এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > আয়লার থেকেও বেশি ক্ষতি করে দিল বুলবুল! সব হারিয়ে মাথা চাপড়াচ্ছে সুন্দরবনবাসী

আয়লার থেকেও বেশি ক্ষতি করে দিল বুলবুল! সব হারিয়ে মাথা চাপড়াচ্ছে সুন্দরবনবাসী

বহু পূর্বে 2009 সালে পশ্চিম বাংলার বুকে আছড়ে পড়েছিল ভয়ংকর ঝড় আয়লা। যার তাণ্ডবে রীতিমতো ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল উপকূলবর্তী এলাকার জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ঝড়ের ভয়ঙ্করতার কারণে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে নৌকা, লঞ্চ ট্রলারসহ মৎস্যজীবীদেরকে পূর্ব সতর্ক বার্তা প্রদান করা সত্ত্বেও কিছু প্রাণহানির ঘটনাও সামনে এসেছিল। এখনও পর্যন্ত বাংলার দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড় ছিল আয়লা। কিন্তু বিগত কয়েক দিনে সমীকরণটা অনেকটাই উল্টে গেছে।

গত 9 এবং 10 নভেম্বর উড়িষ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে ভয়ানক ঝড় বুলবুল। যে ঝড়ের প্রভাবে মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক জীবন ছন্দ একপ্রকার সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত হয়েছে বলেই খবর। বুলবুলের এই পাঁচ ঘন্টার তাণ্ডবে রীতিমতো ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে উপকূলবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। ইতিমধ্যেই কাকদ্বীপ থেকে শুরু করে সাগর, গোসাবা থেকে শুরু করে নামখানা, বকখালি থেকে শুরু করে পাথরপ্রতিমা, সব খানকার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ভুক্তভোগীদের বিবরনের মাধ্যমে ঝড়ের ভয়ংকরতা প্রকাশ পাচ্ছে।

এই বিষয়ে বিধায়ক সমীর জানা জি প্লটের ছবি পাঠিয়ে সরকারকে সেই বিষয়ে অবগত করেছেন। আয়লার সঙ্গে বুলবুলের তুলনা করতে গিয়ে তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আয়লার সময় ক্ষতি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু এবার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যা যা ছিল, সবই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে গিয়েছে বুলবুলের 5 ঘন্টার তান্ডব।” জানা যায়, সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে জি প্লটের তটবাজার এলাকা থেকে জানার মোড় পর্যন্ত যাত্রা করতে বিধায়কের দু ঘণ্টার বেশি সময় লেগে গিয়েছে।

রাস্তার মধ্যে দুপাশে অতিকায় গাছগুলি নুইয়ে পড়েছিল। ঝড়ের দাপটে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো পর্যন্ত স্বাবলীল অবস্থায় নিজের জায়গায় ছিল না। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে স্থানীয় জনসাধারণ এগিয়ে এলেও গাছের পরিমান এতই বেশি ছিল যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ভেতরে পৌঁছতেই পারেননি বিধায়ক। কাজেই যাওয়ার সময় অনেকটাই ভারাক্রান্ত কন্ঠে বিধায়ক বলেন, “দেখলাম দু’ধারে বিঘের পর বিঘে ধানক্ষেত সব তলিয়ে গিয়েছে। পানের বরজের ওপরে এখানকার অর্থনীতি নির্ভর করে সেই পানের বরজের 90% শেষ হয়ে গিয়েছে। আয়লার সময় এতটা ক্ষতি হয়নি।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিন বিধায়ক আরও জানান, পাথরপ্রতিমার সব জায়গাতেই একই চিত্র। অগ্রহায়ণ মাসের সবে ধান পাকতে শুরু করেছিল। এবার মানুষ কি খাবে! ঘরে চালের জোগাড় নেই। বাজারেও ধান পাওয়া যাবে না। এই বিষয়ে বিধায়ক সমীর জানার সঙ্গে কার্যত একমত পোষণ করেছেন সাগরের বিধায়ক বঙ্কিম হাজরাও। তিনি বলেন, “আয়লার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র 2 ঘন্টা। সাগরে সেই তাণ্ডবের ধাক্কা কম ছিল। এবার সরাসরি বুলবুল সাগরে ধাক্কা দিয়েছে। সন্ধ্যা 6 টা থেকে 10 টার বেশি তার তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। মাটির বাড়ি, গাছ, পানের বরজ যা মানুষের রোজগার তার সব উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে বুলবুলের হাওয়া।”

এদিকে বারুইপুরের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে দেখা যায় স্থানীয় বিধায়ক তথা বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। একইভাবে জেলাশাসক পি উলগানাথন, কাকদ্বীপের বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শামীম শেখ সহ বিভিন্ন ব্যক্তিরা নানা এলাকা পরিদর্শন করেন। আর এই পরিদর্শনের পর এই সকলে মিলে একটি জরুরী ভিত্তিক মিটিংয়ের মাধ্যমে বিডিওদের নির্দেশ দিয়েছেন উপকূলবর্তী এলাকায় কোথায় কি পরিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়ার জন্য।

এদিন কার্যত মন্ত্রীর স্বীকার করে নেন, আয়লা ঝড়ের থেকে অনেক বেশি তাণ্ডব চালিয়েছে বুলবুল। ক্ষতিগ্রস্তের পরিমানও আয়লার থেকে অনেক অনেকাংশেই বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুলবুল ঝড়ের ভয়ঙ্করতাকে কার্যত অনুভব করতে পেরেই সারারাত্রি অতন্দ্রপ্রহরীর মতো নবান্নের মনিটরিং রুমে বসে তদারকি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পরবর্তীকালে নিজে ছুটে গেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়। উপকূলবর্তী সব জেলার জেলাশাসক এবং সরকারি আধিকারিকদেরকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছিল।

কিন্তু ঝড়ের সময় কাটতে কাটতে বুলবুল প্রমাণ করে দিয়ে গেল, প্রকৃতির কাছে মানুষ এবং তার পূর্ব প্রস্তুতি কতটা অসহায়। সব মিলিয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা চালালেও দশকের সবথেকে বড় ঝড়ের মুখে পড়ে এখন রীতিমত সর্বহারা দশা হয়ে গেছে উপকূলবর্তী এলাকার মানুষজনের। তাদের সেই ক্ষতি সরকার কতটা ত্রাণের মাধ্যমে পূরণ করতে পারে এবং এলাকার মানুষ কবে বুলবুলের আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারে, সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের। বুলবুলের তান্ডবে কার্যত সর্বস্ব হারিয়ে এখন মাথা চাপড়াচ্ছেন বিস্তীর্ন অঞ্চলের মানুষ।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!