এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > সিভিকে চাকরি দেওয়ার নাম করে পুলিস আধিকারিকের সই জাল করে তোলাবাজি, গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা

সিভিকে চাকরি দেওয়ার নাম করে পুলিস আধিকারিকের সই জাল করে তোলাবাজি, গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা

দুর্নীতি যে তৃণমূলের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে বাসা বেধেছে, তা সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলাফলের পর শিক্ষা নিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের সামনের সারিতে রাখবার চেষ্টা করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব।

কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের মুখরক্ষা হল না। সূত্রের খবর, এবার পুলিশ আধিকারিকের সই জাল করে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তুলে ভুয়ো নিয়োগপত্র দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে হল দক্ষিণ দিনাজপুর তপন ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি মিলন বর্মনকে।

জানা যায়, ধৃত তৃণমূল নেতা মিলন বর্মন বেশ কিছু দলের কাছ থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার ও জেলা প্রশাসনিক ভবনে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তোলে। তার সাথে এই ঘটনায় আরও একটি বড় চক্র জেলায় কাজ করছে বলে দাবি প্রশাসনের। আর এই ঘটনায় চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার অভিযোগে চারজন গ্রেপ্তার হতেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়ে গিয়েছে।

বস্তুত, ধৃত দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মিলন বর্মন তপন এলাকার জনি সাহা নামে এক যুবককে সিভিক ভলান্টিয়ারে চাকরি দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে কয়েক মাস আগে একটি বড় অঙ্কের টাকা নেন।

এমনকি কয়েক দিন আগে সেই মিলন বর্মন সেই জনি সাহাকে একটি নিয়োগপত্র দিয়ে থানায় কাজের ব্যাপারে যোগদান করতে যেতে বললে শনিবার সেই জনি সাহা সেই নিয়োগপত্র নিয়ে তপন থানায় যান। এদিকে জনি সাহার সেই নিয়োগপত্র দেখে পুলিশ আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে ওঠে। কেননা সিভিক ভলেন্টিয়ার পদে নিয়োগের জন্য সাধারণত কোনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না।

আর এরপরই পুলিশ আধিকারিকরা সেই কাগজ খতিয়ে দেখতে পায় যে সেখানে যে সমস্ত সিল এবং সই হয়েছে, তার সমস্ত কিছুই ভুয়ো। আর এরপরই পুলিশ জনি সাহা নামে ওই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে তপন ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি মিলন বর্মনের নাম জানতে পারে। তারপরই শনিবার রাতে তপন থানার পুলিশের পক্ষ থেকে মিলন বর্মনকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর এই ঘটনায় এখন চরম অস্বস্তিতে পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতৃত্বরা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

কেননা তপন ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি মিলন বর্মন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তৃনমূল ছাত্র পরিষদের জেলা নেতৃত্বের দাপটেই সে বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করছে বলে দাবি সমালোচক মহলের একাংশের।

যার জেরে এখন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ চরম বিপাকে পড়েছে। তবে দলের ছেলে হলেও এই ঘটনায় তাকে কোনোরকম রেয়াত করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তপনের তৃনমূল বিধায়ক তথা মন্ত্রী বাচ্চু হাসদা। তিনি বলেন, “পুলিশের কাজ পুলিশ করবে। এমন ঘটনা নিন্দনীয়। এইসব ছেলেদের কারণেই দলের বদনাম হচ্ছে। এদের দলে কোনো জায়গা নেই।”

তবে তৃণমূলের মূল সংগঠনের নেতৃত্বরা মিলন বর্মনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করলেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা নেতৃত্ব এই ব্যাপারে মুখ না খোলায় তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, হাতে আর দুদিন বাকি। তারপরেই তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে মেয়ো রোডে সমাবেশ রয়েছে।

আর তার আগেই যেভাবে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় তপন ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি মিলন বর্মন নিয়োগপত্র দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন, তাতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা নেতৃত্ব যে চরম অস্বস্তিতে পড়ল, তা নিঃসন্দেহে বলাই যায়।

Top
error: Content is protected !!