এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নগ্ন করে ছাত্রনেতা নিগ্রহ কান্ডে কিছুতেই মিটছে না বিতর্ক, এবার জিএসকে হুমকির অভিযোগ

নগ্ন করে ছাত্রনেতা নিগ্রহ কান্ডে কিছুতেই মিটছে না বিতর্ক, এবার জিএসকে হুমকির অভিযোগ

এখনো উত্তপ্ত সেন্ট পলস্ কলেজের পরিবেশ কলেজ ছাত্র তথা ওয়েলফেয়ার কমিটির সেক্রেটারি নিগ্রহের ঘটনায়। অভিযোগ উঠেছিলো কলেজের প্রাক্তন ছাত্র অর্নব ঘোষ,আবদুল কায়ুম মোল্লা,শেখ এনামুল হক,অভিজিৎ দলুই এর বিরুদ্ধে। তাঁদের মদ্যপানের তীব্র প্রতিবাদ করায় বিবস্ত্র করে ভিডিও সম্মানহানি করা হয় ওই কলেজ পড়ুয়ার। এবং পরে সেই ভিডিও ভাইরালও করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকায় নাম  জড়িয়েছে অশিক্ষক কর্মী অনন্ত প্রামাণিকেরও।

এই ঘটনার জেরে এদিন আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন কলেজের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সর্দার। অভিযোগে তিনি জানান তাকে অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে ওই আক্রান্ত ছেলেটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এমনকি মেসেজে গালিগালাজও লিখে পাঠানো হচ্ছে। যেসব ছাত্রছাত্রীরা ওই নিপীড়িত ছেলেটির পাশে দাঁড়িয়েছে তাঁদের সকলের বরাতেই জুটছে এই অচেনা নম্বর থেকে আসা হুমকি। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোকেও বেছে নেওয়া হয়েছে হুমকি দেওয়ার মাধ্যম হিসাবে। প্রমান হিসাবে ফেসবুক পেজের কিছু নমুনাও দেখান সৌরভ এদিন। সেখানেই দেখা যায়,মুস্তাফিজুর রহমান আর শোয়েব খান নামে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুজন সদস্য অকথ্য ভাষায় গালাগালি দিচ্ছে কলেজ পড়ুয়াদের। ‘দেখে নেবো’ এই জাতীয় হুমকি পাড়ছেন । আর পড়ুয়ারা আবার তাঁদের শাস্তির দাবীতে স্যোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে সবর হচ্ছেন। এদিকে, অভিযোগের পর পুলিশি তল্লাশি সক্রিয় হয়েছে এদিন। দুই ২৪ পরগনা ছেঁকে ফেলা হচ্ছে অভিযুক্তদের খোঁজে।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এই ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠেছিলো যে কীভাবে প্রাক্তনরা কলেজে ঢুকে এই দুষ্কর্ম করার সাহস পেলো। সকলের অভিযোগ থেকে বাঁচতে কলেজ প্রশাসন কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো কড়া করলেন এদিন।কলেজে বসেছে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়া ঠিক হয়েছে যে এবার থেকে যে বা যারা কলেজে ঢুকবে তাঁদেরকে রেজিস্টারে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করে প্রবেশ করতে হবে। শুধু তাই নয়,লিখতে হবে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢোকার যথার্থ কারণ। কলেজ এটাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যতদিন না পুলিশি তদন্ত শেষ হচ্ছে ততদিন সাসপেন্ড থাকবেন ওই অভিযুক্ত শিক্ষাকর্মী। এছাড়া অভিযুক্ত ওই তিন নেতাকেও বহিষ্কার করেছেন তৃণমল ছাত্র পরিষদ।

প্রসঙ্গত,  ছাত্র নিগ্রহের এই ঘটনার পরই প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।  তিনি বলেছিলেন অপরাধকে যেন ক্ষমার নজরে দেখা না হয়। অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে। এরপরই অভিযুক্তদের শাস্তির দাবীতে স্যোশাল মিডিয়ায় সোচ্চার হতে দেখা যায় কলেজ পড়ুয়াদের। কলেজ চত্বরও গমগম করে তরুন প্রজন্মের প্রতিবাদী ভাষায়।  সমালোচনার বাঁধ ভেঙে পড়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। গনগনে আঁচ দেখে পুলিশও তাঁর দায়িত্বে নেমে পড়ে। তবে এখনো কাউকে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক সূত্রের খবরর থেকে।

Top
error: Content is protected !!