এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > নজিরবিহীন! কৃষকের টাকা না দেওয়ায় বর্ধমানের জেলাশাসককে এবার জেল খাটাবেন বিচারক!

নজিরবিহীন! কৃষকের টাকা না দেওয়ায় বর্ধমানের জেলাশাসককে এবার জেল খাটাবেন বিচারক!

এদিন বর্ধমান জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তবকে হাজতবাসের রায়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো আদালতচত্বরে। গোদায় স্যাটেলাইট টাউনশিপের জন্য অধিগৃহীত জমির দাম মালিককে না মেটানোয় তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন বর্ধমানের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক শেখ মহম্মদ রেজা। আগামী সোমবার তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেদিনই বর্ধমান সংশোধানাগারে পাঠানোর কথা তাকে। আর এই নির্দেশ অমান্য করলে আরো কড়া শাস্তি অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। এমনটাই ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন বিচারক। এ খবর প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিকমহলে।

এরকম নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কোনো জেলাশাসকের বিরুদ্ধে এ রাজ্যে কখনো নেওয়া হয়নি,এমনটাই বক্তব্যে জানালেন প্রবীণ আইনজীবী রণজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বললেন,টাকা না মেটানোর জন্য জেলাশাসকের সম্পত্তি নিলামের বহু উদাহরণ রয়েছে কিন্তু তাঁর ৫০ বছরের কর্মজীবনে জেলাশাসককে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিতে তিনি শোনেননি। উল্লেখ্য, জেলাশাসককে একমাস জেল খাটানোর জন্য জমির মালিককে ‘অস্তিত্ব ভাতা’ হিসাবে ১৮৫০ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। জমির মালিক এদিন ট্রেজরি চালানের মাধ্যমে সেই টাকা জমাও করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আদালত সূত্র থেকে জানা গিয়েছে,  ২০০৫-’০৬ সালে বর্ধমানের গোদায় স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ার জন্য গোদার বাসিন্দা আব্দুর রহিম, আব্দুল আজিজ ও আব্দুল আলিমের ১ একর ৭৩ শতক জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। শতক পিছু ৫৮৮৬ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়। এতে আপত্তি জানিয়ে বর্ধিত দাম পেতে আদালতে মামলা করেছিলেন জমির মালিকরা। আদালত শতক পিছু ৩৫ হাজার টাকা দাম দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মোতাবেক, জমির মালিকদের ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পাওয়া হয়। এছাড়াও টাকা না মেটানো পর্যন্ত বার্ষিক ১৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত। এবং এই সুদ মেটানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ২০১২ সাল অব্দি। কিন্তু তারপর প্রায় ৬ বছর কেটে গেলেও এখনও সরকার জমি মালিকদের সেই পাওনা দাম মেটায়নি। জমির মালিকদের সরকারের কাছে এই মুহূর্তে পাওনা রয়েছে ১ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিকে জেলাশাসকের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ে হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ অবিলম্বে আনতে না পারলে জেলাশাসককে সাজাপ্রাপ্তি থেকে মুক্ত করা যাবে না। এমনটাই নিয়ম। এমনটাই জানালেন জমির মালিকের আইনজীবী রাজকুমার গুপ্ত। এর আগে জেলাশাসকের বাংলোও নিলামে ওঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই মামলায় মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার জন্য সহকারী ভূমি অধিগ্রহণ আধিকারিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বিচারক। নানান ছুতোয় সরকার জমির মালিককে টাকা দিচ্ছে না। তাছাড়া এই মামলায় বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থাকে ৫০ হাজার এবং সরকারকে ১০ হাজার টাকা ‘কস্ট’ করেছেন বিচারক। সেইা টাকাও পাওয়া রয়েছে জমির মালিকের। আদালতের নির্দেশ প্রসঙ্গে জেলা শাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানালেন,তিনি আদালতের নির্দেশ এখনো হাতে পাননি। আদালত কেন তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরণের বেনজির রায় দিল তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে আইনী ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানালেন এদিন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!