এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে অনুপস্থিত অনেক জেলা পরিষদের সদস্য, জোর জল্পনা

মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে অনুপস্থিত অনেক জেলা পরিষদের সদস্য, জোর জল্পনা

লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূল 22 টা আসন পেলেও তা নিঃসন্দেহে তাদের কাছে চিন্তার কারণ বলে দাবি করেছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেননা বিজেপি এবারে এই বাংলায় 18 টা আসন নিজেদের দখলে রেখেছে। যা শাসক দল তৃণমূলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলার সামিল।

এদিকে বিজেপি বাংলায় এই অভূতপূর্ব ফলাফল করার পরই দিকে দিকে তৃণমূলের অনেক জনপ্রতিনিধিরা গেরুয়া শিবিরে যোগদান করতে শুরু করেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রথম দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের অনেক সদস্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। আর এই পরিস্থিতিতে একুশে জুলাই সমাপ্ত হওয়ার পর গত সোমবার নবান্নের সভাগৃহে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যেখানে 33 আসন বিশিষ্ট কোচবিহার জেলা পরিষদের মোট 28 জন সদস্য মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। যা নিয়ে এবার ছড়িয়ে পড়েছে জল্পনা। জানা গেছে, 33 আসন বিশিষ্ট এই কোচবিহার জেলা পরিষদে 32 জন সদস্য তৃণমূলের থাকলেও একজন নির্দল হয়ে জিতেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় কোচবিহার জেলা পরিষদ বিরোধী শূন্য হয়ে যায়। হিসেব মত 33 জন সদস্যেরই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এই বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে নবান্নের সভাগৃহে কোচবিহার জেলা পরিষদের মোট 28 জন সদস্যকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

জানা গেছে, বাকিরা নানা সমস্যার জন্য এদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। কিন্তু যেখানে খোদ দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের ডাক দিয়েছেন, সেখানে কি এমন জরুরী সমস্যা ছিল জেলা পরিষদের সদস্যদের! যার কারনে তারা সেখানে উপস্থিত থাকতে পারলেন না! তা নিয়েও উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

অনেকে বলছেন, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে যেভাবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে গিয়েছে, তাতে হয়ত এই কোচবিহার জেলাতেও সেই প্রভাব পড়তে পারে। এক পক্ষের মতে, কিছুদিন আগেই এই কোচবিহার জেলায় খারাপ ফলাফল হওয়ার কারণে জেলার সভাপতির পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে সরিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিনয়কৃষ্ণ বর্মন এবং রবি ঘোষের বিরুদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত পার্থপ্রতিম রায়কে।

আর তারপর থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও তার অনুগামীদের সেইভাবে দেখা যায়নি। ফলে সেই রবিবাবু বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলেও জল্পনা ছড়িয়েছিল। আর এরই মাঝে কোচবিহার জেলা পরিষদের 33 জন সদস্যের মধ্যে 28 জন সদস্যের উপস্থিতি এবং বাকিদের অনুপস্থিতি বিজেপি যোগের জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

অনেকে বলছেন, তৃণমূল দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শেষ কথা। তার নির্দেশ অমান্য করবে এমন ব্যক্তি তৃণমূলে প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু যেভাবে দলের সদস্য হয়েও নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেন কোচবিহার জেলা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য, তাতে এবার যে তৃণমূল দলের নেত্রীর উপরেও অনেকে আগবাড়িয়ে নিজের মতো করে পথ চলতে সাহস দেখাচ্ছেন, তা বুঝতে বাকি নেই কারোরই।

Top
error: Content is protected !!