এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > পদ গেল হেভিওয়েট নেতার, তীব্র শোরগোল শাসকদলের অন্দরে

পদ গেল হেভিওয়েট নেতার, তীব্র শোরগোল শাসকদলের অন্দরে

সদ্য লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ফলাফল ভালো হয়নি। আর দলের এই খারাপ ফলাফলের পরই বিভিন্ন জায়গায় তৃনমূলের সংগঠনে পরিবর্তন আনতে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি শান্তিপুর শহর তৃণমূলের সভাপতি পদে বদল ঘিরে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। সভাপতি পরিবর্তন করা হয়েছে এই মর্মে বুধবার দলের তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, আগের সভাপতি অরবিন্দ মৈত্রর জায়গায় নতুন সভাপতি করা হয়েছে আব্দুল সালাম কারিগরকে।

আর এই ঘটনা নিয়েই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। জানা গেছে, আব্দুল সালাম কারিগর শান্তিপুর পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার এবং ভাইস চেয়ারম্যান। প্রসঙ্গত, বিগত লোকসভা নির্বাচনে শান্তিপুর শহরের কয়েকটি ওয়ার্ড ছাড়া বেশিরভাগ ওয়ার্ডে বিজেপি কয়েক হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল। দলকে সাংগঠনিকভাবে মজবুত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, কিছুদিন আগেই কল্যাণী ব্লক তৃণমূল সভাপতি পরিবর্তন করা হলে সেখানে পুরনো সভাপতি তপন মণ্ডলকে সরিয়ে নতুন সভাপতি করা হয় কাঁচরাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পঙ্কজ সিংকে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের অরবিন্দ মৈত্র শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত। তবে নতুন সভাপতি আব্দুল সালাম কারিগর শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান অজয় দের ঘনিষ্ঠ বলে খবর।

তবে বিধায়ক এবং চেয়ারম্যানের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। এমনকি তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শঙ্কর সিংয়ের সঙ্গেও দলের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যের তেমন সম্পর্ক নেই বলেও দাবি একাংশের। আর অরিন্দম ভট্টাচার্যের সঙ্গে শঙ্কর সিংয়ের দূরত্ব তৈরি হওয়ার জন্যই কি শান্তিপুর শহর সভাপতির রদবদল হল কি না – তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দলের অন্দরে।

যেখানে শহর সভাপতি পদে বদল আসায় দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমার চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা বেশি করছেন তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা। এদিন এই প্রসঙ্গে শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান অজয় দে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “২০১৩ সাল থেকে আব্দুল সালাম কারিগর দলের সভাপতি ছিলেন। মাঝখানে তাঁকে কয়েক বছরের জন্য বাদ দেওয়া হয়। তার কারণ আমরা জানি না। তবে নতুন করে তাঁকে ফের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দলকে আরও শক্তিশালী করবেন।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে এই ব্যাপারে শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই।” এদিকে এই প্রসঙ্গে আব্দুল সালাম কারিগর বলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে সকলকে সঙ্গে নিয়ে লড়াইকে আরও কীভাবে মজবুত করা যায়, সেদিকে নজর দেব। আমাদের দলে কোনও গোষ্ঠী নেই। সকলকে নিয়ে চলার মানসিকতা আমার রয়েছে। তাই আগামীদিনে সংগঠনকে মজবুত করতে অসুবিধা হবে না বলে আশা করছি।”

তবে এই প্রসঙ্গে বিদায়ী সভাপতি অরবিন্দ মৈত্র বলেন, “দল যাঁকে সভাপতি ঘোষণা করবে দলের কর্মী হিসেবে তাঁকেই মান্যতা দিতে হবে। তবে আমাকে সভাপতির পদ থেকে সরানো হয়েছে, সে সম্পর্কে লিখিত কোনও চিঠি বা মৌখিকভাবে কেউ আমাকে কিছু জানাননি। আমি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি। পরে নতুন সভাপতি কার্যালয়ের সভাপতির ঘরের চাবি চেয়ে আমাকে ফোন করেন। আমি তাঁকে চাবি দিয়ে দিয়েছি।”

অরবিন্দবাবু আরও জানিয়েছেন, “তিনি দলীয় কার্যালয়ের চাবি চাইলে আমি বলি, এটা শান্তিপুর বিধানসভার অফিস। তাই গেটের চাবি আমার কাছে থাকে না। সেটা বিধায়কের নেতৃত্বে যাঁরা অফিসে কাজ করেন তাঁদের কাছে রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিধায়কের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি।” একই সঙ্গে তিনি জানান, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের কথা যদি ধরা হয়, তাহলে এবার লোকসভা ভোটে আমার কোনও দায়িত্ব ছিল না।”

তাঁর বক্তব্য, “এখানে ছ’টি অঞ্চলের দায়িত্ব ছিল বিধায়কের উপর এবং ওয়ার্ডগুলি দেখার দায়িত্ব ছিল কাউন্সিলারদের। সেখানে আমার কোনও লিখিত দায়িত্ব ছিল না। তা সত্ত্বেও আমি ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা প্রতিদিন দলের জন্য কাজ করেছি। তবে নতুন যিনি সভাপতি হয়েছেন তাঁকে স্বাগত।” তবে এই ব্যাপারে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শঙ্কর সিং।

তিনি বলেন, “তৃণমূল দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে কিছু নেই। আগামী বছর পুরসভার নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে দল মনে করছে, শান্তিপুর শহরে আগামী দিনের সভাপতি পরিবর্তনের দরকার রয়েছে। সেই কারণে সভাপতি পরিবর্তন করা হয়েছে। দলীয় স্তরে আলোচনার মাধ্যমে সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গিকে মাথায় রেখেই এই পরিরর্তন।” সব মিলিয়ে তৃনমূলের হেভিওয়েট নেতার পদ যাওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!