এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের ক্যান্সার প্রকল্প থামাতে কি অন্তর্ঘাত? ৫০ কোটির প্রকল্প ঘিরে জল্পনা তীব্র

মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের ক্যান্সার প্রকল্প থামাতে কি অন্তর্ঘাত? ৫০ কোটির প্রকল্প ঘিরে জল্পনা তীব্র

মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে ক্যান্সারের মতো দামি রোগের চিকিৎসা পৌছে দেওয়ার উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যজুড়ে আটটি লাইন্যাক বসানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ২৫ কোটি টাকার এক একটি মেশিন প্রাথমিক পর্বে একটি মেডিক্যালে, আরজিকর এবং এনআরএস-এ দুটি করে বসানো হয়। এখন গোটা বিশ্বেই ক্যান্সার চিকিৎসায় রে দেওয়ার জন্যে কোবাল্টের বদলে লাইন্যাকের ব্যবহার শুরু হয়েছে সম্প্রতি।

এর মাধ্যমে রোগীর ক্ষতস্থানে নিখুঁত ভাবে রে দেওয়া সম্ভব হয়। তাছাড়া অত্যাধুনিক লাইন্যাক ব্যবহার করলে রে দেওয়ার সময় ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলি বাদে আশপাশের কোষগুলির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও অনেকটাই কমায়। একথা ভেবেই স্বাস্থ্যদপ্তর হাসপাতাল গুলিতে লাইনেক মেশিন বসিয়েছে। কিন্তু এনআরএস-এ মেশিন ইনস্টলেশনের সময় থেকেই শুরু হয় একের পর এক গোলযোগ।

দিন কয়েক আগে দুটি মেশিনের মধ্যে একটি মেশিনের আয়ন বক্সের ঢাকনা ভেঙে ফেলা হয়। সেটি প্রকাশ্যে আসে। শুধু তাই নয়,মেশিনের ইমার্জেন্সি সুইচ বন্ধ করে সমস্ত তথ্য নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। এর পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারদের শাসানি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এসব কারণে এনআরএস-এ আসা ক্যান্সার রোগীদের জন্য চালু হতে চলা ৫০ কোটি টাকার এই ক্যান্সার প্রকল্পটিতে সংকট দেখা দিয়েছে। এই গোটা বিষয়টিতে যুক্ত রয়েছেন এনআরএসের এক বা একাধিক কর্মী।

শুধু তাই নয়,এদের মদত দিচ্ছে বাইরের কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ,এমনটাই অশঙ্কা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এনআরএসের মতো একটি জনপ্রিয় হাসপাতালের তরফ থেকে এরকম মারাত্মক অভিযোগ ওঠায় রীতিমতো হতবাক আমজনতা থেকে রাজনৈতিকমহল।

প্রসঙ্গত,মোটামুটি একইসময়ে বসালেও মেডিক্যাল কলেজে ইতিমধ্যেই কোনোরকম সমস্যা ছাড়াই লাইনেক পরিষেবা চালু হয়ে গিয়েছে। তবে এনআরএস-এর এই যন্ত্রে গোলযোগ নিয়ে মারাত্মক অন্তর্ঘাত আশঙ্কা করে এদিন সুপার ডাঃ সৌরভ চট্টোপাধ্যায় এবং অধ্যক্ষ ডাঃ শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়ে হাজির হন দপ্তরের হেডকোয়ার্টার্স স্বাস্থ্যভবনে। গোটা বিষয়টিই বিস্তারে স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী ও স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) ডাঃ প্রদীপ মিত্রকে জানিয়েছেন বলে জানান সৌরভবাবু।

গোটা ইস্যুটি নিয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এনআরএসের তরফ থেকে। এই ইস্যুতে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করছেন বলেই জানান এনআরএস-এর সুপার সৌরভ বাবু। অন্যদিকে,স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) প্রদীপ বাবুর বক্তব্য,বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্প যারা বানচাল করতে চাইছে তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে। তদন্ত করেই শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সুরে কথা বলতে দেখা গেল এনআরএস-এর রেডিওথেরাপি’র প্রধান ডাঃ সজলকুমার ঘোষ।

তিনিও এর নেপথ্যে অর্ন্তর্ঘাতের আশঙ্কা করলেন। এনআরএসের রেডিওফিজিসিস্টি জে জয়ন্তীর মতো শান্ত স্বভাবের মহিলা পর্যন্ত মেশিনের আয়ন বক্সের ক্যাপ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ করলেন। বললেন ইমার্জেন্সি সুইচ হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারদের শাসানোও হচ্ছে বলে জানালেন তিনি। এবং দোষীদের অবিলম্বে শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানালেন তিনি স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এবং এই শাস্তি দেওয়ার জন্যে যে কোনো ধরনের তদন্তের সমর্থন করলেন তিনি। এবং আশ্বাস দিলেন এ মাসের মাঝেই বিগড়ে যাওয়া প্রকল্প ফের চালু করার। গোটা ইস্যুটি নিয়েই চাপানউতোর তুঙ্গে রয়েছে এনআরএস কর্তৃপক্ষের মধ্যে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!