এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > বিজেপির মুখে হাসি ফুটিয়ে ক্ষমতায় ফিরতেই প্রকাশ্যে কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল, চাপে হাইকম্যান্ড

বিজেপির মুখে হাসি ফুটিয়ে ক্ষমতায় ফিরতেই প্রকাশ্যে কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল, চাপে হাইকম্যান্ড

পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তিনটেতেই বিজেপির বিজয় রথ থামিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। জয়ের উচ্ছ্বাসটা কিছু কম ছিল না ঐতিহ্যশালী এই রাজনৈতিক দলের। এখনো গোটা দেশ জুড়েই উৎসবের মরশুম চলছে কংগ্রেসীদের। লোকসভা ভোটের আগেই যে বিজেপিকে জোর ধাক্কা দিতে পারবে রাহুল গান্ধীর দল, এমনটাই অপ্রত্যাশিত ছিল। ছত্তিশগড়, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে কংগ্রেস – এই খবর সারা দেশের কারোর জানতে আর বাকি নেই।

কিন্তু সরকার গঠনের আগেই জয়ের আনন্দটাই উবে গেল কংগ্রেসের হাইকমান্ডারের। ক্ষমতায় ফিরতেই প্রকাশ্যে এল কংগ্রেসের ‘বহু-চর্চিত’ গোষ্ঠীকোন্দল। রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে কারা বসতে চলেছেন এখনো স্থির হয়নি। তার আগেই কংগ্রেস কর্মীরা দুই রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের সামনে হাজির হয়ে তাঁদের পছন্দের নেতাদের নামে শ্লোগান দিতে শুরু করেছেন। দলের অন্দরেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে আসাকে কেন্দ্র করে মতানৈক্য স্পষ্ট হল।

রাজস্থানে লড়াইটা ছিল অশোক গেনলট বনাম শচীন পাইলটের। এই দুই নেতার ঘনিষ্ঠমহল তাঁদের প্রিয় নেতাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে দেখার দাবী তীব্রতর করছিলেন। এমনকি, একই ছবি ছিল মধ্যপ্রদেশেও – শুধু চরিত্রগুলির নাম পাল্টে গিয়েছিল। সেখানেও কংগ্রেস পার্টি অফিসের সামনে কমলনাথ এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার অনুগামীরা তাঁদের পছন্দের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে দেখার দাবী জানিয়েছেন।

দলীয় সূত্রের খবর, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্যে অশোক গেহলট এবং মধ্যপ্রদেশের জন্যে কমলনাথের নাম চূড়ান্ত করেছে ফেলেছেন কংগ্রেসের হাইকমান্ডার। অন্যদিকে, শচীন পাইলট এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে উপমুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানোর জন্যে মনস্থির করে ফেলেছেন রাহুল। এভাবেই চার নেতাকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে অনুগামীদের ক্ষোভ দমনের চেষ্টা করছেন জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তবে, সূত্রের খবর, কংগ্রেস সুপ্রিমোর এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার অনুগামীরা। তরুন নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসাতে হবে এমনটা দাবী তুলে ভোপাল পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভ জারি রাখেন তাঁরা। অন্যদিকে, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া নিজেও উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন বলেই জানা গেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামতে হয়েছে খোদ সোনিয়া গান্ধীকে।

সূত্রের খবর, কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে সরাসরি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার বাসভবনে পৌছে যান নেত্রী। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে কাকে বসানো হবে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সেখানেই। কিন্তু, আলোচনার সারবস্তু এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে, রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্যে শচীন পাইলটের নাম মনোনীতি না হওয়ায় অসন্তোষে কংগ্রেসের মুখপাত্রের পদ থেকেই ইস্তফা দিয়েছেন ইন্দর মোহর সিং। ‘শচীন পাইলটকেই মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে’ – এমনটা দাবী তুলে পদত্যাগপত্র রাহুল গান্ধীর দরবারে পাঠিয়ে দেন তিনি।

অন্যদিকে, সচিন পাইলটের অনুগামীরাও একই দাবীকে সামনে রেখে বিক্ষোভের পথে নেমেছেন। এই প্রেক্ষিতে দুই রাজ্যেরই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করতে গিয়ে সাঁড়াশী চাপে পড়ে গিয়েছেন রাহুল গান্ধী। কীভাবে এ সমস্যার সমাধান হবে সেটাই চিন্তার কারণ হয়েছে এখন কংগ্রেসের হাই কমান্ডারের। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থান দুটোই বিজেপি শাসিত রাজ্য ছিল এতদিন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মধ্যপ্রদেশ শাসন করেছে বিজেপি, অন্যদিকে ৫ বছর ধরে রাজস্থানে হুকুম চালিয়েছে গেরুয়া শিবির।

লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি প্রভাবিত এই দুটি রাজ্যে জয়, নিঃসন্দেহেই বড় প্রাপ্তি কংগ্রেসের। তার থেকেও বড় কথা – বিজেপি প্রায় নিজেদের গড় বানিয়ে ফেলেছিল যে রাজ্য – সেই ছত্তিশগড়ও দখল করা গেছে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করতে যেভাবে কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল প্রকাশ্যে আসছে তা কংগ্রেসের ভাবমূর্তির পক্ষে যথেষ্ট হানিকারক বলেই মনে করছে অভিজ্ঞমহল। আর কংগ্রেসীদের এই দ্বন্দ্ব যে বিজেপির মুখে হাসি ফোটাচ্ছে, এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। ফলে, লোকসভা নির্বাচনের আগে জয়ের আনন্দের মধ্যেও এই গোষ্ঠীকোন্দল নতুন করে মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে চলেছে রাহুল গান্ধীর।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!