এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, নিলেন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, নিলেন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

Priyo Bandhu Media


 

আলু থেকে পেঁয়াজ, বেগুন থেকে পটল, সকালবেলা আড় ভেঙে মধ্যবিত্ত বাঙালি বাজারে গেলেই যেন তাদের চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায়। গৃহিনীর মান ভাঙাতে টাটকা সবজি নেবেন! কিন্তু পকেটের যে করুণ দশা! নিত্য প্রয়োজনীয় যে জিনিসেই হাত দিন না কেন, সেখান থেকেই আগুনের গোলা বেরোতে শুরু করবে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বর্তমানে এই নিয়ে প্রবল চর্চা চলছে।

একটি পোস্টে অনেক পেঁয়াজের ছবি দিয়ে তার নিচে লেখা রয়েছে, “আগে কাটতে হলে চোখে জল আসত, এখন দাম শুনলেই!” আর এবার চড়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা, মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা সহ একাধিক সরকারি পদস্থ আমলারা। আর এই বৈঠক থেকেই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে টাস্কফোর্স গঠন করার ঘোষণা করে দেন তিনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আলু যা আছে, তা পর্যাপ্ত। আলোর কোনো ঘাটতি হবে না। ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চলে যাবে। তবে পেঁয়াজ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। কিন্তু দাম কমানোর জন্য কাল থেকেই প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এক সপ্তাহের মধ্যে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে। পুলিশ এবং এনফোর্সমেন্টকে ফড়েদের ঠেকাতেও বলা হয়েছে।”


WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

আর চড়া দাম নিয়ন্ত্রণে মুখ্যমন্ত্রীর এই টাস্কফোর্স গঠন করার উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে শুরু করেছেন অনেকেই। একাংশ বলছেন, বিরোধীদের তরফে এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারকে ইতিমধ্যেই কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। আর তাই এই পরিস্থিতিতে সরকার যে হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই, তা প্রমাণ করবার জন্যই নবান্নের বৈঠক থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এদিকে এদিনের বৈঠক থেকে রাজ্যের মোট 15 লক্ষ হেক্টর জমির ধান এবং অন্যান্য ফসল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের দাপটে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এদিন মূল্যবৃদ্ধিকে রোধ করতে মুখ্যমন্ত্রী ফড়েদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা শোনালেও, তা নিয়ে অন্য কথা বলছে শিল্পমহল।

এদিন এই প্রসঙ্গে শিল্পমহলের এক কর্তা বলেন, “ফড়ে তথা মধ্যস্বত্বভোগীদের উপর রাগ করে লাভ নেই। এটা ঠিক যে তাদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটাও ঠিক যে তারাই চাষীদের কাছ থেকে উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে পৌঁছে দেয়। সরকার এমন কোনো পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি যে রাতারাতি ফড়েরা বাজার থেকে উধাও হয়ে যাবে। বাজারে জিনিসপত্রের দাম চাহিদা ও যোগানের উপরেও নির্ভরশীল।”

তবে শিল্পমহলের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর কথাকে সমর্থন জানানো হলেও সব ব্যাপারে যে ফড়েদের দায়ী করা ঠিক নয়, তাও পরোক্ষে বুঝিয়ে দেওয়া হল বলে দাবি একাংশের। আর এই পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন আদৌ কতটা কাজে দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!