এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ক্রমশ বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ ও জেলার চিকিৎসার চিত্র – ২ কোটি রোগীর বড় হিসাব রাজ্য সরকারের

মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ক্রমশ বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ ও জেলার চিকিৎসার চিত্র – ২ কোটি রোগীর বড় হিসাব রাজ্য সরকারের

শিয়রে লোকসভা ভোট। নিজেদের ভাবমূর্তির স্বচ্ছতা প্রকাশের পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ণের খতিয়ান সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে মরিয়া রাজ্যসরকার। সেই সূত্র ধরেই এদিন গ্রামীন এবং জেলার চিকিৎসার চালচিত্র বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরল প্রশাসন। তৃণমূল শাসনেই রাজ্যের চিকিৎসা হাল ফিরেছে।

২০১৬ সালে দ্বিতীয় বারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার নেপথ্যে ছিল স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তাঁর হাতে চালু হওয়া একাধিক জনমুখী প্রকল্প। ২০১৫ সালের শেষের দিকেই সমস্ত ধরণের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা বিনামূল্যে করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান,সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ইত্যাদি জনস্বার্থমুখী প্রকল্প ব্যাপক জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছিল নেত্রী। তার প্রমাণই দ্বিতীয় বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতায় তাঁর অভিষেক। এমনটাই মতামত অভিজ্ঞমহলের৷

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নেত্রীর জনস্বার্থমুখী প্রকল্পগুলো তাকে কতোটা জনপ্রিয় করেছে সে তথ্য পাওয়া গেল এদিন। স্বাস্থ্যদপ্তরের সমীক্ষায় উঠে এসেছে,রাজ্য জুড়ে সরকারি ক্ষেত্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা চালু করার ফলে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুবছরে গ্রাম এবং হাসপাতাল গুলোতে রোগী বেড়েছে ২ কোটি। মেডিক্যাল কলেজগুলোর হিসাব ধরলে সেই সংখ্যা অনেক বেশি, এতে সন্দেহ নেই কোনো।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, গ্রামীণ স্তরের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্র ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা গ্রামীণ হাসপাতাল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর আউটডোরগুলিতে ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে ৪ কোটি ৭২ লক্ষ রোগী পরিষেবা পেয়েছিলেন। পাশাপাশি সবেমাত্র চালু হওয়া মুখ্যমন্ত্রীর বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার ফলও মিলতে শুরু করল। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে এই সরকারি হাসপাতালগুলির আউটডোরে আসা রোগীর সংখ্যা এক ধাক্কায় বেড়ে ৫ কোটি ৪০ লক্ষ হল। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে গেল।

আউটডোর গুলো রোগীদের ভীড়ে গমগম করতো। লাইন হাসপাতাল ছাড়িয়ে কোথাও কোথাও ২০০-৩০০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে যেতো। গত অর্থবর্ষে গ্রামীণ হাসপাতাল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৬ লক্ষ। ফলত মমতার বিনামূল্যের চিকিৎসা প্রকল্প চালু করার পর শুধু প্রত্যন্ত গ্রামের হাসপাতালের আউটডোরে রোগীর সংখ্যা দু’বছরে অবিশ্বাস্যভাবে ১ কোটি ৩৪ লক্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যান্য শীর্ষ সূত্রের খবর, বাংলার জেলা মহাকুমা এবং স্টেট জেনারেল হাসপাতালেও মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পের যে সাড়া মিলেছে তা চমকপ্রদ। ২০১৫ সালে রাজ্যের এইসব হাসপাতালগুলির আউটডোরে রোগী এসেছিলেন ১ কোটি ৫৮ লক্ষ। বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ফলে ২০১৬ সালে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করে অনেকটা বেড়ে হল ১ কোটি ৮৬ লক্ষ। ২০১৭ তে আরো বেড়ে দাঁড়াল ২ কোটি ০৯ লক্ষ। ফলত হিসাব বলছে,মাত্র দুবছরে জেলার সবথেকে বড় হাসপাতালগুলোর আউটডোরে রোগী বাড়ক ৫১ লক্ষ!

শুধু আউটডোর নয়,এসব জায়গায় ইন্ডোরেও রোগী লাফিয়ে বেড়েছে। ২০১৫ তপ ২৪ লক্ষ,২০১৬ তে ২৮ লক্ষ এবং ২০১৭ তে বেড়ে হয়েছে ৩১ লক্ষ। ফলে দুবছরের ফারাকে ইন্ডোরে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ। ফলত বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার ফলে গ্রাম ও জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯২ লক্ষ। এভাবেই যদি পরিষেবা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে প্রত্যন্ত এলাকার হাসপাতালগুলিতে ইন্ডোর রোগীর সংখ্যা নিঃসন্দেহে দুকোটি ছাড়াবে,এমনটাই মত শীর্ষ কর্তাদের। এই প্রকল্প চালুর সময় স্বাস্থ্য অধিকর্তা ছিলেন ডাঃ বিশ্বরঞ্জন শতপথী।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

পাশাপাশি আরো জানালেন পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের অন্য কোনো রাজ্যে সরকারি ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরিষেবা ফ্রি নেই। এটি রাজ্যসরকারের একটি অন্যন্য পরিষেবা। অন্যদিকে,এই প্রকল্পটিকে ‘অভূতপূর্ব ‘ বলেই ব্যাখ্যা করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজ্যেরসব সাধারণ মানুষ যে কীভাবে উপকৃত হচ্ছেন,তার স্পষ্ট প্রমাণ পরিসংখ্যানে উঠে আসা এই তথ্য।

Top
Close
error: Content is protected !!