এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভায় থাকছেন না একাধিক হেভিওয়েট! ক্রমশ বাড়ছে জল্পনা

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভায় থাকছেন না একাধিক হেভিওয়েট! ক্রমশ বাড়ছে জল্পনা

 

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মিনি মহাকরন নিয়ে জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করতে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সরকারের এই প্রশাসনিক বৈঠকে স্থানীয় বিরোধীদলের জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হয় না বলে মাঝেমধ্যেই অভিযোগ ওঠে। এতদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সেই অভিযোগ না উঠলেও, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের আগে সেই অভিযোগই সরকারের বিরুদ্ধে প্রকট হতে শুরু করল।

বস্তুত, আর কিছুক্ষণের অপেক্ষা। তারপরেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর প্রশাসনিক বৈঠক করতে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক প্রধানের এই জেলা সফরকে কেন্দ্র করে গঙ্গারামপুর স্টেডিয়ামে সাজো সাজো রব। তবে এতদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বিজেপির দাপট না থাকলেও লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্র দখল করার পরই অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে।

তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের হারের পেছনে বিপ্লব মিত্রকে দায়ী করে জেলা তৃণমূল সভাপতি হিসেবে বিপ্লববাবুকে সরিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার পরেই সেই বিপ্লব মিত্র দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায় সহ একাধিক সদস্যকে নিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। তবে এবার সেই বিপ্লব মিত্রের গড় গঙ্গারামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করতে আসলেও জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ বিজেপিতে চলে যাওয়া জনপ্রতিনিধিদের না ডাকা নিয়ে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।

সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পাননি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায়, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মফিজুদ্দিন মিঁয়া এবং গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কালিপদ সরকার। যে ঘটনা এখন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তাহলে কি বিজেপির উত্থানে আতঙ্কিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? আর তাই কি পরিকল্পনা মাফিক বিজেপিতে চলে যাওয়া জনপ্রতিনিধিদের জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হল না!

এদিন এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায় বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ থাকায় কয়েকদিন ধরে দপ্তরে যেতে পারিনি। তবে প্রশাসনিক সভায় উপস্থিত হওয়ার কোনো চিঠি আমি পাইনি। জেলা প্রশাসনের কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। প্রশাসন জানালে নিশ্চয়ই সভায় হাজির থাকতাম।”

অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মফিজুদ্দিন মিঁয়া বলেন, “তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান করে এখন আমরা বিরোধী শিবিরে চলে এসেছি। সাংবিধানিক পদ থাকলেও আমাদের কোনো মূল্য সরকারের কাছে নেই। আমাকে, সভাধিপতিকে কাউকেই প্রশাসনিক সভায় ডাকা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক মিটিং নয়, রাজনৈতিক মিটিং করতে এসেছেন। তা না হলে আমরা ডাক পেতাম। এই বৈঠকে আমাদের না ডাকায় আশ্চর্য হচ্ছি না। এটাই স্বাভাবিক।”

এদিকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্যই প্রতিহিংসাবশত বিজেপির উত্থানে আতঙ্কিত হয়ে জেলা প্রশাসনের এই বৈঠকে তাদের জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি শুভেন্দু সরকার।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

 

এদিন তিনি বলেন, “আমাদের দলে যোগদানকারী জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকেনি জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বোঝেন না। তাই বিরোধীদের ন্যূনতম মর্যাদা তার সরকার দেয় না। প্রশাসনিক বৈঠকের নামে এখানে সাধারণ মানুষের টাকার শ্রাদ্ধ হচ্ছে। জেলায় অনেক সমস্যা রয়েছে। সেগুলোর সমাধান করা হোক।”

তবে এই ব্যাপারে কি বলছে তৃণমূল কংগ্রেস! এদিন এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী অর্পিতা ঘোষ বলেন, “আমি জেলা প্রশাসনের প্রধান নই। প্রশাসনিক মিটিংয়ে কে কে আসবেন, সেটা আমার জানা নেই। এটা প্রশাসন দেখছে। আর মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক মিটিং নিয়ে কে কি বলল, তাতে আমাদের মাথাব্যথা নেই।”

তবে অর্পিতাদেবী যে কথাই বলুন না কেন, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপ্লব মিত্র বিজেপিতে যোগদানের পর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় অনেকেই বিজেপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। যার ফলে দিনকে দিন তৃণমূল অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। আর এই পরিস্থিতিতে সেই বিপ্লব মিত্রের গড়ে প্রশাসনিক বৈঠক করলেও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানকারী জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ না করে বিজেপির উত্থান কমানোর চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে মত সমালোচক মহলের। তবে এতে করে কি তৃণমূল ব্যাকফুটে চলে যাবে না! এখন এই সব জল্পনাই উসকে উঠতে শুরু করেছে সব মহলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!