এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > ‘চায়ের দোকানে বসুন। মানুষের কী প্রয়োজন জানুন।’ জন প্রতিনিধিদের হুঁশিয়ারি দিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী

‘চায়ের দোকানে বসুন। মানুষের কী প্রয়োজন জানুন।’ জন প্রতিনিধিদের হুঁশিয়ারি দিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী

গতকাল নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে কোর কমিটির বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯ জানুয়ারির বিগ্রেড সমাবেশের প্রস্তুতির লক্ষ্যে বৈঠক ডাকা হলেও দলীয় সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি নিয়েও কর্মীদের সঠিক দিশা দিলেন নেত্রী। শুধু তাই নয়,সভায় উপস্থিতি জনপ্রতিনিধিদের হুঁসিয়ারী দিয়ে জনসংযোগের ঘাটতি মেটানোর জন্য কড়া বার্তা দিলেন নেত্রী। জানালেন’চায়ের দোকানে বসুন। মানুষের কী প্রয়োজন জানুন।’ এবং দলে থেকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকলে ক্ষমতা থেকে সরাতে এক মুহূর্তও ভাববেন না নেত্রী,দলের মন্ত্রীদের একাংশকে এমনটাই হুঁসিয়ারী দিলেন নেত্রী।

লোকসভা ভোটে বিজেপি বিরোধী জোটকে মজবুত করার লক্ষ্যে ১৯ জানুয়ারি যে বিগ্রেড সমাবেশের ডাক দিয়েছেন নেত্রী তার জন্যে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে এখন থেকে। সমাবেশে রেকর্ড পরিমান মানুষ জমায়েত করার লক্ষ্যমাত্রার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন নেত্রী। আর এদিনের বৈঠকে সাংগঠনিক প্রস্তুতির উপর জোড় দেওয়ার লক্ষ্যে অভ্যর্থনা,পরিবহন,বাসস্থান থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক কমিটি গড়ে দিলেন নেত্রী। দলের সংসদীয় সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের মন্ত্রীদের মধ্যে সেই কাজ বন্টন করে দিলেন। বিগ্রেডকে কেন্দ্র করে বুথস্তরে প্রচার কর্মসূচি শুরু করার বার্তা দিলেন নেত্রী এদিন। প্রতিটি বুত এলাকায় কমপক্ষে ৩০ টি করে দেওয়াল লিখন,পোস্টার লাগাতে হবে। আর এই কাজে ছাত্র-যুবদের কাজ লাগানো পরামর্শ দিলেন নেত্রী। তবে, ফেল্কস লাগিয়ে নেতাদের আত্মপ্রচার নিয়ে বারে বারে নিষেধ সত্ত্বেও তা কার্যকর না হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেত্রী। বললেন,’প্রয়োজনে আমার ছবিও বাদ দিন। নিজের ছবি লাগিয়ে প্রচার করবেন না। মনে রাখবেন, দল আছে বলেই আপনি আছেন। আমি যে কথাগুলো বলি, তা নিজের এলাকায় গিয়ে ভুলে যান। জাগো বাংলা (তৃণমূলের মুখপত্র) পর্যন্ত পড়েন না। সব কাজ কি আমায় করে দিতে হবে?” সজোরে ধমক দিলেন সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে। এবং দলীয় নিষ্ক্রিয়, ক্ষমতালোভী নেতা-কর্মীদের টার্গেট করে নেত্রী জানালেন,দলে থেকে কাজ করে সম্মান অর্জন করতে। ব্যক্তিস্বার্থের কথা না ভেবে দলীয় স্বার্থে কাজ করতে। বললেন,’আপনাদের খালি চাই চাই। এই চাওয়াটা বন্ধ করুন৷ আপনাদের শরীরে তেজ কোথায়? আপনাদের তেজ এতো জলদি ফুরিয়ে যাচ্ছে কেন?’ জানতে চাইলেন নেত্রী। এছাড়া জনসংযোগ বাড়াতে মানুষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ নেত্রীর। বললেন এলাকাবাসীদের খোঁজ নিতে। কার কী প্রয়োজন, কিসের সমস্যা সমস্তটাই গুরুত্ব সহকারে শুনতে। নেত্রীকে জেলায় গেলেই শুনতে হয় এক কোটি টাকার ব্রীজ তৈরি করার দাবী। এই প্রেক্ষিতে নেত্রী বললেন,মানুষের সঙ্গে সেতুবন্ধ তৈরি করতে। পরামর্শ, চায়ের দোকানে বসতে। কার কী প্রয়োজন শুনতে। নেত্রীর কার এটা চাই,ওটা চাই বলে ব্ল্যাকমেইল করে লাভ হবে না,এমটা সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি।

এছাড়া এদিন তিনি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মোকাবিলায় দলীয় কর্মীদের সচেতন হওয়ার বার্তা দিলেন। এবং এটাও জানিয়ে দিলেন,দলে থেকে নিষ্ক্রিয় মনোভাব দেখালেই অবলম্বন দল থেকে ছাঁটাই করা হবে তাকে। প্রসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল বললেন,বিজেপি ভয় এবং প্রলোভন দেখিয়ে অনেক তৃনমূল কর্মী সমর্থকদের দলে টেনেছে। সংগঠন শক্তিশালী করার স্বার্থে সেই সব ব্রাত্যদের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার কড়া নির্দেশ নেত্রীর। প্রসঙ্গে মেয়েদের সংগঠনে বেশি করে নিয়ে আসার ব্যাপারে উদ্যোগী হতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন,লোকসভা ভোটের আগে দলীয় কোন্দল বরদাস্ত করা হবে না। হবে না কোনো ভাগাভাগি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

নেত্রীর সাফ বার্তা,’মনে রাখবেন, আপনাদের মাথায় একটাই ছাতা, সেটা তৃণমূলের। ভোটের প্রার্থী হতে লবি করবেন না। কাজের মধ্যে দিয়ে নেতা উঠে আসে। বেশি লবি করলে নাম ঘ্যাঁচ করে কেটে দিতে সময় লাগবে না।’এদিন নেত্রীর হুঁসিয়ারী শুনে কর্মচঞ্চলতা তুঙ্গে রয়েছে দলীয় অন্দরে। নেত্রীর নির্দেশ মেনেই বিগ্রেড সমাবেশের জন্য প্রচার কর্মসূচি শুরু করতে মরিয়া শাসকদলের নেতা কর্মীরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!