এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সিপিএমের সভায় বক্তা হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা, জোর গুঞ্জন রাজ্যে!

সিপিএমের সভায় বক্তা হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা, জোর গুঞ্জন রাজ্যে!

 

নিজের জীবদ্দশায় তৃণমূলকে কখনও এমন দিন দেখতে হবে, তা আঁচ করতে পারেনি কেউই। কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিরোধী ইস্যুতে বাংলায় যে ঘটনাটি ঘটে গেল, তা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। 2011 সালের আগে বাম বিরোধিতার মধ্যে দিয়েই নিজেদের ক্ষমতার পথ প্রশস্ত করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বর্তমান সময়ে বাংলার মাটিতে বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হলেও প্রথম থেকেই বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে সেদিক থেকে তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের সমঝোতা হতে পারে, তা বিশ্বাস করতে নারাজ কেউই।কিন্তু এবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিরোধী ইস্যুতে বিরোধিতা করতে গিয়ে রীতিমতো সিপিএমের সভায় বক্তব্য রাখতে দেখা গেল কোতুলপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রবীর গড়াইকে।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার এই তৃণমূল নেতার বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায়। হঠাৎ সিপিএমের মঞ্চে কেন বক্তব্য রাখলেন হেভিওয়েট নেতা! তা নিয়ে মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে শুরু করেন অনেকেই। শুধু তাই নয়, সিপিএমের এই সভায় নাগরিকত্ব সংশোধনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে গিয়ে “লালকে কেন ভয়!” বলে গান গাইতেও দেখা যায় ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রবীর গড়াইকে।

কিন্তু তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া গেল, তৃণমূল এবং বামেরা বিজেপির বিরুদ্ধে। কিন্তু সেদিক থেকে কোনো দল তো কোনো দলের সঙ্গে জোটের কথা ঘোষণা করেনি। তাহলে কেন তৃণমূলের নেতা সিপিএমের মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখলেন! এতে কি দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ হল না! অস্বস্তিতে কি পড়ল না তৃণমূল কংগ্রেস!

এদিন এই প্রসঙ্গে কোতুলপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রবীর গড়াই বলেন, “লাল আমাদের সব থেকে প্রিয় রং। শরীরের ভেতরের রং কি সবুজ হতে পারে! সঠিক কমিউনিষ্ট তত্ত্বে বিশ্বাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যাদের নেই, যারা রাজনীতিকে ব্যবসায় পরিণত করেছেন, তারাই আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করবেন। সিপিএমের সভায় গেলে তৃণমূলের জাত যাবে কে বলেছে! এনআরসি নিয়ে আমাদের মত সিপিএমও বিরোধিতা করছে!”

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

আর এখানে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলেছেন, হায়রে অদৃষ্ট! যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারাটা জীবন ধরে বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেলেন, এখন সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এক নেতা বলছেন, সিপিএমের সভায় গেলে জাত যাবে নাকি! না, নিশ্চিত করেই সিপিএমের সভায় গেলে জাত যাবে না। কিন্তু আদর্শ তো বিচ্যুত হবে! বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, শাসক দলে থাকা সত্ত্বেও যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরোধিতা করছে, তাতে কেন এই তৃণমূল নেতা সিপিএমের সভা থেকে নাগরিকত্বের বিরোধিতা করতে গেলেন! নিজের দল থেকে কেন তিনি বিজেপির বিরোধিতার সুর চওড়া করতে পারলেন না!

জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেতা প্রবীর গড়াইয়ের সিপিএমের সভা থেকে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন এই প্রসঙ্গে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি শ্যামল সাঁতরা বলেন, “আমি শুনেছি। খোঁজ নিতে হবে। প্রয়োজনে রাজ্য নেতৃত্বকে জানাতে হতে পারে।” তাহলে যদি এবার দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে তিনি কি করবেন!

এদিন এই প্রসঙ্গে সেই তৃণমূল নেতা প্রবীর গড়াই বলেন, “ন্যাড়ামাথায় খোঁচার ভয় নেই। দল তাড়িয়ে দিলে চলে যাব।” আর এখানেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাহলে কি জেনে বুঝেই প্রবীরবাবু সিপিএমের সভায় গিয়ে দলকে বাধ্য করছেন, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার জন্য! তাহলে কি এবার তিনি বামেদের দিকে পা বাড়াতে চলেছেন! এখন এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে সর্বত্র। তবে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতার সিপিএমের সমাবেশে জাওয়ানি এখন তৃণমূল ঠিক কি পন্থা নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top