এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > বদলি সংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকায় ঘুম উড়েছে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের, চলছে চূড়ান্ত জল্পনা

বদলি সংক্রান্ত নয়া নির্দেশিকায় ঘুম উড়েছে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের, চলছে চূড়ান্ত জল্পনা

গত মার্চ মাসে রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মিদের নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল শিক্ষা দপ্তর। মাঝে পঞ্চায়েত নির্বাচনের কারনে সরকারের সেই নির্দেশিকা জেলায় পৌঁছতে কিছুটা বিলম্ব হয়। ফলে নির্বাচনের পর সেই নতুন নির্দেশিকা গত জুন মাসে উত্তর দিনাজপুর জেলায় পৌছোতেই নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে জেলার শিক্ষামহলে।

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এতদিন মিউচুয়াল, জেনারেল ও জেনারেল ট্রান্সফার অন স্পেশাল গ্রাউন্ড নামে এই তিনধরনের ট্রান্সফার থাকলেও এরমধ্যে জেনারেল ট্রান্সফারটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বাকি দুটি প্রয়োগ করেই কাজ করতে হচ্ছে দপ্তরকে। জানা গেছে, নতুন নিয়মে শিক্ষকদের শিক্ষার স্বার্থের জন্য অন্যত্র স্থানান্তরিত করার সুপারিশ করতে পারবে ওয়েষ্টবেঙ্গল সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন।

আর এই ট্রান্সফার তখনই ইস্যু হবে যখন অ্যাপয়েন্টিং অথরিটি সুপারিশ করবেন। এখানেই অনেক শিক্ষকেরা মনে করছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে ট্রান্সফার না হওয়ার কারনে অনেকেই বাইরে থেকে এসে জমি কিনে বর্তমানে বাড়ি করে সেখানে বাস করতে শুরু করেছেন। এই নতুন নির্দেশিকায় তাঁরা বিপাকে পড়তে পারেন।

অন্যদিকে অনেক শিক্ষক বা শিক্ষিকারা জেনারেল ট্রান্সফারকে কাজে লাগিয়ে দূর থেকে নিজের বাড়ির কাছের স্কুলে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতেন, এখন তাঁরাই নেতাদের ধরে ট্রান্সফার অন স্পেশাল গ্রাউন্ড নেওয়ার ফলে গ্রামের স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের তুলনায় শিক্ষক কমতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, উত্তর দিনাজপুরে বর্তমানে ১১৮৯ টি শূন্যপদ রয়েছে।

এদিকে নতুন এই নির্দেশিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই আইনকে “কালাকানুন” বলে অভিহিত করেছেন নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক বিপুল মৈত্র। অন্যদিকে এই নির্দেশিকা শিক্ষার উন্নয়নে সদর্থক ভূমিকা নেওয়ার পাশাপাশি যে স্কুলে যত শিক্ষক রয়েছে সেখানে প্রয়োজনানুযায়ী তাঁদের ট্রান্সফার করলে ছাত্র শিক্ষক অনুপাতে কোনো সমস্যাই হবে না বলে মত পশ্চিমবঙ্গ তৃনমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা নেতা সঞ্জয়চন্দ্র দাসের।

একই কথা বলে সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের জেলা আহ্বায়ক দেবব্রত চক্রবর্তী। তবে এই বদলির নির্দেশিকা প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুরের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল অবশ্য বলেন, “ট্রান্সফার সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জেলায় পৌঁছালেও আমারা কাউকেই সরাসরি ট্রান্সফার অর্ডার দিতে পারি না। কারোর বদলির প্রয়োজন হলে রাজ্যে সুপারিশ পাঠাব। সেখান থেকেই তা কার্যকর হবে।” সব মিলিয়ে জেলায় শিক্ষক শিক্ষাকর্মীদের বদলি নিয়ে সরকারের তরফে নতুন নির্দেশিকা পৌছোতেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া জেলার শিক্ষামহলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!