এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ‘যিনি নিজের শিকড়-বাকড় ভুলে যান, তাঁর অস্তিত্ব বেশিদিন থাকে না’ – মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

‘যিনি নিজের শিকড়-বাকড় ভুলে যান, তাঁর অস্তিত্ব বেশিদিন থাকে না’ – মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ হেভিওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

গতকাল সন্ধ্যায় অণ্ডাল মন্ডলের সভাপতি সোমনাথ মুদির বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেতা বাবুল সুপ্রিয়। বলেন,”যিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) রাজনৈতিক আন্দোলন করে ক্ষমতায় এসেছেন, তিনি নিজের শিকড়-বাকড় ভুলে গেলেন? তিনি তো লড়াই করে জিতেছেন। যেটা আমরা সবাই দেখেছি। যিনি নিজের শিকড়-বাকড় ভুলে যান, তাঁর অস্তিত্ব বেশিদিন থাকে না।”

প্রসঙ্গত,কাঁকসার রূপগঞ্জের বুথ সভাপতি সন্দীপ ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবী তুলে দুর্গাপুরের DCP(পূর্ব) অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মীরা। সেজন্যে সোমনাথ মুদি সহ আরো ১০ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই সমবেদনা জানাতে সোমনাথ মুদির বাড়িতে গিয়ে কথা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন আসানসোলের সাংসদ।

সন্দীপ ঘোষে খুনের ঘটনায় বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলা হলেও গেরুয়াশিবিরের অভিযোগ এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে শাসকদলের মদতপুষ্ট মাফিয়া সেখ সইফুল। এই সইফুলকে গ্রেফতারে দাবীতেই বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। বিজেপির এই বিক্ষোভমূলক কর্মসূচীর পরেই ২২ ডিসেম্বর রাত ১২ টা নাগাদ ছদ্মবেশে হানা দিয়ে সোমনাথবাবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এই ঘটনাতেই ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাবুল সুপ্রিয়। তারপর সোমনাথ বাবুর বাড়িতে গিয়ে সরাসরি মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়কে তোপ দেগে বলেন,তৃণমূলের পুলিশ,গুন্ডাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গেলেই তাদেরকে বিনা প্ররোচনায় জোর করে রাজ্যপুলিশ গ্রেফতার করছে। দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের এই অন্যায়ের শিকার গোটা রাজ্য।

অভিযোগের সুর চড়িয়ে তিনি আরো জানান,আজ পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা বিহার,উত্তরপ্রদেশের জঙ্গলরাজের থেকেও খারাপ। মা মাটি মানুষের সরকার গঠন করে মানুষের উপরই অত্যাচার করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এটা করে তৃণমূল নিজের পতনের দিনকেই স্বাগত জানাচ্ছে। এরপর বলেন,প্রত্যেকটি মানুষেরই নিজেদের পছন্দের পার্টি করার অধিকার রয়েছে। তার জন্যে তাঁদের উপর কখনোই অত্যাচার করা যায় না৷ কিন্তু তৃণমূল সরকার অগনতান্ত্রিকভাবে সেটা করতেই দুবার ভাবছে না। দিনের পর দিন পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক কারণে খুনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

সন্দীপ ঘোষ খুনের ঘটনায় আসল অভিযুক্তকে না ধরে রাজ্যসরকারের নির্দেশে পুলিশ সেইসব বিজেপি কর্মী সমর্থকদের গ্রেফতার করলেন যাঁরা এই খুনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এরজন্যে পুলিশ প্রশাসনকে তীব্র ধিক্কার জানালেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এর পাশাপাশি তৃণমূলকে তোপ দাগতে গিয়ে প্রসঙ্গে সিপিএমকেও একহাত দিলেন তিনি। জানালেন, বামফ্রন্টকে হটিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় এলেও আসলে বামেদের দেখানো পথেই হাঁটছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ভালো এবং সিনিয়র নেতাদের ভুঁয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে জেলবন্দি করে বিজেপির সংগঠনকে দূর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল।

বাম শাসনকাল স্মরণ করিয়ে বললেন,একসময় বামেরাও প্রতিপক্ষদের সংগঠনের ভীত নড়িয়ে দেওয়ার জন্যে এই কৌশল করেছিল। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে এটা করার পর আজ বামেদের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায় না এ রাজ্যে। তৃণমূলের অবস্থাও বিজেপির মতো হবে,এমনটাই আগাম জানিয়ে দিলেন তিনি৷

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর দাবী,এভাবে বিজেপিকে আটকানো যাবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ভেবে থাকেন কিছু গুন্ডার সাহায্য নিয়ে বিজেপির পথ রোখা যায়,তাহলে ভুল ভাবছেন। এমনটাই গর্জে উঠে জানালেন বিজেপি নেতা। সঙ্গে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এটাও জানালেন, বিজেপির হাতে পুলিশ নেই৷ তবে বিজেপি লড়াই করতে জানে। গনতন্ত্রের পথে হেঁটেই রাজনৈতিকভাবে এবং আদালতে প্রতিবাদ করে অধিকার ছিনিয়ে নেবে বিজেপি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!