এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ঐতিহাসিক ব্রিগেডের পর মহাজোটের দিকে ঝুঁকছে আরও দল, পরের ‘ডেস্টিনেশন’ ঠিক করে ফেললেন তৃণমূল নেত্রী

ঐতিহাসিক ব্রিগেডের পর মহাজোটের দিকে ঝুঁকছে আরও দল, পরের ‘ডেস্টিনেশন’ ঠিক করে ফেললেন তৃণমূল নেত্রী

১৯ জানুয়ারী দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিজেপি বিরোধী হেভিওয়েট নেতাদের ব্রিগেড জনসভার মঞ্চে জমায়েত করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওদিন দেশের রাজনৈতিক ভরকেন্দ্র যেন কিছু সময়ের জন্য সরে এসেছিল কলকাতার ব্রিগেডে। ১৯’এর মঞ্চ থেকেই বিজেপি বিরোধী জোটের বার্তা পাকাপাকি ভাবে দিয়ে দিল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শীর্ষ নেতারা।

আসন্ন লোকসভা ভোটে মোদীসরকারকে কেন্দ্র থেকে উৎখাত করার ঐক্যবদ্ধ সংকল্প নিলেন তাঁরা। হয় একের বিরুদ্ধে এক ফর্মুলা অথবা যেভাবে সম্ভব বিজেপিকে আটকানোই এখন মহাজোটের একমাত্র টার্গেট। তাই এবার মোদী-শাহের নাকের ডগায় মহাজোটের পরবর্তী জনসভা করার ভাবনা চিন্তা করছেন ফেডারেল ফ্রন্টের মধ্যমনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’র বার্তা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মঞ্চ থেকে গত শনিবার দেওয়া হয়েছে তাকে আরো জোরালো করতেই মহাজোটের পরবর্তী জনসভা দিল্লিতে করাটাই যুক্তিসঙ্গত হবে বলেই মনে করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে সতীর্থদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছেন নেত্রী। এখন বেশ কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক কাজে একটু ব্যস্ত থাকলেও তিনি রীতিমতো যোগাযোগ রাখছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে। শুধু তাই নয়,দক্ষিণ ভারতের চন্দ্রবাবু নাইডু,কুমারস্বামী স্ট্যালিনদের সঙ্গে নিয়ম করে যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া উত্তরের অখিলেশ, মায়াবতী,মহারাষ্ট্রের শরদ পাওয়ারের সঙ্গে সমাবেশের পর এ ব্যাপারে কথা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে তৃণমূল সূত্রের খবরে। বিজেপি বিরোধী মহাজোটের বার্তা দেশের প্রতিটি কোনায় কোনায় যাতে ছড়িয়ে যায় তাতে চেষ্টার কোনো খামতি রাখতে চান না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লোকসভা নির্বাচনের আর বেশি দিন বাকি নেই। মার্চের শুরুতেই ভোটের নির্ঘন্ট চূড়ান্ত করবে কমিশন,এমনটাই খবর পাওয়া গিয়েছে। কাজেই হাতে সময় খুবই কম। এই প্রেক্ষিতে মহাজোটের দলগুলির উপর দেশের আমজনতা যাতে ভরসা তৈরি করতে তার জন্যে এখন থেকে কোমর বেঁধে ময়দানে নামাটা অত্যন্ত জরুরি।

ভারতের মতো বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এই কাজ অত্যন্ত কঠিন হলেও তা যে একেবারেই অসম্ভব নয়,সে প্রমাণ মিলেছে ব্রিগেডের ময়দানেই। চন্দ্রবাবু নাইডু,দেবেগৌড়া থেকে শুরু করে অরবিন্দ কেজরিওয়াল,অখিলেশ যাদব,শত্রুঘ্ন সিনহারা বিজেপি মুক্ত ভারত গড়ার বার্তা জোর গলায় শুনিয়ে গিয়েছেন। এই বার্তার প্রভাব যাতে কমে না যায় তার জন্য মহাজোটের পরবর্তী সভাটা দিল্লিতেই করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য,১৯’এর জনসভার মঞ্চে বসেই মমতা চন্দ্রবাবু নাইডুকে বলেন,’অন্ধ্রপ্রদেশে সভা ডাকুন। এই মহাজোটের চেহারা মানুষের সামনে তুলে ধরতে যেখানে সভা হবে, সেখানে আমি যাব।’ সেই সময়ে মঞ্চে বসে থাকা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিহারের তেজস্বী প্রসাদ, কাশ্মীরের ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা, উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ সিংকেও তাঁদের রাজ্যে সভা ডাকার কথা বলেন।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিকে কোনঠাসা করতে এই মহাজোটের সভাগুলিই কাজে লাগাতে চান নেত্রী। এই কারণেই ১৯’এর ব্রিগেডের ঐতিহাসিক জনসমাবেশের দু’দিন কাটতে না কাটতেই ফের মহাজোটের পরবর্তী কর্মসূচির পরিকল্পনা করে ফেললেন বিজেপিবিরোধী জোটের মধ্যমণি।

তৃণমূল প্রস্তাবিত ব্রিগেড সমাবেশ যে সফল হয়েছে তার প্রমাণ মিলল হাতেনাতেই। ব্রিগেডের ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই দেশের বেশ কিছু ছোটখাটো আঞ্চলিক দল এই মহাজোটে অংশ হওয়ার জন্যে প্রস্তাব দিয়েছে। এই আঞ্চলিক দলগুলির ভোটব্যাঙ্ক বিরোধীদের দখলে এলে বিজেপিকে চাপে ফেলতে বেশি বেগ পেতে হবে না বলেই মনে করছেন অবিজেপি রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই প্রক্ষিতে দিল্লিতে মহাজোটের পরবর্তী জন সমাবেশে আরো বেশ কিছু আঞ্চলিক দলের প্রতিনিধিরা হাজির থাকবেন বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।

এতে বিজেপি বিরোধী জোটের মনোবল স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে,এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। উল্লেখ্য,১৯’এর ব্রিগেড জনসভার মঞ্চে হাজির থাকা বিভিন্ন দেশের বিজেপি বিরোধী নেতা-মন্ত্রীদের চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানিয়ে নিজের সৌজন্যবোধের পরিচয় দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীর আহ্বানে যেভাবে জাতীয় এবং রাজ্যস্তরের বিজেপি-বিরোধী নেতা মন্ত্রীরা ব্রিগেডে ছুটে এসেছেন তাতে তিনি ভীষণ সন্তুষ্ট এবং আপ্লুত বলেই জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার পন নিয়ে লোকসভা ভোটে বিজেপিকে পরাজয়ের লক্ষ্যে আরো এক ধাপ এগোনো সম্ভব হল বলেই মনে করছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!