এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > চাকরিতে দুর্নীতি! হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল SSC – জানুন বিস্তারিত

চাকরিতে দুর্নীতি! হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল SSC – জানুন বিস্তারিত

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বারংবার অভিযোগ করে এসেছেন, শিক্ষক নিয়োগের পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো একের পর এক স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে জমে ওঠা মামলা। শিক্ষামন্ত্রীর অভিযোগকে সত‍্যি করে এদিন কলকাতা হাইকোর্ট এবার নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে রিপোর্ট তলব করল। কলকাতা হাইকোর্টে এসএসসির নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে গত 28 নভেম্বর কয়েকশো চাকরি না পাওয়া প্রার্থীরা স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন হাইকোর্ট স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে মামলাসংক্রান্ত পুরো ব্যাপারটির বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠালো।

আগামী 16 ই ডিসেম্বরের মধ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কোর্টের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এসএসসির নিয়োগে কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে? যাতে কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা নিয়োগপত্র হাতে পেলেন এবং বেশি নাম্বার পাওয়া প্রার্থীরা নিয়োগপত্র হাতে পাওয়া থেকে বঞ্চিত হলেন, তার রিপোর্টে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। গত 28 নভেম্বর এসএসসি সংক্রান্ত মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের বক্তব্য, 2016 সালে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত এসএসসিতে 16 হাজার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন। বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মোট এই চারটি বিষয়ে নিয়োগ পদ্ধতি চলবে বলে জানায় কমিশন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে সাড়া দিয়ে প্রায় 8 লক্ষ আবেদনকারী লিখিত পরীক্ষায় বসেন।

নিয়োগ পর্ব শুরুর আগে চতুর্থ ধাপে গিয়ে এস এল এস টি প্রার্থীদের মধ্যে গরমিল ধরা পড়ে। দেখা যায়, প্রায় 40 জন প্রার্থী বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান এটা নাম্বার পেয়েছে। তার থেকে মামলাকারীদের নাম্বার অনেক বেশি। শুধু তাই নয়, নিয়োগ তালিকায় নিচের দিকে থাকা প্রার্থীরা নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে গেছেন ইতিমধ‍্যে। এই বিষয়টা নিয়ে তৎক্ষণাৎ স্কুল সার্ভিস কমিশনে আবেদন জানায় মামলাকারীরা। তবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক জবাব দেওয়া হয়নি মামলাকারীদের। ফলস্বরূপ, এসএসসিতে পরীক্ষা দেওয়া মামনি বসাক, স্বাগতা বিশ্বাসসহ 19 জন প্রার্থী চলতি বছরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

মামলার শুনানি চলাকালীন হাইকোর্টে বেশকিছু প্রশ্ন উঠে আসে। যোগ্যতা থাকা সত্বেও কেন মামলা কারীরা নিয়োগপত্র হাতে পেলেন না? যাদের নিয়োগ করা হলেও তারা মামলাকারীদের থেকে অনেক কম নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও কিভাবে নিয়োগপত্র হাতে পেলেন? এদিন এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে সম্পূর্ণ বিষয়টির ওপর রিপোর্ট তলব করেছেন। হাইকোর্টের তরফ থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে 16 ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে, সম্পূর্ণ বিষয়টি রিপোর্ট আকারে হাইকোর্টে জমা দেওয়ার জন্য।

চাকরির নিয়োগের ব্যাপার নিয়ে এসএসসি এবার হাইকোর্টের কাঠগড়ায়। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মামলায় স্কুল সার্ভিস কমিশন রীতিমতো কোণঠাসা। অন্যদিকে, এই ঘটনায় বিরোধী শিবির থেকে দাবি করা হয়েছে, যে 40 জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল সেই সময়ে, তাঁরা প্রত্যেকেই রাজ্য সরকারের স্বজনপোষণের জালে বন্দী। এদিকে, হাইকোর্টের এদিনের পদক্ষেপের ফলে মামলাকারীদের মনে যথেষ্টই আশার সঞ্চার হলো বলে মনে করা হচ্ছে শিক্ষা মহল থেকে। এতদিনের লড়াইতে স্কুল সার্ভিস কমিশনকেও এবার জবাবদিহি করতে হবে। আপাতত সম্পূর্ণ বিষয়টির ওপর নজর রাখবে রাজ্যের শিক্ষা মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!