এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা >  মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকেও থোড়াই কেয়ার! রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দিকে দিকে বিজেপির বিজয়মিছিল

 মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকেও থোড়াই কেয়ার! রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দিকে দিকে বিজেপির বিজয়মিছিল

সম্প্রতি নিহত তৃণমূল কর্মী নির্মল কুণ্ডুর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যে আর কোনো বিজয় মিছিল হবে না।” আর তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একটি দল নির্বাচিত হলে বা জয়লাভ করলে কেন তারা বিজয় মিছিল করতে পারবে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে বিজেপি।

কেননা এবারের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির ব্যাপক উত্থান ঘটেছে। অন্যদিকে 2014 সালের তুলনায় ভরাডুবি হয়েছে শাসকদল তৃণমূলের। ফলে সেদিক থেকে যখন কিছুটা মুষড়ে পড়েছেন শাসক দল তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা, ঠিক তখনই দলীয় কর্মী সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে বিজয় মিছিলে শামিল হচ্ছে বিজেপি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বিজয় মিছিল না করার কথা ঘোষণা করলে বিজেপির পক্ষ থেকে তার চরম বিরোধিতা করা হয়।

গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে পাল্টা জানানো হয়, যেনতেন প্রকারেন তারা এই বিজয় মিছিল করবেই। আর তাতে যদি পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে, তাহলেও কিছু যায় আসে না। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম বিজেপির এই টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত গেরুয়া শিবির তাদের বিজয় মিছিল করে কিনা, সেই দিকেই নজর ছিল গোটা রাজ্যবাসীর। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে সেই বিজয় মিছিল করা হল।

সূত্রের খবর, এদিন রায়গঞ্জের কসবার নেতাজি মোড় থেকে চন্ডীতলা পর্যন্ত বিজেপির পক্ষ থেকে একটি বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রের নারী শিশু কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ সহ অন্যান্যরা। কিন্তু যেখানে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় মিছিল করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন সেখানে তারা মিছিল করছেন কেন!

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন এই ব্যাপারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা আগেই লিখিত অনুমতি নিয়েছিলাম। কারও খামখেয়ালীপনার জন্য আমরা তা বন্ধ করে দিতে পারি না। মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন। আমাদের লোকেদের মিছিল করার অধিকার আছে। ওরা হেরেছে, তাই ওরা মিছিল নাও করতে পারে। আমরা সব জায়গায় মিছিল করব। বেশি বাড়াবাড়ি করলে পুলিশকে জানিয়ে দিয়ে বিনা অনুমতিতেই মিছিল হবে।”

তবে বিজেপি যখন রায়গঞ্জে বিজয় মিছিল করছে, ঠিক তখনই দলীয় নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে বীরভূমের আহমেদপুরে ডিজে নিয়ে বিজয় মিছিল করতে দেখা গেল শাসক দল তৃণমূলকে। যেখানে মিছিল শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বক্তব্য রাখেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের ছায়াসঙ্গী অভিজিৎ সিংহ এবং বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ অসিত মাল। কিন্তু যেখানে স্বয়ং তাদের দলের নেত্রী বিজয় মিছিল করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, সেখানে তারাই কেন নিয়ম ভঙ্গ করলেন!

এদিন এই প্রসঙ্গে অভিজিৎ সিংহ বলেন, “আমরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করলাম। কোনো বিজয় মিছিল করা হয়নি।” তবে তৃণমূলের বিজয় মিছিল নিয়ে পাল্টা শাসক দলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। এদিন এই প্রসঙ্গে বীরভূম জেলা বিজেপি সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, “দিকে দিকে জয় শ্রীরাম ধ্বনি শুনে তৃণমূল দিশেহারা হয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র বিজেপিকে ঠেকাতেই বিজয় মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু এভাবে বিজেপির উত্থান কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না।”

সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় মিছিলের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও পাল্টা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিজয় মিছিল করে সেই মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল গেরুয়া শিবির।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!