এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > কংগ্রেস-বিজেপি আঁতাত নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রীর

কংগ্রেস-বিজেপি আঁতাত নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রীর

বহুদিন ধরেই তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের গোপন আঁতাত রয়েছে। মুর্শিদাবাদ থেকে এক জনসভায় দাঁড়িয়ে কংগ্রেসকে একহাত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের স্টার ক্যাম্পেনার শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপির উত্থানে বিশেষ সহযোগিতা করেছে কংগ্রেস। উল্লেখ্য, আরএসএসের অনুষ্ঠানে একসময় গিয়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। আর তারপর থেকেই বারংবার প্রণববাবুর সাথে আরএসএস যোগের কথা উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এবারও একই অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক কথা বললেন তৃণমূল মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি।

এদিন মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় সিএএ বিরোধী একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সোজাসুজি অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দিকে। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, গত লোকসভা নির্বাচনে প্রণব মুখার্জির ফোন পেয়ে জঙ্গিপুর কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করেছিল বিজেপি। কারণ, জঙ্গিপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন ছিলেন স্বয়ং প্রণব পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। তাই লক্ষ্য ছিল, তাঁকে লোকসভা নির্বাচনে জিতিয়ে আনা। আর তাই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর।

এ প্রসঙ্গে পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে জঙ্গিপুরে বিজেপির তরফে প্রথমে প্রার্থী ছিলেন সম্রাট ঘোষ। তারপর কংগ্রেস কর্মীরা ওই দেওয়াল মুছে দেয়। পরে ওই কেন্দ্রে সিপিএম ত্যাগী মাফুজা খাতুনকে প্রার্থী করে গেরুয়া শিবির।’ শুভেন্দু অধিকারী আরো বলেন, ‘ওই কেন্দ্রে কংগ্রেস পার্থী ছিলেন প্রণব-বেটা অভিজিত্‍। তার আগে নাগপুরে আরএসএস অফিসে গিয়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। ছেলেকে জেতাতে আরএসএস অফিসে ফোন করে বিজেপির প্রার্থী বদলের কথা বলেছিলেন প্রণববাবু। জানিয়েছিলেন, বিজেপি হিন্দু প্রার্থী দিলে ওই কেন্দ্রে হিন্দু ভোট ভাগ হয়ে যাবে। এতে ছেলের বিপদ রয়েছে। এরপরই মাফুজা খাতুনকে প্রার্থী করে বিজেপি।’ যদিও এত কান্ড করেও 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গিপুর লোকসভায় বিজয়ী হন তৃণমূলের খলিলুর রহমান।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এখানেই থামেননি শুভেন্দু অধিকারী। এর আগেও অধীর চৌধুরীর সিআরপিএফ নিরাপত্তাকে নিয়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন কংগ্রেস-বিজেপি আঁতাতের। এদিনের সভাতেও তিনি একই অভিযোগ করেন। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সোনিয়া গান্ধীর ডাকা সিএএ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরোধী বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে যে কংগ্রেস ও বাম সমর্থিত পরিচালিত বনধ হয়ে গেল, সেখানে রাজ্যের তুমুল অশান্তিকে দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় জানিয়ে দেন, ‘নয়া দিল্লিতে আগামী ১৩ জানুয়ারি সোনিয়া গান্ধীর ডাকা বৈঠক বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে বনধ ঘিরে যেভাবে তাণ্ডব চালিয়েছে বাম-কংগ্রেস, তা সমর্থন করি না। সে কারণেই বৈঠক বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের পরেই কংগ্রেস ও বাম সংগঠন থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। তার প্রতিও অভিযোগ ওঠে বিজেপি আঁতাতের। এর আগে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বাংলাতে এসে কঠোর সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের। সমালোচনা করে গিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়েরও। এবার শুভেন্দু অধিকারীও তীব্র সমালোচনার ফেটে পড়েন কংগ্রেস ও বিজেপি আঁতাত নিয়ে। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ফলে দেশে যে বিজেপি বিরোধী ঝড় উঠবার আশা করা হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও ধাক্কা খাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রাখবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকগণ।

আপনার মতামত জানান -
Top