এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > সারদা-নারদার ভবিষ্যৎ কি গহ্বরের অন্ধকারে চলে গেল? তীব্র জল্পনা রাজ্য-রাজনীতিতে

সারদা-নারদার ভবিষ্যৎ কি গহ্বরের অন্ধকারে চলে গেল? তীব্র জল্পনা রাজ্য-রাজনীতিতে

Priyo Bandhu Media

সারদা-নারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি আদালতে। এই ইস্যুতে বহু প্রামান্য তথ্য সামনে এলেও এখনও এই চিটফান্ড কান্ডের সুরাহা করা গেল না। তার উপর বাঁধ সেধেছে সিবিআইয়ের অন্তর্দ্বন্দ্ব। আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে বহুদিন মামলাটি। কী হবে সারদা-নারদার ভবিষ্যৎ?

এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। এ ব্যাপারে রীতিমতো দ্বিধায় রয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা। এই চিটফান্ড কেলেঙ্কারি মামলায় যখন দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তদন্তকারী অফিসাররা, তখনই খোদ সিবিআইয়ের নম্বর টু-র বিরুদ্ধে এফআইআর করে তাঁদের চাপে ফেলে দেয় সিবিআইয়েরই  একাংশের কর্তারা। এই সংক্রান্ত মামলার সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি তদারক করছিলেন রাকেশ আস্থনা। এবার এফআইআরের জেরে এগুলি মনিটারিং এর দায়িত্ব তাঁর হাতে থাকবে না অন্য কারোর কাছে যাবে তা নিয়ে এখনো কোনো নির্দেশ কেন্দ্র থেকে এসে পৌছায় নি। ফলত,তদন্তের প্রয়োজনে কাউকে ডাকার প্রয়োজন হলে বা মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি কারোর কাছে পাঠানোর দরকার পড়লে সেগুলো কার কাছে পাঠানো হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন এখানকার তদন্তকারী কর্তারা। এর জেরে তদন্ত প্রক্রিয়ায় জোর ধাক্কা লাগবে বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।

মূলত আস্থানা ইস্যুতে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে সিবিআই অাধিকারিকরা। কোন পক্ষকে সমর্থন করবে তা নিয়ে দোটানায় রয়েছেন তাঁরা। কারণ সিদ্ধান্ত নিতে যদি কোনোরকম ভুল হয়ে যায় তার জবরদস্ত মাশুল দিতে হবে দীর্ঘদিন ধরে আইনি গেরোয় আটকে থাকা মামলাটিকে। আপাতত বেশিরভাগ তদন্তকারী অফিসাররাই ডিরেক্টর এবং স্পেশাল ডিরেক্টরের দ্বন্দ্ব নিয়ে চর্চা করতেই ব্যস্ত। এর জেরে অবহেলিত হচ্ছে মামলাটি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো  করুন এই লিঙ্কেখবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক

ডিরেক্টর অলোক ভার্মার সমর্থনকারী অফিসারদের যুক্তি, তৃণমূল-ঘনিষ্ট মানুষ হওয়ায় রাকেশ আস্থানা বহুদিন ধরেই ডিরেক্টরের নির্দেশকে এড়িয়ে নিজের মতো করে কাজকর্ম করে যাচ্ছিলেন। এবং এ কাজের জন্য বেআইনিভাবে গোপনে রাজ্যসরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। এ নিয়ে অলোক ভার্মা আপত্তির কথা জানালে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারের কাছে মিথ্যা অভিযোগ এবং রিপোর্টও জমা করেন আস্থানা। এসব যুক্তির ভিত্তিতে ডিরেক্টর ঘনিষ্ট অফিসারেরা দাবী করেন অলোক বাবু অত্যন্ত সৎ এবং কাজের মানুষ। আর এর আগে স্পেশাল অফিসার আস্থানার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছিল সেগুলির তদন্তের দাবী করা হয়। যুক্তি,রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ পেয়েই এফআইআর করা হয়েছে। ওদিকে পাল্টা যুক্তি এসেছে আস্থানা ঘনিষ্টমহল থেকেও। অলোক ভার্মা ষড়যন্ত্র করেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন সিবিআইয়ের নম্বর টু-কে। অভিসন্ধি, যাতে তিনি অবসর নেওয়ার পর আগামী বছর থেকে স্পেশাল অফিসার রাকেশ বাবু ডিরেক্টেরের চেয়ার না বসতে পারেন। তাঁদের দাবী, দীর্ঘদিনের চাকরি জীবনে অনেক সাহসিকতার প্রমাণ দিয়েছেন রাকেশ বাবু। কেউ কোনোরকম অভিযোগের আঙুল তুলতে পারেননি তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু দুর্নীতির মামলার তদন্তে নেমে সেই রাকেশ ভার্মার বিরুদ্ধেই কাদা ছোঁড়া হচ্ছে। এর একটি বিহিত চাই। আইনি লড়াই এ রাকেশ আস্থানাকে সুরক্ষা দেওয়ার যাবতীয় পরিকল্পনা সেরে রাখা হয়েছে তাঁর অনুগামীদের তরফ থেকে,এমনটাই জানা গিয়েছে রাকেশ ভার্মা-ঘনিষ্টি তদন্তকারী অফিসারদের তরফ থেকে। তদন্তকারী অফিসারদের ঠান্ডা লড়াই-এর মাশুল দিতে হচ্ছে দুর্নীতিমূলক মামলাটিকে। এটা স্পষ্ট সিবিআইয়ের অফিসারদের কথাবার্তা থেকেই। এই মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু নথি পাঠানো হয়েছে ইউনিট থেকে। তবে এখনো কোনো নির্দেশ এসে পৌছায়নি কেন্দ্র থেকে। তদন্তকারী অফিসারদের অন্তর্দ্বন্দ্ব না মিটলে যে চিটফান্ড কান্ডের মামলাটি এগোবে না,তা স্বীকার করে নিয়েছেন অফিসারদের একাংশই। থমকে যাবে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ডেকে পাঠানো বা তদন্তের স্বার্থে করা অন্যান্য কাজগুলো,এমনটাই আশঙ্কা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!