এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বিদায়বেলায় মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে বিজেপি যোগের সম্ভাবনা উস্কে দিলেন কুনাল ঘোষ

বিদায়বেলায় মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে বিজেপি যোগের সম্ভাবনা উস্কে দিলেন কুনাল ঘোষ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্য দুই নেতা অনুপম হাজরা ও দক্ষিণ কলকাতার নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের মতো সোস্যাল মিডিয়া কে নিজের কথা জনসমক্ষে বলার জায়গা হিসেবে বেছে নিলেন একদা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয়পাত্র কুণাল ঘোষ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সারদাকাণ্ডে অভিযুক্ত কুণাল ঘোষ দীর্ঘ জেলজীবন থেকে মুক্তি পেলেও নিজের বসবাসের এলাকা নারকেলডাঙা তে কার্যত বন্দী হয়ে ছিলেন। গত ৭ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি দেশের যে কোনও জায়গায় যাওয়ার অনুমতি পান। আর সেদিনই তিনি ফেসবুকে পোস্ট করলেন – ”অবশেষে আর শুধু নিজের বাড়ির নারকেলডাঙা থানা এলাকার গণ্ডিতে থাকা নয়, সারা দেশের যে কোনও জায়গায় যেতে পারব।” এরপর মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তিনি বেরিয়ে পরেন প্রথমে যান বাঁকুড়া ও পরে শিলিগুড়ি । আগামী ২ এপ্রিল শেষ হচ্ছে তাঁর সাংসদ পদের মেয়াদ। তাই মেয়াদ শেষের একদম শেষ পর্যায়ে বিমানে চড়ে দিল্লি গেলেন কুণাল বাবু। সাংসদ পদে আসীন থেকে ও জেল জীবন এবং মুক্তির পরে নজরবন্দী থাকার সুবাদে দীর্ঘকাল সংসদে উপস্থিত থাকতে পারেন নি কুণাল ঘোষ। এদিন সকালেই সংসদে গিয়ে সংসদের বাইরে ও ভিতরের ছবি পোস্ট করেন এবং কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জয়রাম রমেশের সঙ্গে সাক্ষাত্‍ প্রসঙ্গে জানিয়ে দেন, ”আমার বয়স এখনও ৫০ হয়নি। আগামী জীবনে আরও একটা ইনিংস খেলব। সকলের আশীর্বাদ চাই।” এরপর বিজেপি সাংসদ অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের সঙ্গেও একটি ছবি দিয়েছেন যাতে কোনও দোষ না করেও রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন ও দলনেত্রীর বিরাগভাজন হতে পারেন । শুধু ছবিতেই থেমে থাকলেন না সাথে লিখলেন , ”রাজ্যসভায় আমার নতুন আসনটির ঠিক পাশে শান্তা ছেত্রী। তার পাশে দোলা (সেন)। সৌজন্যের গপ্পো হল একটু। শুনেছিলাম তৃণমূল থেকে দূরত্ব বোঝাতে আসন বদল হয়েছে আমার। এত পরিশ্রম করে বদলানোর কী ছিল, যেখানে পাশে শান্তাদি আর দোলা!” এছাড়াও একদা ইভিএম মেশিনের সাহায্যে নির্বাচনের পদ্ধতি পরিচালনার দাবিতে মুখর তৃণমূল কংগ্রেসের ইভিএম বিরেধীতা কটাক্ষ করে কুণাল বাবু বললেন, ”সকালে দেখলাম তৃণমূল সাংসদরা গান্ধীমূর্তিতে বিক্ষোভ করছেন। দাবি- ইভিএম হঠাও, ব্যালট ফেরাও। একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখলাম। অন্য দলের দু-একজন জিজ্ঞেস করলেন, আমি সামিল হচ্ছি না কেন? বললাম, রাজনীতি থেকে দূরে আছি বলে কিছু বুঝতে পারছি না। আগে আমরা বলতাম ব্যালট হঠাও, ইভিএম লাও। সিপিএম ব্যালট লুঠ করে। ইভিএম দিয়েই পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালে পরিবর্তন এসেছিল। এতদিন পর ইভিএম হঠাও শুনে সব গুলিয়ে ফেলেছি। দূর থেকে বোঝার চেষ্টা করছি।” তিনি দলে থেকে দল বিরোধী কথা বার্তা বলছেন , সাধারণ মানুষের মনে যাতে কুণাল বাবু সম্পর্কে এমন ভুল ধারণা না হয় সেই কারণে তিনি পোস্ট করলেন ,”কিছু বিষয়ে তৃণমূলের সঙ্গে আমার মতপার্থক্য আছে। আমি তৃণমূলের কঠিন সময়ের কর্মী ছিলাম। আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। তবুও, যেহেতু তৃণমূলই আমাকে সাংসদ করেছিল, দলকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” কী আছে কুণাল বাবুর ভবিষ্যত পরিকল্পনা , জনমানসে তৈরী হওয়া এমন প্রশ্নের মুখোমুখি না হয়েও মানুষের কৌতুহল আন্দাজ করেই কুণাল বাবু জানালেন, ”জীবন জটিল ও দীর্ঘ। জানি না ঈশ্বর কী করাবেন। চোখ খুলে, মন খুলে, আগের ভুল না করে, বেঁচে থাকার লড়াই অব্যাহত রেখে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। তার পর দেখা যাবে।”

আপনার মতামত জানান -
Top