এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মুখ্যমন্ত্রী-শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য হেভিওয়েট নেতার

মুখ্যমন্ত্রী-শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য হেভিওয়েট নেতার

“যেখানে ভেজাল P.hD নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যায়, যেখানে নকল করে P.hD নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী হওয়া যায়, সেখানে শিক্ষার কোনও দাম থাকে না ৷” ফের একবার শাসকদলকে নিশানা করে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেলো সিপিআইএমের সাংসদ তথা হেভিওয়েট বাম নেতা মহম্মদ সেলিমকে। জেলা সিপিআইএম-এর নতুন সম্পাদকমন্ডলী গড়তে মালদা সফরে আসেন তিনি। এদিন দুপুরেই বামেদের জেলা অফিস মিহির দাস ভবনে বেশ অনেকক্ষণ ধরেই চলে দলীয় বৈঠক। বৈঠক শেষে অম্বর মিত্রকেই জেলা সম্পাদকের দায়িত্বে রাখলেন তিনি। এবং তাঁকে মুখ্য ভূমিকায় রেখে ১২ জনের একটি সম্পাদকমন্ডলীও তৈরী করা হল। এই আলোচনা সভাতেই বর্তমানে রাজ্যের শিক্ষা প্রসঙ্গে শাসকদলের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

 এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

প্রসঙ্গে তুলে ধরেন বাম আমলের শিক্ষা পরিস্থিতির কথা। জানান, সে সময় শিক্ষাকে অবৈতনিক করার পাশেই স্টাইপেন্ড স্কলারশিপ চালু করার কথা বলেছিলেন বাম সরকার। সেইসঙ্গে বই এবং পোশাক দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিলো যাবে দরিদ্রসীমার নীচে থাকা পরিবারের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনো করতে কোনো বাঁধা না থাকে। এর ফলেই ৭০, ৮০’ র দশকে বঙ্গে শিক্ষার পরিস্থিতিই বদলে গেছিলো। আর বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমলে ছবিটা পুরো পাল্টে গেছে। এখন তো শিক্ষাঙ্গণে প্রবেশ করতে গেলেই টাকা দিতে হয়। শিক্ষকদের টাকা দিতে হচ্ছে। এমনকি প্রাইমারি হোক বা উচ্চ শিক্ষাস্তর যে কোনো স্থানে শিক্ষালয়ে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ডোনেশান বাবাদ মোটা টাকা দিতে হয়। এরকম পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে বর্তমান রাজ্যসরকার ব্যর্থ,এমনটাও জানান তিনি। বলেন, সরকারের উচিত ছিল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়াকে আরো সরলীকরণ করা,তোলাবাজি,গুন্ডামি বন্ধ করা। কিন্তু তা না করে শিক্ষামন্ত্রী ভর্তি পরীক্ষাটাই বাতিল করার নির্দেশ দিলেন। এমনকী মার্কশিট পরীক্ষার না করার নিয়ম জারি করলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করলেন এদিনের বৈঠককে তিনি। এর পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলের দিকে তোপ দেগে বলেন যে,সরকার গঠিত হয় আমজনতার সমস্যার সমাধান করার জন্য। কিন্তু এ সরকার সমস্যা মেটানো পরিবর্তে নতুন সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। অন্যদিকে, গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো কেন্দ্রীয় সরকার UGC তুলে দেওয়ার রাজ্যসরকার সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান বিষয়ে নাক গলাতে শুরু করেছে। রাজ্যজুড়ে যেমন সিন্ডিকেট রাজ বা বালি মাফিয়া তৈরি করা হয়,তেমনি কলেজগুলোতে অ্যাডমিশনের নামে তোলাবাজি করা হচ্ছে। আর মুখ্যমন্ত্রী তো সাফ কথায় জানিয়েই দিয়েছেন যে মা তৃণমূল এবং যুব তৃণমূলের মধ্যে বাটোয়ারা কী হবে,তা ঠিক করে নিতে হবে।

এদিনের বক্তব্য সিপিএম এর বরিষ্ঠ নেতা আরো জানান, গত কয়েক বছরের খতিয়ান দেখলে বোঝা যাবে যে কী হারে রাজ্য জাল মার্কশিট এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস কান্ড বেড়ে গেছে। আর এসব জসল মার্কশিট নিয়ে কলেজে ভর্তি হচ্ছে হাজারে হাজারে ছেলেমেয়ে। কারণ ভর্তির জন্য ডকুমেন্টস্ তো খতিয়ে দেখার নিয়মই তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার এছাড়া একবার ভর্তি হয়ে গেলে তাকে তো আর বেরও করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে শাসকদলের প্রতি গর্জে উঠে তিনি জানান,”যেখানে ভেজাল P.hD নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যায়, যেখানে নকল করে P.hD নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী হওয়া যায়, সেখানে শিক্ষার কোনও দাম থাকে না ৷”  এর জেরেই পড়ুয়ারা পড়াশুনো করার বদলে অনশন করছে, কলেজে এসে গুন্ডামি করছে, ভর্তি নামে তোলাবাজির মতো দুর্নীতিকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এসবের প্রতিকার রয়েছে ছাত্র,শিক্ষক সংগঠন এবং অভিভাবকের কাছে। তাঁরাই এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবেন বলেই পথ বাতলে দেন সিপিআইএম সাংসদ।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!