এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মুখ্যমন্ত্রী “সাধারণ জীবনযাত্রা” সরেজমিনে দেখে “চোখ কপালে” স্বয়ং রাজ্যপালের

মুখ্যমন্ত্রী “সাধারণ জীবনযাত্রা” সরেজমিনে দেখে “চোখ কপালে” স্বয়ং রাজ্যপালের

 

বিরোধী দলনেত্রী থাকার সময় থেকেই অত্যন্ত সাধারণ জীবন-যাপন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 30বি, কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের টালির চালেই আজও বাস করেন তিনি। আর একজন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের জীবনযাপন ভারতবর্ষের অনেক রাজনীতিবিদকেই মুগ্ধ করেছে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে দেখে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যের রাজ্যপাল হয়ে আসার পর থেকেই ধনকারের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব বাড়তে থাকে রাজ্য সরকারের। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজ্যপালের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল তুলে দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়রা। স্বাভাবিক ভাবেই এই গোটা ঘটনা রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সম্পর্কে তিক্ততাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করেছিল রাজনৈতিক মহল।

কিন্তু এরই মাঝে হঠাৎ করেই ভাইফোঁটা ফোঁটা দিতে চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লেখেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার। তবে ভাইফোঁটা নয়, নিজের বাড়িতে কালীপুজোয় সেই রাজ্যপালকে সস্ত্রীক আমন্ত্রণ জানান মুখ্যমন্ত্রী। আর এরপরই কালীপুজোর দিন সন্ধ্যা ছটা নাগাদ নিজের সহধর্মিনীকে সঙ্গে নিয়ে কালিঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আসেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সূত্রের খবর, কালীপুজোয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে রাজ্যপাল এবং তার স্ত্রী আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের অভ্যর্থনা জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিজের পরিবার, পরিজনদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে নিজের ঘরে সস্ত্রীক রাজ্যপালকে নিয়ে যান তিনি। নিজের ঘরেই রাজ্যপালকে বসিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখানে অটল বিহারী বাজপেয়ী এসেছেন, লালকৃষ্ণ আডবানীজী এসেছেন।”

যা শুনে রীতিমতো হাসি ফুটে উঠে রাজ্যপালের মুখে। আর এরপর ফের সেই ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির মাতৃপ্রতিমাকে প্রনাম করে এতদিন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সবথেকে বেশি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতেন, সেই পার্থবাবুকে “নিজের বন্ধু” বলে জড়িয়ে ধরেন রাজ্যপাল।

পাশাপাশি সন্ধ্যাবেলা থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা গান বাজায় সেই গানের সিডি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চেয়ে নেন রাজ্যপাল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সাদামাটা বাসভবন দেখে এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে রাজ্যপাল বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী কিভাবে এরকম ছোট ঘরে থাকেন!”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ জীবনযাপনই তার কাছে ইউএসপি। অতীতে বিগত বাম আমলে বিরোধী নেত্রী থাকার সময়ে ভারতবর্ষে রেলমন্ত্রী হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধারণ জীবনযাপনের কারণেই মানুষ তাকে পছন্দ করত।

আর এবার রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের দূরত্ব তৈরি হলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আতিথিয়তা এবং তার বাসভবন দেখে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান চোখ কপালে উঠে যাওয়ায় অনেকেই বলছেন, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাধারণতা তার সাফল্যের অন্যতম কারণ।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!