এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > 370 ধারা অবলুপ্তি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পথে বামেরা, খোঁচা তৃণমূলকেও

370 ধারা অবলুপ্তি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পথে বামেরা, খোঁচা তৃণমূলকেও

সংবিধানের 370 ধারা এবং 35 (ক) ধারার একটি বিশেষ অনুচ্ছেদকে বিলোপ এবং জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা বিলোপ করে ইতিমধ্যেই মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে কেন্দ্র। বিভিন্ন মহলের তরফে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ দেওয়া হলেও এবার তা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পথে নামতে চলেছে বামেরা।

ইতিমধ্যেই সোমবার রাজ্যসভায় এই ব্যাপারে বিল পাস করার জন্য এই দিনকে সংবিধানের ইতিহাসে “কালা দিন” বলার পাশাপাশি আগামী 15 আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে বামেরা যে মানববন্ধন কর্মসূচী করত, তা বাতিল করে সেদিন রাজ্যজুড়ে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

জানা যায়, এদিন সংসদে যখন এই ব্যাপারে বিল পাস হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস সহ বেশ কয়েকটি বিজেপি বিরোধী দলের পাশেই ছিল বামেরা। যেখানে এই বিলের বিরুদ্ধে তারা ভোটও দিয়েছিল। কিন্তু বিজেপি বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সংসদে প্রতিবাদ করলেও ভোটাভুটিতে অংশ না নেওয়ায় বিজেপির সাথে তাদের সমঝোতা রয়েছে বলে এবার পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধেও সরব হতে শুরু করেছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারা।

বামেদের দাবি, বুধবার থেকে 14 আগস্ট পর্যন্ত এই কাশ্মীর ইস্যুতে বিজেপির পাশাপাশি তারা তৃণমূলের বিরুদ্ধেও দ্বিচারিতার অভিযোগে প্রচার প্রক্রিয়া চালাবে। সূত্রের খবর, এদিন যখন কাশ্মীর বিল নিয়ে জাতীয় রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই প্রতিবারের মতো এবারও সিপিএমের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মুজাফফর আহমেদের 131 তম জন্মদিবস আয়োজন করেছিল বামেরা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন, সূর্যকান্ত মিশ্র, বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।

আর সেইখানেই বক্তব্য রাখতে উঠে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এই বাম নেতারা বলেন, “আধ লাখ আধা সেনা মোতায়েনসহ গোটা কাশ্মীরের জনজীবন অচল করা হয়েছে। তিনজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দী করে দু ঘন্টার নোটিশে রাজ্যসভায় বিল এনে একটা পূর্ণ রাজ্যকে লোপাটের মাধ্যমে নিজেদের স্বৈরাতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে মোদি সরকার।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

যেভাবে কাশ্মীর টুকরো করে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা তুলে দেওয়া হয়েছে, তাতে গোটা দেশের বিরুদ্ধে সব ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার সময় এসেছে। বামেরা এই লড়াই থেকে এক চুলও সরবে না। বিজেপি যে ক্ষমতার জেরে এবার বাংলার ক্ষেত্রে ওই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না, তার কি গ্যারান্টি আছে! কোচবিহার, দার্জিলিং সহ উত্তরবঙ্গের একটা অংশ নিয়ে তারা যে পৃথক রাজ্যের রাস্তায় হাঁটবে না!তার নিশ্চয়তা কোথায়!”

রাজনৈতিক মহলের মতে, বামেরা বর্তমানে বাংলায় কিছুটা হলেও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। আর তাই কাশ্মীর ইস্যুতে কেন্দ্রের এহেন সাহসী পদক্ষেপের পর এবার বাংলাতেও এর প্রভাব আসতে পারে বলে বাংলার মানুষের সিমপ্যাথীকে নিজেদের বাগে আনার চেষ্টা করছে বাম শিবির।

পাশাপাশি এই ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সমালোচনার সুর চওড়া করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, “রাজ্যে বিজেপিকে হাত ধরে এনে ছিলেন মমতা। কাশ্মীর বিলের বিরুদ্ধে রাজ্যসভায় প্রতিবাদ করলেও কেন তৃণমূল ভোটাভুটি এড়িয়ে গেল! বাংলার মানুষের কাছে তার জবাবদিহি করতে হবে। আমরা যে বিজেপি-তৃণমূলকে একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ বলি, তা এদিন আবার প্রমাণ হয়েছে।”

সব মিলিয়ে এবার কাশ্মীর ইস্যুতে একদিকে কেন্দ্রের শাসক দল, আর অপরদিকে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে বাংলায় আন্দোলনে নেমে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে মরিয়া বামেরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!