এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > সহ-সভাপতিকে আক্রমন করে দলীয় কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হলেও শুভেন্দু অধিকারী দায় চাপালেন কংগ্রেসের ওপরেই

সহ-সভাপতিকে আক্রমন করে দলীয় কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হলেও শুভেন্দু অধিকারী দায় চাপালেন কংগ্রেসের ওপরেই

সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি অশোক দাসের ওপর আক্রমণের ঘটনায় নাম জড়ায় স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর কানাই রায়ের। এমনকি এই ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগও দায়ের করেন আক্রান্ত তৃণমূল নেতা অশোক দাস।

এরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তৃণমূল কাউন্সিলর কানাই রায় ও রাধারঘাট এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ শেখকে। অন্যদিকে বাকি অভিযুক্ত জামালউদ্দিন আহমেদ, বরুন দত্ত, মিলন শেখ, আলমগীর শেখ ও তরুণ গ্যালেরার খোজে ইতিমধ্যেই অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

এদিকে প্রকাশ্যে এই ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ তুলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরব হলেও এবার জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি অশোক দাস আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় সেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুললেন মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সোমবার শুভেন্দুবাবু বলেন, “অভিযুক্তরা তৃণমূলের কেউ নয়। ওরা অধীর চৌধুরীর লোক। ওদের বিরুদ্ধে যা পদক্ষেপ নেওয়ার পুলিশই নেবে।” কিন্তু যেখানে প্রকাশ্যে এই অশোক দাসকে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল কাউন্সিলরকে, সেখানে কি করে শাসকদলের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় অভিযোগ করা হচ্ছে কংগ্রেসের দিকে?

এদিন এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “দলের জেলা সহ সভাপতির ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা সকলেই অধীর চৌধুরী চর। মান্নান হোসেনের মৃত্যুর পর তারা আমাদের দলে জায়গা করে নেয়। সুকৌশলে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে তারা অধীর বাবুর চরবৃত্তি করছে।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই মুর্শিদাবাদ জেলার সভাপতি অশোক দাস অত্যন্ত ভাল মানুষ বলেই এলাকায় পরিচিত। রাজনৈতিক কাজকর্ম করার পাশাপাশি তিনি বেশ সংস্কৃতি পরায়ন মানুষ। ফলে এহেন এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় হতবাক মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষও।

এদিন নার্সিংহোম থেকে ছাড়া পেয়ে প্রথমেই দলের কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে খাগড়ায় নিজের বাড়িতে আসেন সেই মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি অশোক দাস।

অশোকবাবু বলেন, “এক দুদিনের মধ্যেই কিছুটা সুস্থ হয়ে ফের আগের মতই জেলা কার্যালয় বসব। আমরা অধীর চৌধুরীর গুন্ডাদের কোনমতেই বরদাস্ত করব না। পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশ মত গুন্ডা মস্তানদের এবার সমাজ থেকে উচ্ছেদ করব।”

তাহলে কি তৃণমূলের অভিযোগ সত্যিই যুক্তিযুক্ত? সত্যিই কি অশোক দাসের উপর এই হামলার পেছনে রয়েছে অধীর চৌধুরী অনুগামীদের হাত? এদিন এই প্রসঙ্গে রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা সেই অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ জয়ন্ত দাস বলেন, “জেলায় কোথাও তৃণমূলের ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে কার্যকরী সভাপতি তো কোথাও মহাকুমা সভাপতির বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের সদস্য সরব হয়েছে। এখন মাঝিহীন নৌকার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে তৃণমূল। ওদের দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেই ওরা বিপর্যস্ত।”

অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে মতপার্থক্য থাকলেও অশোক দাসের ওপর এই হামলার ঘটনাকেও এদিন দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দেন তিনি। সব মিলিয়ে এবার মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতিকে আক্রমণ করে সেই তৃণমূলের কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হলেও খোদ জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের বক্তব্যে এই ঘটনায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে শাসক-বিরোধী তরজা চরমে উঠতে শুরু করেছে।

আপনার মতামত জানান -
Top