এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সারদা ও রোজভ্যালি কান্ডে এবার সিবিআইয়ের নজরে মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি

সারদা ও রোজভ্যালি কান্ডে এবার সিবিআইয়ের নজরে মুখ্যমন্ত্রীর আঁকা ছবি

সারদা রোজভ্যালি কান্ড নিয়ে ফের জট তৈরি হল। আর এবার জল্পনা বাড়িয়ে, সিবিআইয়ের প্রশ্নের মুখে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে আঁকা ছবি। নেত্রীর হাতে আঁকা ছবি কোন কোন প্রভাবশালী কিনতেন এবং এর পাশাপাশি ছবির প্রদর্শনী সহ বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত আয়-ব্যয়ের যাবতীয় তথ্য কলকাতা পুরসভার কাছে তলব করল সিবিআই। সম্প্রতি সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন এবং রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুন্ডু কেন্দ্রীয় সংস্থার কড়া জেরার মুখে স্বীকার করে নিয়েছেন যে মুখ্যমন্ত্রীর দুটো ছবি প্রদর্শনী থেকে বেশ মোটা অঙ্কের টাকায় তাঁরা কিনেছিলেন।

এছাড়া তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘেষের ৯১ পাতার চিঠিতেও উল্লেখ রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ছবির প্রসঙ্গ। এসবের তথ্যের উপর ভিত্তি করেই চিটফান্ড কান্ডের রহস্যের জট কাটাতে এদিন এই পদক্ষেপ নিল সিবিআই কর্তারা বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ২০ জানুয়ারী পর্যন্ত কলকাতার টাউনহলের ‘বেসমেন্টে’ মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বিক্রির জন্য একটি প্রদর্শনী করা হয়েছিল – এই টাউনহল পুরসভার আওতাধীন এবং যখন প্রদর্শনী হয় তখন পুরসভাটি তৃনমূলের দখলে ছিল।

গুঞ্জন, সেইসময় ওই প্রদর্শনীতে বেশ চড়া দামেই ছবিগুলো কিনেছিলেন বেশ কিছু প্রভাশালী ব্যবসায়ী। এঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আবার সারদা, রোজভ্যালির মত চিটফান্ড কোম্পানির কর্মকর্তাও ছিলেন বলে অভিযোগ। এঁরা কেন এতো মূল্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে আঁকা ছবি কিনেছিলেন, তাঁদের উপর ‘উপরমহলের’ কোনও চাপ ছিল কিনা সেবিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য জানতেই সিবিআই তদন্তে নেমেছে বলে জানা গেছে। তদন্তের সূত্র ধরেই কলকাতা পুরসভাকে তলব করা হয়েছে। এদিন সন্ধ্যায় পুরসভার এক প্রতিনিধি সিবিআই-এর দপ্তরে কিছু তথ্য জমা দিয়ে এসেছেন বলেও জানা গিয়েছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তবে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের এ ব্যাপারে কিছু জানেনা বলেই দাবী করলেন। তাঁর যুক্তি, সিবিআইয়ের তরফে তাঁর কাছে এই সংক্রান্ত কোনো চিঠি আসেনি। অন্যদিকে, এই ব্যাপারে মুখ খোলেননি পুর কমিশনার খলিল আহমেদও। উল্লেখ্য, এর আগে একজন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদের দায়িত্বে ২০১১ সালে শেক্সপিয়ার সরণীতে একটি বেসরকারি স্টুডিওতে মুখ্যমন্ত্রী ছবির একটি প্রদর্শনী হয়েছিল। সেখানেও বিক্রি হয়েছিল বেশ কিছু ছবি। ওই প্রদর্শনীর বিষয়ের তদন্ত করছে সিবিআই, বলে দাবি। স্টুডিওটি বর্তমানে বন্ধ হয়ে রয়েছে।

সিবিআই সূত্রে আরো জানা গেছে, ছবি বিক্রির ব্যাপারে জেরা করা হয়েছিল ব্যবসায়ী শিবাজী পাঁজাকে। টাউন হলে হওয়া প্রদর্শনীটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন তিনি, এমনটাই সিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি প্রদর্শনীর সূত্র ধরে বারবার যাঁর নাম উঠে আসে তিনি প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা বর্তমান হেভিওয়েট বিজেপি নেতা মুকুল রায়। পুরসভা সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে, সেসময় টাউন হল প্রদর্শনীর জন্য ভাড়া মেটানোর নথিতে মুকুল রায়ের স্বাক্ষর রয়েছে। বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জেরার সূত্রে উঠে এসেছে যে প্রদর্শনীতে ছবি বিক্রির টাকা মুকুল বাবুর কাছেই গচ্ছিত রাখা ছিল।

তবে মুকুলবাবু কিন্তু এইসব অভিযোগকে মানেননি। তিনি সাফ কথায় জানান, ছবি বিক্রির টাকা যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাখা হত তার দায়িত্বে তিনি ছিলেন না। একটি কোর কমিটি এই টাকার ব্যাপারটা সামলাতো। তবে সেইসময়ের দলীয় সাধারণ সম্পাদক থাকায় সংশ্লিষ্ট ভাড়ার নথি থেকে শুরু করে যাবতীয় চিঠিতে তাঁর সই থাকত। এছাড়াও মুকুলবাবুর এক ঘনিষ্ঠ অনুগামীর বক্তব্য, দাদা দল ছাড়ার বহুদিন আগে থেকেই তাঁকে এই সংক্রান্ত দায়িত্ত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ, এই ব্যাপারটি যাঁরা পরবর্তীকালে সামলাচ্ছেন, তাঁরা সেটা দাদার কাছ থেকে বুঝে নিয়েছিলেন – তাই তখন যদি কোন অভিযোগ উঠে না থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে এই ব্যাপারে দাদা আর নতুন কিছু জানেন না।

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নিজের আঁকা ছবির জেরে যদি লোকসভা ভোটের আগেই ঘোরতর বিপাকে পড়তে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে, তাহলে তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে এর একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমনিতেই সিবিআই দন্তের মুখে পড়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসক দল। কেননা, সারদা-নারদা-রোজভ্যালি চিটফান্ড কান্ডে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের ইতিমধ্যেই জেল খেটে আসতে হয়েছে। যদিও, তার পরিপ্রেক্ষিতে শাসকদলের দাবি – এগুলি ছিল বিজেপির সিবিআইকে দিয়ে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’। ফলে স্বাভাবিকভাবেই, এরপর এই মামলায় আরো কোনোভাবেই নিজেকে জড়াতে চাইবে না শাসকদল। সবমিলিয়েই সিবিআই তদন্তের জেরে ফের উদ্বেগ বেড়েছে জোড়াফুল শিবিরের বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!