এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে, শিশির-সোমনাথের ঠান্ডা লড়াইয়ে জল্পনা

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে, শিশির-সোমনাথের ঠান্ডা লড়াইয়ে জল্পনা

লোকসভা নির্বাচনে দুর্নীতি এবং জনসংযোগের অভাবের জন্য তৃণমূলের ফলাফল অনেকটাই এরাজ্যে খারাপ হয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন জায়গায় উত্থান ঘটেছে গেরুয়া শিবিরের। তবে তৃণমূলের শক্ত গড় হিসেবে পরিচিত অধিকারী গড়ে জয়লাভ করেছে শাসকদল।

অনেকে বলছেন, দুর্নীতি এবং জনসংযোগের অভাবের পাশাপাশি দলীয় স্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও এবার তৃণমূলকে অনেকটাই ডুবিয়ে দিয়েছে। আর এবার সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কিছুটা আঁচ পাওয়া গেল দিঘায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের ঠিক আগে। জানা যায়, এদিন মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক বৈঠক উপলক্ষে জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ, সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, বিধায়ক, মন্ত্রী, সাংসদদের ডাকা হয়েছিল। মঞ্চের সামনে নিচের প্রথম সারিতে বসে ছিলেন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সোমনাথ বেরা সহ জেলার বিধায়করা।

কিন্তু সূত্রের খবর, আশ্চর্যজনক ভাবে মুখ্যমন্ত্রী সেই মঞ্চে আসার কিছু সময় আগেই কাঁথির তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী সেই সোমনাথ বেরাকে সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে শুধু চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়াই নয়, শিশির অধিকারী এদিন কার্যত উত্তেজিত ভাবেই সেই সোমনাথ বেরাকে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। যার জেরে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠতে শুরু করে। আর এরপরই ভগবানপুরে তৃণমূল বিধায়ক অর্ধেন্দু মাইতি সেই সোমনাথ বেরাকে বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে পেছনের আসনে বসানোর ব্যবস্থা করেন।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

কিন্তু মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে চলে যান সোমনাথবাবু। কিন্তু কেন শিশির অধিকারী এইভাবে সোমনাথ বেরাকে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বললেন! তিনি তো তৃণমূলেরই জেলা পরিষদের সদস্য এবং কর্মাধ্যক্ষ! অনেকে বলছেন, চাকরি পাইয়ে দেওয়া, সরকারি প্রকল্পে উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া সহ বিভিন্ন অভিযোগে নাম জড়িয়েছে জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সোমনাথ বেরার। আর তাই মুখ্যমন্ত্রীর সামনে যাতে তিনি না থাকেন, তার জন্যই অস্বস্তি কাটাতে সেই সোমনাথ বেরাকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিশির অধিকারী বলে মনে করছে একাংশ।

এদিন এই প্রসঙ্গে কাঁথির তৃণমূল সাংসদ তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি শিশির অধিকারী বলেন, “বৈঠকে মঞ্চের সামনে বসার আসনের প্রথম সারি বিধায়কদের জন্য নির্ধারিত ছিল। সোমনাথ ওই আসনে বসায় ওকে সরে যেতে বলা হয়‌। পদ্ধতি মেনে এটা করা হয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই।”

অন্যদিকে তিনি এক বিধায়কের পাশে বসে কথা বলছিলেন। কেন শিশিরবাবু তার সাথে এরকম করলেন! তা তার জানা নেই বলে জানান সেই সোমনাথ বেরা। সব মিলিয়ে একদিকে দুর্নীতিকে ঢাকা দিতে, আর অপরদিকে সেই দুর্নীতি ঢাকতে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে নিয়ে চলে এলেন তৃণমূলের শিশির অধিকারী। যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক বৈঠকের আগে তৃণমূলের কাছে অত্যন্ত অস্বস্তির বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!