এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > কাজ হয় নি – মুখ্যমন্ত্রীর রুদ্রমূর্তি দেখলেন উত্তরবঙ্গের আমলারা, দেওয়া হল চরম সময়সীমা

কাজ হয় নি – মুখ্যমন্ত্রীর রুদ্রমূর্তি দেখলেন উত্তরবঙ্গের আমলারা, দেওয়া হল চরম সময়সীমা

জল্পনা ছিলো সেরকমই। কোচবিহার জেলা সফরে এসে সেই জল্পনারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যের উন্নয়নে তিনি যে কখনোই কাউকে রেয়াত করবেন না সেই ব্যাপারে বারে বারে বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কর্ম কেই ধর্ম বলে বিশ্বাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ব্যাপারে বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে দলীয় নেতাদেরও দিয়েছেন সতর্কবাণী। সঠিক কাজ করলে কোনো অফিসার পেয়েছে তার পুরস্কার, আবার ঢিলেমিতে কেউ বা তার তিরস্কারের সম্মুখীনও হয়েছেন।

সূত্রের খবর, গতকাল কোচবিহার জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে কাজে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়তে হলো জেলা প্রশাসনকে। জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা আগেই এদিন “উৎসব” অডিটোরিয়ামের নিজের প্রশাসনিক সভায় চলে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেন এই কোচবিহার জেলায শিল্পে পিছিয়ে রয়েছে তা নিয়ে সাত দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসনকে সঠিক পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন তিনি।

পাশাপাশি ভবানীগঞ্জ বাজারে সংস্কার নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এরপরই জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। উদ্বাস্তুদের দলিল, ছিটমহল, জমির স্বত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের জবাব দিতে ওঠা এক আধিকারিক কিছুটা ইতস্তত বোধ করলে এদিন বেজায় চটে যান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

তিনি বলেন, “টেন্ডার, অ্যামেন্ডমেন্ট, প্রসেস করার জন্য বছরের পর বছর চলে যায়। আমি নিজে না ধরলে হয় না। আমি কি রোজ তোমাদের সঙ্গে ঝগড়া করবো? তিন দিনের মধ্যে অর্ডিন্যান্স করে ওদের জমির অধিকার দিয়ে দাও। আমি কোনো কথা শুনবো না।” এদিকে এদিনের এই বৈঠকে দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ দুটি সাবেক ছিটে কিছুই হয়নি বলে মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ করলে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। রুদ্রমূর্তি ধারণ করে কর্ম পিপাসু মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যা কাজ পড়ে আছে তা 15 থেকে কুড়ি দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো প্রজেক্ট ব্লক করবেন না। কাজ ঝোলাবেন না। এইসব মনোভাব পরিবর্তন করুন।”

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের এই বৈঠকে রাগের পারদ আরও সপ্তমে পৌঁছয়, যখন তিনি শোনেন যে, এই জেলায় এখনও 150 কোটি টাকা বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে। নাম না করে এই বকেয়া বিলের আন্দোলনের পেছনে থাকা গ্রেটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “কেউ কেউ প্ররোচনা দিয়ে বলছে, তোমরা বিল দিও না। আমি সকলকে অনুরোধ করছি, এক বছরের মধ্যে তিনটি পর্যায়ে বিল মেটান। বিদ্যুৎ বন্ধ হলে সেই নেতা আপনাদের দায়িত্ব নেবে তো? সরকার আপনাদের কন্যাশ্রী, বিনা পয়সায় চাল, যুবশ্রী, সবুজসাথী সবকিছু দিচ্ছে। এবার আমি রান্না করে খাইয়ে দেবো নাকি? আমি আর কত দায়িত্ব নেব?”

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

একাংশের মতে, এদিন একদিকে এই কোচবিহার জেলায় কাজের ঢিলেমি নিয়ে প্রশাসনকে যেমন কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তেমনি বকেয়া বিদ্যুতের বিল নিয়ে গ্রেটারদের সতর্ক করে দিলেন তিনি। আর কর্মপ্রিয় প্রশাসনিক প্রধানের এহেন উদ্যোগে বেজায় খুশি গোটা কোচবিহার জেলার মানুষ।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!