এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সমালোচনার ঝড়, কংগ্রেস সিপিএমের থেকে না শুনে জোট নিয়ে পাল্টি খেল তৃণমূল

সমালোচনার ঝড়, কংগ্রেস সিপিএমের থেকে না শুনে জোট নিয়ে পাল্টি খেল তৃণমূল

রাজনীতিতে উলটপুরান স্বাভাবিক ব্যাপার। কখন কার কোন রণনীতি হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারবে না কেউই। এইতো যেমন গতকাল বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাম এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার আহ্বান জানানোর খবর পেলেও আজ তা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করতে দেখা গেল সেই তৃণমূল দলকেই। যা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য বিধানসভা।

প্রসঙ্গত, বুধবার বিধানসভায় রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর ভাষণের ওপর জবাবী বক্তৃতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মান্নান দা এবং সুজন বাবু আমাদের এবার একসঙ্গে আসা দরকার।” যার ফলে এই ঘটনাটি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আলোরন পড়ে যায়। তাহলে কি এবার বিজেপিকে আটকাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের হাত ধরবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলে বিভিন্ন মহলে।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রস্তাবের পরই তা সম্পূর্ণরূপে নস্যাৎ করে দিতে দেখা যায় সুজন চক্রবর্তী এবং আব্দুল মান্নানকে। কিন্তু এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় এই রকম কোনো বক্তব্য দেননি বলে এই ঘটনার 24 ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই জানিয়ে দিল তৃণমূল।

সূত্রের খবর, আজ বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে মন্ত্রী তাপস রায় “পয়েন্ট অব ইনফর্মেশন” এনে বিভিন্ন সংবাদপত্র পড়ে শোনান। আর সেখানেই তিনি বলেন, “বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যা দাবি করেছিলেন, তার সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

 

এদিকে মন্ত্রী পয়েন্ট অফ ইনফরমেশন আনলে তার চূড়ান্ত বিরোধিতা করে বিধানসভা কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধীরা। আর এরপরই তাপস রায়ের এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের অনেক ফারাক রয়েছে বলে জানিয়ে দেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। এদিন তিনি বলেন, “সংবাদমাধ্যমে কোনো ভুল খবর প্রকাশিত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে সকলের আসা দরকার বলে মন্তব্য করেছিলেন। আর সেটাই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আর আমরা আমাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছি। এই রাজ্যে বিজেপির উত্থানের জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাই তার হাত ধরা আমাদের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়।”

এদিকে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে রুখতে বাম এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের ব্যাপারে বক্তব্য রাখলেও বৃহস্পতিবার 24 ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে বলে সরকার পক্ষের দাবি ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

অনেকেই বলছেন, আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছিলেন তাঁর এই প্রস্তাবে বাম এবং কংগ্রেসের নেতারা রাজি হবেন। কিন্তু তা না হওয়াতেই ব্যাকফুটে পড়ে গিয়েছে সরকারপক্ষ। আর তাতেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে বলে দাবি জানালেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, আসলে সরকারপক্ষের এটা ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা। একসময় কংগ্রেস এবং বাম বিধায়কদের ভাঙ্গিয়ে আনায় বর্তমানে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করতে নারাজ বাম এবং কংগ্রেস দু’পক্ষই। আর তাইতো গতকালের বিজেপিকে রুখতে সেই বাম এবং কংগ্রেসকে প্রস্তাব দেওয়ার পরও তা থেকে পিছিয়ে এসে তারা “কাউকে কোনো জোট প্রস্তাব দেয়নি বলে” তা প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করলেন শাসক দলের নেতারা বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের।

Top
error: Content is protected !!