এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সন্দেশখালিতে বিজেপি কর্মীরা নাকি নিজেদের গুলিতেই মারা গেছেন! নতুন তত্ত্ব মুখ্যমন্ত্রীর

সন্দেশখালিতে বিজেপি কর্মীরা নাকি নিজেদের গুলিতেই মারা গেছেন! নতুন তত্ত্ব মুখ্যমন্ত্রীর

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে একের পর এক হিংসার ঘটনা হতবাক করে দিয়েছিল সকলকে।সম্প্রতি সন্দেশখালিতে 2 বিজেপি কর্মীর মৃত্যু রাজ্যের আইনশৃঙ্খলাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আর এদিন এই নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কেননা তিনি মুখ্যমন্ত্রী আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বটে। তাই আইন শৃঙ্খলার ব্যর্থ রূপ বেরিয়ে পড়লে তাকে তো জবাবদিহি করতে হবে এমনটাই মত রাজনৈতিকমহলের।

যদিও এর আগেও কোনো ঘটনা নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিলে সেখানে বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন যে, একে মুখ্যমন্ত্রী বরাবরই কাউকে জবাব দিতে পছন্দ করেন না। নিজের মতো করে ভাবেন।যদিও ব্যাখ্যা দেন তবে তা আবার নিজের মতো করেই কেন ঘটনা ঘটল তার ব্যাখ্যা করেন। এবারেও সম্প্রতি সন্দেশখালিতে 2 বিজেপি কর্মীর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। শুধু মুখ খুললেন না এই ব্যাখ্যাও দিলেন যা ফের তাঁকে বিরোধীদের অভিযোগের আগে দাঁড় করলো।

সন্দেশখালি ঘটনায় যখন উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, ঠিক তখনই এই ব্যাপারে মুখ খুলে রীতিমত সকলকে অবাক করে দিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, গতকাল হেয়ার স্কুলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজনৈতিক কর্মী হওয়ার আগে একজনকে মানবিক হতে হবে। ওদের দুজন মারা গিয়েছে, তারা কেন মারা গিয়েছে! মাথায় রাখবেন ওরাই প্রথম আমাদের কর্মী কায়ুমকে মেরেছিল। আসলে নিজেদের গুলিতেই নিজেরা মারা গিয়েছে কিনা এই ব্যাপারটা দেখতে হবে।”

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

সমালোচকদের মতে, বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটা স্বভাবের মধ্যে পড়ে যে তিনি কোনো ঘটনার তদন্ত হওয়ার আগেই নিজের মতো করে তার ব্যাখ্যা দেন। আর প্রশাসনিক প্রধান নিজের মত করে ব্যাখ্যা দেওয়ায় পুলিশ আর তার বাইরে যেতে পারে না। ফলে তদন্তে ঘাটতি থেকেই যায়। এক্ষেত্রেও সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে যখন তৃণমূলের দিকে অভিযোগ আসছে, ঠিক তখনই বিজেপি কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের গুলিতে মারা গিয়েছে কিনা তাতে সন্দেহ প্রকাশ করে সেই তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করলেন বলেই মনে করছে একাংশ। এদিকে লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে যে 10 জন খুন হয়েছে, তাদের সকলের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও এদিনের হেয়ার স্কুলের মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পাশাপাশি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট দিয়ে আসলে এদিন সেই প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। তিনি বলেন, “মারা গিয়েছেন 10 জন, আর গভর্নর বলে এলেন 12 জন খুন হয়েছে। একটা সংবাদমাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন। আমি রাজ্যপালকে সম্মান করি, কিন্তু তার রাজনৈতিক ভাষণকে সম্মান করি না। আজকে সমস্ত বিচার পাওয়ার সংস্থাগুলি বিক্রি হয়ে গেছে। আমি এর বেশি কিছু বলছি না।”

অন্যদিকে এদিনের মঞ্চ থেকে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যেও বেনজির আক্রমণ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মিডিয়া এখন বিজেপির পকেটে। উত্তরপ্রদেশে 25 জন যাদব খুন হয়েছে। সেটা কেউ লিখবে না। ফেসবুক দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে গিয়ে এখন মানুষ আর বিচার পায় না।”

এদিকে তৃণমূলের তরফে দাবি যে তিনি হাওয়ায় ভেসে কথা বলেন না। তিনি রাজ্যের মুখমন্ত্রী ফলে এই সব খবর তাঁর কাছে থাকে। মনে রাখতে হবে তিনি পুলিশ মন্ত্রীও। তাই কোনো ভুল কিছু তিনি বললেন না. তদন্তে এটাই বেরোবে।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী সাধারণ মানুষ সমস্ত সংস্থাগুলির কাছে বিচার না পেলেও বাংলার প্রশাসনিক প্রধান হয়ে তিনি ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর যেভাবে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মীরা খুন হয়ে গিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে কতটা দলমত নির্বিশেষে রাজনীতির রং না দেখে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিকমহলে।।

Top
error: Content is protected !!