এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মুখ্যমন্ত্রী থেকে আমলা- আবার বিস্ফোরক অভিযোগ, শোরগোল ফেলে দিলেন রাজ্যপাল

মুখ্যমন্ত্রী থেকে আমলা- আবার বিস্ফোরক অভিযোগ, শোরগোল ফেলে দিলেন রাজ্যপাল


পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে নতুন শপথ গ্রহণ করেছেন জগদীপ ধনকার। রাজ্যপাল হিসেবে নতুন কর্তব্যভার গ্রহণ করার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের প্রধান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপালের সম্পর্ক মধুর থাকেনি। উল্টে পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনায় ক্রমাগত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের দূরত্ব।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র নিগ্রহের ঘটনা থেকে শুরু করে জিয়াগঞ্জে আরএসএস কর্মী সপরিবারে খুনের ঘটনায় রাজ্য সরকার এবং রাজ্যপাল দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেছেন। একাধিক ইস্যুতে মতানৈক্য তৈরী হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের। যার কারণে গোটা পরিস্থিতি যথেষ্ট ঘোরালো হয়ে পড়েছে বলে মত একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

আর এবার সেই বিবাদ আরও বৃদ্ধি পেল রাজ্যপালের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে পরপর দুটি সভায় সরকারি আমলাদের অনুপস্থিতিতে। জানা যায়, মঙ্গলবার উত্তর 24 পরগনায় ধামাখালি ও সজনেখালিতে রাজ্যপালের তরফ থেকে প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে দুটি বৈঠকের একটিতেও যোগ দিতে আসেননি প্রশাসনিক আধিকারিকরা। যার জেরে দুটি বৈঠকই বানচাল হয়ে যায়। আর এতেই চরম ক্ষুব্ধ হন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার।

রীতিমত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করে গোটা পরিস্থিতিকে সাংবিধানিক সংকট বলে ব্যাখ্যা করেন রাজ্যপাল। রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে এবং আমলাদের উদ্দেশ্যে তীব্র ভৎসনা করেন তিনি। বস্তুত, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জেলা সমাহর্তার তরফ থেকে রীতিমতো চিঠি দিয়ে রাজ্যপালকে জানানো হয় রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণ ছাড়া কোনো বৈঠকে যাওয়া সম্ভব নয়। আর এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্যপাল প্রশ্ন করেন, রাজ্যপাল কি রাজ্য সরকারের অধীনস্থ! রাজ্যপাল কথা বলতে চাইলে সরকারের অনুমতি লাগবে কেন!

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

শুধু প্রশাসনিক বৈঠকের ভেস্তে যাওয়াই নয়, গত 11 অক্টোবর কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত হওয়া দুর্গা কার্নিভাল অনুষ্ঠানকে কটাক্ষ করে রাজ্যপাল বলেন, “সবাই জানে 11 তারিখ চার ঘন্টা ধরে কার পাবলিসিটি হয়েছে!” তবে রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপালের যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে, তাকে যথেষ্ট আশঙ্কার নজরে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বস্তুত, এর আগে শিলিগুড়িতে রাজ্যপালের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে আসেননি তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সেই ব্যাপারেও যথেষ্ট ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার। আজ আবার ধামাখালি এবং সজনেখালি দুই জায়গাতেই সাংবিধানিক প্রধানের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠক ভেস্তে গেল।

যেখানে শুধু জেলা শাসকের অনুপস্থিতি নয়, রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে জেলাশাসক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণ ছাড়া কোনো সরকারি আধিকারিককে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব নয় এবং উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়ির সফরে সকল আধিকারিক ব্যস্ত রয়েছে। তার কারণে কেউ রাজ্যপালের সভায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

এরপরে বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই ডিএম, এসপি, জনপ্রতিনিধি কেউ উপস্থিত ছিলেন না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইতিপূর্বেই রাজ্যের সরকারের সঙ্গে নানান বিষয়ে রাজ্য সরকারের মতানৈক্য তৈরি হয়। সশরীরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় নিগ্রহের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত হওয়া থেকে শুরু করে জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা পর্যন্ত আবার দুর্গা কার্নিভালে রাজ্যপাল উপস্থিত থাকলেও তাকে যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন সাংবিধানিক প্রধান।

তিনি বলেন, “তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে অপমান করা হয়েছে। চার ঘণ্টা ধরে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও কোনো সংবাদমাধ্যমে তাকে দেখানো হয়নি এবং তার উপস্থিতির উল্লেখ কোথাও করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষের সুরে জানিয়েছেন, “চার ঘণ্টা ধরে কার পাবলিসিটি হয়েছে সেটা সবাই দেখেছে।”

কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রধানের সম্পর্কের যে তিক্ততা তৈরি হচ্ছে, তা আগামী দিনে সাংবিধানিক পরিস্থিতির জন্য মোটেই সুবিধাজনক নয়। এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে রীতিমতো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। আর তাই গোটা ঘটনা এখন কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই লক্ষ্য রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!