এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > আদালতের রায় না মেনে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন ফেলে রেখে তীব্র ভাবে ভর্ৎসিত হল কমিশন

আদালতের রায় না মেনে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন ফেলে রেখে তীব্র ভাবে ভর্ৎসিত হল কমিশন

Priyo Bandhu Media

এবার কোলকাতা হাইকোর্টের কোপের মুখে পড়ল সমবায় নির্বাচন কমিশন। ২০০৬ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল কো-অপারেটিভ সোসাইটিস্ অ্যক্ট অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রায় দু বছর ধরে ‘ভাগিরথী কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রোডিউসরাস্ ইউনিয়ন লিমিটেড’-এ নতুন ‘বোর্ড অব ডিরেক্টরস’ নির্বাচনের কোনো উদ্যোগই নেননি সমবায় নির্বাচন কমিশন আধিকারিকরা। বিচারপতি রাজশেখর মান্থা বিষয়টিকে ‘হীন প্রবৃত্তিসম্পন্ন গদ্যকাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করলেন এদিন। প্রসঙ্গত,২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কোলকাতা হাইকোর্ট কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল ও অন্যান্যদের মামলায় কমিশনকে দ্রুত নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়েছিল। তারপর ১১টি মনোনয়নপত্রও দাখিল করা হয়। সেগুলিকে যথাযথ বলে জানিয়ে ওই বছরেরই ৩ অক্টোবর আদালত কমিশনকে নির্দেশ দেয়, অবিলম্বে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। কিন্তু, সে নির্দশকে অবজ্ঞা করে কমিশন ওই সোসাইটিতে ‘স্পেশাল অফিসার’ বসিয়ে দেয়। গত দু’বছর ধরে ওই পদে স্পেশাল অফিসারই বহাল রয়েছে। স্থগিত হয়ে রয়েছে নির্বাচন প্রক্রিয়া। সূত্রের খবর থেকে জানা গেছে, এই মুহূর্তে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক সোসাইটির স্পেশাল অফিসার পদে রয়েছেন।
তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া কেন বন্ধ ছিল তার সাফাইও পাওয়া গেছে রাজ্য এবং কমিশনের পক্ষ থেকে। রাজ্য ব্যাখ্যা দিয়েছে যে, কমবেশি ৩০০ জন ভোটর রয়েছে কমিশনে। ওদিকে কমিশন প্রায় ১১০০ ভোটারের হিসাব দেখিয়েছে। শুধু এটুকুই নয়, রাজ্য সরকার দাবিতে আরো জানায় যে , বর্তমান মামলাকারীদের (সুদেব নন্দী ও অন্যান্য) যাঁদের মনোনয়নপত্র ‘উপযুক্ত’ হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলো, তাঁদের সকলেই সোসাইটিতে খারাপ দুধ সরবরাহ করতেন। সেই কারণে সোসাইটির আইন অনুযায়ী, তাঁরা ভোটে অংশ নিতে পারেন না।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

 

তবে, মামলাকারীদের তরফেট আইনজীবী ঋজু ঘোষাল রাজ্য ও কমিশনের এমন বক্তব্য খন্ডন করেন। এমনকি, হাইকোর্টও তার রায়ে বলেছে, রাজ্য দাবি অনুযায়ী তার প্রমান স্বরূপ তারা থানায় অভিযোগের কোনও নথিই পেশ করতে পারেননি। ফলে, রাজ্যের এমন দাবীর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করা যেতেই পারে। অন্যদিকে,যে ন’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগে করা হয়েছে, তাঁদের আগে কখনও আদালতের কাঠগড়ায় তোলাই হয়নি। ১১০০ সদস্যের মধ্যে শুধু ১জনই এমন একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেছেন। সমস্ত যুক্তি,পাল্টা যুক্তির ভিত্তিতে বিচারপতির মনে করেন, রাজ্য ও কমিশনের এমন ভূমিকা সত্যিই ‘আতঙ্কজনক’।
ওদিকে, কমিশন দাবী করেছে যে, স্পেশাল অফিসারের কাছে ভোটার তালিকা না এসে পৌছালে তাঁদের পক্ষে ভোট কর্মসূচি শুরু করা সম্ভব নয়। তাঁদের এই কথার ভিত্তিতে রায়ে বলা হয়েছে, কমিশন এই কারণ দেখিয়েই ভোট করার সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য আগে আদালতের অনুমতি চায়নি। যেটা তাঁদের করা উচিৎ ছিল। এটা করার বদলে তাঁরা রাজ্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আদালতের নির্দেশ উলঙ্ঘন করেছে। এমনই রায় হাইকোর্ট রাজ্য ও কমিশনের এহেন আচরণের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এবং এটাও জানিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতি তৈরির জন্য যে বা যাঁরা দায়ী তাঁদের জন্য সরাসরি কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করে আদালত স্পেশাল অফিসারকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভোটার তালিকা পেশ করারর নির্দেশ দিল এদিন। এবং এটাও জানালো যে মামলাকারী ও অন্যান্য পক্ষ সেই তালিকা খতিয়ে দেখে ওই অফিসারকে অভিমত দেওয়ার কথাও জানানো হল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা জন্য ২৩ জুলাই দিনটি ধার্য করা হয়েছে। এবং পরবর্তী শুনানির দিন, ২৪ জুলাই কমিশনকে ভোটের দিনক্ষণ জানিয়ে সুপারিশ জমা করতে হবে বলেও জানিয়ে দিল আদালত।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!