এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শিক্ষকদের ১৪ দিনের অনশনে রাজ্য সরকারের ‘ঘুম না ভাঙলেও’ সংসদে ঝড় তুললেন বিজেপি সাংসদ

শিক্ষকদের ১৪ দিনের অনশনে রাজ্য সরকারের ‘ঘুম না ভাঙলেও’ সংসদে ঝড় তুললেন বিজেপি সাংসদ

আন্দোলন করলেই দূরবর্তী জেলাতে অনৈতিক বদলি ও নিজেদের ন্যায্য বেতনের দাবিতে, রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা এমরান অনশনে বসেছেন বিকাশ ভবনের অদূরে, উন্নয়ন ভবনের সামনে। অনশন আজ নিয়ে ১৪ দিনে পড়লেও, অনশনকারী শিক্ষকদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলেও – এই নিয়ে সামান্যতমও সহানুভূতিশীল নয় রাজ্য সরকার। উল্টে, নাম না করে শিক্ষকদের আমরণ অনশনকে প্রকাশ্য মঞ্চেই হেয় করার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বার্ষিক কর্মসূচি শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র শ্লেষের সঙ্গে জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় হারে বেতন পেতে হলে কেন্দ্রে চলে যান! কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যের পরেও পিছু না হঠে আরও জোরদার হয় শিক্ষক আন্দোলন। হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক ঝড়-বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করেই নিজেদের ন্যায্য পাওনা ছিনিয়ে নিতে চালিয়ে যান অনশন। এরপরে, আন্দোলনকে ‘প্রভাবিত’ করতে আসরে নামেন শিক্ষামন্ত্রী বলে অভিযোগ ওঠে।

শিক্ষকদের স্পষ্ট দাবি NCTE নর্ম মেনে যেখানে কেন্দ্রীয় মানে নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা উন্নীত করতে হয়েছে, সেখানে কেন্দ্রীয় নিয়ম মেনেই গ্রেড-পে ২,৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪,২০০ টাকা করতে হবে। কিন্তু, গতকাল দলীয় শিক্ষক সংগঠনের এক অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেন (তাও কোনো জিও ছাড়াই), যে শিক্ষকদের ‘বেতন বৃদ্ধি’ হল। শিক্ষকদের গ্রেড-পে ২,৪০০ থেকে বাড়িয়ে ৩,২০০ করা হল ও ভবিষ্যতে ৩,৬০০ করার চেষ্টা চলছে!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

আর তাঁর এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অনশনকারী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, অনশন বন্ধ করে কাজে যোগ দিতে। এরপরেই বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠতে থাকে, শিক্ষামন্ত্রী আদতে ‘মুষ্টিভিক্ষা’ দিয়ে, অনশনকারীদের আন্দোলনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর এহেন মন্তব্যই প্রমান করে – শিক্ষক আন্দোলন নিয়ে সামান্যতমও সহানুভূতিশীল নন তাঁরা!

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যখন শিক্ষক আন্দোলন নিয়ে এই ধরনের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠছে, ঠিক তখনই এই অনশন আন্দোলন নিয়ে লোকসভায় ঝড় তুললেন কুচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামানিক। আজ লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা নিজের আসনে থাকার সময়েই নিশীথ প্রামানিক পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের দুর্বিষহ অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কিভাবে দিনের পর দিন বঞ্চিত হচ্ছেন রাজ্যের শিক্ষকরা।

নিশীথ প্রামানিক আরও জানান, এর আগে নিজেদের ন্যায্য বেতনের দাবিতে মিছিল করলে, সেখানেও সহমর্মিতা দেখানোর জায়গায় রাজ্য সরকার কড়া ব্যবস্থা নেয়। পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ তৈরির আধার প্রাথমিক শিক্ষকরা। আর সেই প্রাথমিক শিক্ষকদেরই এখন কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে বাংলায়। তিনি লোকসভার অধ্যক্ষ ও পুরো সদনকে অনুরোধ করেন, বাংলার প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রাণ রক্ষার্থে ও তাঁদের ন্যায্য দাবি পূরণে যেন যথা শীঘ্র সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!