ সাউ বলেন, “জেলা পরিষদ এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছে। আমরা এই ইস্যুতে 30 শে আগস্ট জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছি।” এদিন এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলার সাধারণ সম্পাদক অরূপকুমার ভৌমিক বলেন, “জেলা পরিষদ গা-জোয়ারি কি করে নিজেদের অনুগত কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে বিপুল পরিমাণে টাকার কাজ পাইয়ে দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে।”

যদিও গোষ্ঠীর বক্তব্য, একটি গোষ্ঠীতে মাত্র 10 জন করে সদস্য থাকে। ফলে এই লোকবল দিয়ে ঠিক কিভাবে কোটি কোটি টাকার পোশাক সরবরাহ করা সম্ভব! ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে কয়েকজন টিম লিডার সরাসরি নেতাদের বাড়িতে গিয়ে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট পরামর্শ চাইছেন। যদিও এই বিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি জানান, আমরা স্বনির্ভর দলগুলিকে গাইড করব। ওরা বিভিন্ন জায়গা থেকে পোশাক কিনবে। গুণগতমান যাচাই করার দায়িত্ব আমাদের। এরফলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। এর আগে ইউনিফর্ম সরবরাহ নিয়ে অনেক সমস্যা হয়েছে। তাই আমরা গাইড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু পোশাক সরবরাহ করার বিষয়ে স্কুলগুলির উপর জেলা পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপে শিক্ষক সমাজের মধ্যে যে অসন্তোষ ছড়িয়ে, তা রীতিমতো চিন্তাজনক মনে করছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এখন সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়! সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!