এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > কংগ্রেসকে বড় ধাক্কা দিলেন বহেনজি,খুশির হাওয়া বিজেপি শিবিরে – জেনে নিন কী করলেন তিনি

কংগ্রেসকে বড় ধাক্কা দিলেন বহেনজি,খুশির হাওয়া বিজেপি শিবিরে – জেনে নিন কী করলেন তিনি

যেমন কথা তেমন কাজ। তিনি সম্প্রতি কংগ্রেসকে জানিয়ে দিয়েছিলেন ‘সম্মানজনক’ আসন পেলে তবেই তিনি জোট গড়বেন। তারপরই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ছেন না তিনি। কথা হচ্ছে বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতীর। লোকসভা ভোটের আগেই যোগীজির জনতা কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার সূত্রে আসলেন তিনি। ঘোষণা করলেন,’ছত্তিশগড়ে জোট ক্ষমতায় আসলে অজিত যোগীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে।’ বড়সড় ধাক্কা পেলেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসকে বহেনজি বুঝিয়ে দিলেন, বসপার দাবী মতো আসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। এদিকে মায়াবতীর এই ঘোষণার পর খুশির হাওয়া বিজেপি শিবিরে। এতোদিন জল্পনা চলছিল নভেম্বর ডিসেম্বরে ছত্তিশগড়,মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করতে কংগ্রেসের হাত ধরবে মায়াবতী।

দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে আলোচনা চললেও আসন সমঝোতায় আসতে পারেনি কংগ্রেস-বসপা। মধ্যপ্রদেশে এক লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মায়াবতী। ২৩০ টি আসনের মধ্যে ২২ টি আসনে প্রার্থী ঘোষণাও করে দিলেন এদিন। মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা কমলনাথ এ সিদ্ধান্ত শোনার পরই দলীয় অন্দরে আলোচনা শুরু করেছে। রীতিমতো হকচকিয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। তবে মায়াবতীর এই সিদ্ধান্ত শুনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন মোদীজি-অমিত শাহরা। তাঁরা এতোদিন মনে প্রাণে কামণা করছিলেন বসপা-কংগ্রেসের জোট ভেঙে যাক তিন রাজ্যের বিধানসভা ভোটের আগে। এমনকি লোকসভা ভোটেও যেন এই জোট বিজেপির বিরুদ্ধে না দাঁড়ায় এমটাই ছিল বিজেপির মনোবাঞ্ছা। তাঁদের সেই ইচ্ছেই পূরণ হল।

ছত্তিশগড়ে বিধানসভা নির্বাচেন ৯০ টি আসনের মধ্যে ৩৫ টিতে প্রার্থী দেবে বসপা। বাকি ৫৫ টি আসনে লড়বেন অজিত যোগী। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ার কথা বলে কংগ্রেস বহিষ্কৃত নেতার হাত ধরাকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। অনেকে আবার একে ‘মায়াবতীর খেল’ বলেও ব্যাখ্যা করছেন। একদিকে যেমন তিনি নিজের বিজেপি বিরোধী অবস্থানটি বুঝিয়ে দিলেন,একইভাবে কংগ্রেস বিরোধী মানসিকতারও নজির সামনে রাখলেন। মায়াবতীর ঘোষণার পর অজিত যোগী বলেছেন,বিজেপি এবং তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী রমণ সিং ১৫ বছর ধরে ছত্তিশগড়ের ক্ষমতায় থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহারই করেছেন শুধু। তাই মায়াবতীর হাত ধরে লড়াই করেই বিজেপিকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি থেকে নামানোর লড়াই করার পক্ষে সমর্থন দিলেন যোগী। উল্লেখ্য,২০১৬ সালে ছত্তিশগড়ের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী অজিত যোগীকে দল থেকে ছাটাই করেছিল কংগ্রেস। ২০০০-২০০৩ সাল অব্দি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তারপর থেকেই ক্ষমতা দখল করে আছে বিজেপি-রমণ সিং।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

বিজেপিকে হারাতে মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ে মায়াবতীকে পাশে চেয়েছিল কংগ্রেস। তবে রাজস্থানে র বিধানসভা নির্বাচনের জন্য জোর রাজনীতির প্রয়োজন নেই বলেই জানিয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রেস সুপ্রিমো রাহুল গান্ধী। কিন্তু মায়াবতী সাফ কথায় জানিয়ে দিয়েছিলেন,জোট হলে তিনটে রাজ্যেই হবে। এ নিয়ে কংগ্রেস-বসপার মধ্য মনোমালিন্য চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। সমস্যা সমাধানে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের তরফ থেকে ময়দানে নামবেন এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগে কংগ্রেসর হাত ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিলেন মায়াবতী। ফলত ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশের মহাজোটের ভীত ধসে গেল। কারণ ওই রাজ্যে ৮০ টি আসনের মধ্যে ৪০ টি বসপাকে দিতে হবে এমনটাই ছিল মায়াবতীর দাবী। কিন্তু সে দাবী কংগ্রেস মেনে না নেওয়ায় জোট ভেঙে দিলেন মায়াবতী। এদিকে ২০১৯ এর নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তার নেপথ্যে মায়াবতীর একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিরোধী জোট গড়ে মমতা ব্যানার্জির পরিকল্পনা মতো ‘ওয়ান টু ওয়ান’ লড়াই হলে গতবারের ৭১ টির অর্ধেকেরও নীচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিজেপির। তাই এই প্ল্যানমাফিক চলে বিজেপিকে কুপকাত করার ফন্দি আঁটছিল কংগ্রেস। কিন্তু মায়াবতীর এদিনের ঘোষণার ফলে কংগ্রেসের সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিন বসপা। এমতাবস্থায় রাহুলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সেটাই এখন চর্চার বিষয় হয়েছে জাতীয় রাজনৈতিকমহলে। বিজেপি বিরোধী মহাজোট প্রশ্নচিহ্নের মুখে!

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!