এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > “তাপসী মালিক দিবসেও” সিঙ্গুরে দুই হেভিওয়েট নেতার বিভাজনে ভোটের বাক্সে প্রভাব পড়বে না তো? বাড়ছে জল্পনা

“তাপসী মালিক দিবসেও” সিঙ্গুরে দুই হেভিওয়েট নেতার বিভাজনে ভোটের বাক্সে প্রভাব পড়বে না তো? বাড়ছে জল্পনা

একদা পরিবর্তনের গড় সিঙ্গুরে ফের স্পষ্ট হয়ে উঠল শাসকের কোন্দল। জমি আন্দোলনের জেরে বিগত বাম আমলে ২০০৬ সালের ১৮ ই ডিসেম্বর বছর ১৪-র তাপসী মালিকের মৃত্যু হয়। ফলে, প্রতি বছরের মত এই বছরেও মত এই বছরেও সেখানে পালিত হতে চলেছে – তাপসী মালিক দিবস। কিন্তু, সেই বিশেষ দিনেও এক হতে পারলেন না সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং হরিপালে বিধায়ক বেচারাম মান্না।

প্রতিবছরই এই দিনটিকে সিঙ্গুরে “তাপসী মালিক দিবস” হিসাবে অতি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে শাসকদল – এবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু, সুর কাটল রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং বেচারাম মান্নার দূরত্বে। সূত্রের খবর, এদিন তাপসী মালিক দিবসে কিছুটা আগে একাই এসে মৃত তাপসী মালিকের মূর্তিতে মালা দিয়ে বেরিয়ে যান হরিপালের তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্না। আর এরপরই সেখানে আসেন সিঙ্গুরের তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।

তাঁর সাথে ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দোপাধ্যায়, কৃষি বিপনন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত, কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু এবং ধনেখালির বিধায়ক তথা মন্ত্রী অসীমা পাত্র। কিন্তু যেখানে সকলে একসাথে এসে ঐক্যের বার্তা দিতেন সেখানে এইভাবে পৃথক পৃথক ভাবে আসলেন কেন এক সময়কার মাস্টারমশাই এবং ছাত্র? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে বেচারাম মান্নার দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর এই দুই নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই সিঙ্গুরে বোর্ড গঠন কার্যত অসমাপ্তই ছিল।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

আর এদিন তাপসী মালিক দিবসেও দুই নেতার অনৈক্য দেখে অনেকেই মনে করতে শুরু করেছেন যে, সিঙ্গুরে এবার হয়ত শাসকের ভিত আলগা হতে শুরু করবে। কেন একসাথে এলেন না তাঁরা? এদিন এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত বলেন, “বেচারাম মান্নার কার্ডে নাম ছিল। কিন্তু ও তো জেলা নেতৃত্বের সাথে এলো না। এটা শহীদ স্মরণ। এখানে কোনো বিভাজন করা ঠিক না”। কিন্তু যাঁদের নিয়ে এত কিছু সেই ছাত্র বেচারাম মান্না এবং মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ঠিক কী বলছেন?

এদিন এই প্রসঙ্গে অভিমানের সুরে বেচারাম মান্না বলেন, “পোস্টারে নাম থাকলেও আমার কিছু এসে যায় না। সিঙ্গুরে জমি আন্দোলনে আমার নামে ৬৪ টি মামলা করা হয়েছে। যাঁরা শহীদের নাম করে আমাকে অসম্মান করার চেষ্টা করছেন, তাঁরাও সত্যিটা জানেন”। অন্যদিকে, দলের নির্দেশ বেচারাম মান্না মানেই না বলে পাল্টা তোপ দেগেছেন সিঙ্গুরের তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। এদিকে একদা পরিবর্তনের গড় সিঙ্গুরের দুই তৃনমূল নেতার এহেন দ্বন্দ্ব নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে মাঠে নেমে পড়েছে বিরোধীরাও।

এদিন এই প্রসঙ্গে হুগলি জেলা সিপিএমের সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, “শহীদ দিবস পালনের এমন নজির শুধু তৃনমূলই রাখতে পারে”। অন্যদিকে একই ভাবে শাসকদলকে কটাক্ষ করে ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “গোষ্ঠী কোন্দলই তো তৃণমূলের ঐতিহ্য। সেজন্য তো আজও ওরা বোর্ড গঠন করতে পারলো না”। সব মিলিয়ে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে সিঙ্গুরেররে তাপসী মালিক দিবসেও রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বনাম বেচারাম মান্নার দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে চলে আসায় প্রবল অস্বস্তিতে শাসক দল।

Top
error: Content is protected !!