এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মনিরুল ইসলাম দলে আসতেই কার্যত দ্বিধাবিভক্ত বঙ্গ-বিজেপি, শুরু চূড়ান্ত বিতর্ক

মনিরুল ইসলাম দলে আসতেই কার্যত দ্বিধাবিভক্ত বঙ্গ-বিজেপি, শুরু চূড়ান্ত বিতর্ক

বাংলায় পরিবর্তনের পরিবর্তন করার লক্ষ্যে তীব্র গতিতে এগিয়ে চলেছে বঙ্গ বিজেপি। আর জাট প্রাথমিক ধাপ হিসাবে সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে দলীয় রেকর্ড সংখ্যক ১৮ টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। আর এরপরেই দিলীপ ঘোষ-মুকুল রায়ের মত রাজ্য নেতারা দাবি করেছিলেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে বিপুল ভাঙন ধরতে চলেছে, প্রবল প্রতাপশালী তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থা বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেসের মত নাকি অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে।

আর সেই দাবিকে সত্য করে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই বিভিন্ন দল থেকে বিধায়ক ও কাউন্সিলরদের লাইন লেগে গেছে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে। তবে শুধু মাদার সংগঠনেই নয়, বিজেপির ছোঁয়ায় ভাঙন ধরেছে যুব ও ছাত্র রাজনীতিতেও। আর তারফলে প্রবল উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছিল গেরুয়া সমর্থকদের মধ্যে। কিন্তু, সেই উচ্ছ্বাসের তাল কাটল গতকাল লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বিজেপিতে যোগ দিতেই।

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে হাওড়া থেকে বিজেপির প্রার্থী রন্তিদেব সেনগুপ্ত তো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যেই লিখেছেন, এই মনিরুল ইসলামদের অত্যাচারে বীতশ্রদ্ধ হয়েই বীরভূম জেলার মানুষেরা তৃণমূলকে দূরে ঠেলে বিজেপিকে আপন করে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু, যাঁদের ‘অত্যাচারের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপিকে সমর্থন, তাঁরাই যদি বিজেপিতে আসেন, তাহলে তো ভুল বার্তা যাবে মানুষের কাছে। তবে, শুধু রন্তিদেববাবুই নন, এই সুর বিজেপি সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

তবে, এর বিরোধী যুক্তিও রয়েছে। গেরুয়া সমর্থকদের সেই অংশের বক্তব্য, যখন দলে মুকুল রায়, শঙ্কুদেব পণ্ডা বা অর্জুন সিংকে নেওয়া হয়েছিল – তখনও কম বিতর্ক হয় নি! কিন্তু গেরুয়া শিবিরে যোগদানের পর এঁরা এমন কোনো কাজ করেননি, যার দিকে আঙুল তুলে কেউ ‘অনৈতিক’ বলতে পারে। বরং এঁরা দলের জন্য যেভাবে লড়াই করছেন তাকে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় নেই। আসল কথা হল, কোনো দলের নেতা কিরকম আচরণ করবেন, তা নির্ভর করে দলীয় অভিভাবকদের উপরে।

আর বিজেপির মত সর্বভারতীয় দল আসলে কড়া অনুশাসনের মোড়কে মোরা। ফলে, বিগত দিনে অন্যদলে থাকার সময় যেসব নেতাদের দিকে আঙুল উঠেছে, তাঁরা বিজেপিতে আসার পরে যদি সেইসব অভিযোগের ধারেকাছেও না থাকেন, তাহলে অসুবিধা কোথায়? বিশেষ করে তৃণমূলের মত দলের সঙ্গে লড়াই করতে হলে সাংগঠনিকভাবে শক্তপোক্ত হতে হবে। আর সেই সংগঠনকে দৃঢ় করতে নেতা-কর্মী তো আর মঙ্গলগ্রহ থেকে আসবে না! এখন নাকি দলের মূল উদ্দেশ্য তৃণমূল কংগ্রেসকে পুরোপুরি দুর্বল করে দেওয়া।

আর তাই, তৃণমূলে ভাঙন ধরানোটা মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেওয়ার পরেও যদি কোনো নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তখন তাঁদের জন্য চরম শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। উদাহরণ হিসাবে, কয়েক বছর আগের মধ্যপ্রদেশের ঘটনাও উল্লেখ করছেন কেউ কেউ। তাঁদের বক্তব্য, মধ্যপ্রদেশে তখন বিজেপি সরকার, আর বিজেপিরই এক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি নাকি আইএসআইএর এজেন্ট। ফলে তাকে গ্রেপ্তার করে বিজেপি শাসিত রাজ্যেরই এসটিএফ।

ওই ব্যক্তি বিজেপি করে বলে অভিযোগ আসার পরে তাকে আড়াল করার কোনো চেষ্টাও করে নি দল, এটা জেনেও যে, এই ঘটনা বাইরে এলে তা দলের গায়েই কালী লাগাবে! সুতরাং, মনিরুল ইসলামরা দলে যোগ দেওয়ায় এখনই গেল গেল রব তোলার কিছু নেই, বরং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখা ভালো। কেননা এই যোগদান তো তাঁদের অনুমোদন ছাড়া হচ্ছে না! কিন্তু, ঘটনা যাই হোক – যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির জালে মনিরুল ইসলামের যোগদানের পর কার্যত দ্বিধাবিভক্ত রাজ্য বিজেপি। এখন দেখার এই বিতর্ক কোথায় গিয়ে শেষ হয়!

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!