এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > এবার জেলাশাসকের কাজকর্মে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শুভেন্দু অধিকারী!

এবার জেলাশাসকের কাজকর্মে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শুভেন্দু অধিকারী!

সরকারি হাসপাতালে দুর্দশার খবর রাজ্যের সাধারণ মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন মধ্যবিত্ত প্রত্যেকেই জানে। হসপিটালে রোগীর ভীড়ে শোয়ার জায়গা থাকে না অনেক সময়। রোগীকে হাসপাতালের বারান্দাতেও রাত কাটাতে হয় অনেকসময়। হসপিটালে ভর্তি হয়ে শয্যার অধিকারী হওয়া এবং ভগবানের দর্শন পাওয়া প্রায় একই পর্যায়ে পড়ে।

ডাক্তারি পরিষেবা অবশ্য এখন সরকারি হাসপাতালে আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে। অন্তত রোগী গেলে খালি হাতে ফিরতে হয় না। নূন্যতম চিকিৎসাব্যবস্থাটুকু হয়। তবে পরিষেবার কথা যদি বলতে হয় তাহলে সরকারি হাসপাতাল বহু যোজন পিছিয়ে আছে বেসরকারি হাসপাতালের থেকে। এবার সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখতে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সরকারি হাসপাতালের কমন দৃশ্য দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার রাতে মেদিনীপুর মেডিকেল হসপিটালে গিয়ে তিনি দেখেন শুধুমাত্র শয্যাতে নয়, হসপিটালের মেঝেতেও লাইন দিয়ে রোগীরা শুয়ে আছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি তাঁর ক্ষোভ গোপন করতে পারেননি।

এদিন কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ করেই মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেশপুরের জখম দলীয় কর্মীকে দেখতে আসেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি হাসপাতালের চূড়ান্ত অবস্থা দেখে সাথে সাথে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক তথা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রশ্মি কমলকে ফোন করেন। তাঁকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা যেন যত শীঘ্র সম্ভব করা হয়। সব শুনে জেলাশাসক মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন সঠিক ব্যবস্থা করার কথা বলে।

রবিবার রাতে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই বিধান ভবনের দোতলায় সার্জিকাল ওয়ার্ডে যান। সেখানেই তৃণমূলের তিন জখম দলীয় কর্মী ভর্তি ছিলেন। যাদের কেউই সরকারি হাসপাতালের শয্যা পাননি। তাঁরা মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। যা দেখে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি। শুভেন্দুর সঙ্গে সেসময় ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার। শুভেন্দু সাথে সাথে জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলেন।

জেলাশাসককে পুলিশ সুপার বলেন, মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কথা বলতে চাইছেন। এরপরে শুভেন্দু অধিকারী জেলাশাসককে বলেন, “আপনিই তো রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান। হাসপাতালটা একটু দেখুন। রোগীদের তো মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। অন্য প্রান্তে থাকা জেলাশাসক মন্ত্রীকে হাসপাতালে দুরবস্থা বোঝাবার চেষ্টা করেন। সেই শুনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সমস্যার কথা আগেই জানাতে পারতেন। কিছু শয্যার ব্যবস্থা করে দেওয়া যেত।”

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এরপরে শুভেন্দু অধিকারী হসপিটালের আরো ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। হাসপাতালের পরিবেশ দেখেও যথেষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। যদিও ততক্ষনে শুভেন্দু অধিকারীর আসার খবর পৌঁছে গেছে হাসপাতালে উচ্চমহলে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে আসেন ফ্যাসিলিটি ম্যানেজার সঞ্জীব গোস্বামী।

এ প্রসঙ্গে জেলাশাসক রশ্মি কমল জানিয়েছেন, “আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অতিরিক্ত স্থান দেখে শয‍্যারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” অন্যদিকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার তন্ময় পাঁজা জানিয়েছেন, “আমরা তো কোন রোগীকেই ফেরাই না। চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। এক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। আহতদের জন্য শয্যার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য, মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হসপিটাল নিয়ে বহুদিন ধরেই চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে নালিশ আসছে। ওই দিনও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরিষেবা নিয়ে নালিশ এসেছে। কেশপুরের জখম তৃণমূল কর্মী মন্ত্রীকে সামনে পেয়ে জানান, তাঁর হাতে চোট রয়েছে। তাও হসপিটাল থেকে তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক প্রকার বাধ্য হয়েছেন তিনি হসপিটাল ছাড়তে। ঘটনা শুনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মেদিনীপুরে এলে শুধু রেফার করে দেওয়া হয়। এটা চলতে পারে না।”

যদিও বহু রোগী মেঝেতে আশ্রয় নেয় সে কথা মেনে নিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের আধিকারিক জানিয়েছেন, “শয্যার থেকে বেশি রোগী ভর্তি থাকে। তাই কাউকে কাউকে মেঝেতে থাকতে হয়।” তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, “শয্যা বাড়ানো নিয়ে এবার রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে আলোচনা করা হবে।”

সমস্ত ঘটনার ওপর নজর রেখে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সরকারি হাসপাতালেই এই অবস্থা। শাসকদলের উচিত প্রতিটি হসপিটালে গিয়ে এই ভাবেই দুরবস্থা দূর করার। তাহলে অন্তত জনসাধারণ সুচিকিৎসার সুযোগ পাবেন। এবং সরকারি হাসপাতালমুখী হবেন।

অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, তৃণমূল কর্মীদের দেখতে এসে মন্ত্রী যেভাবে দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নিলেন, সেভাবে রাজ্যের বহু হসপিটালে সাধারণ জনগণ ভর্তি আছেন। তাঁদের জন্য কোন খোঁজ নেওয়া হয় না। ফলে হসপিটালের দুরবস্থার শিকার প্রতিনিয়তই তাঁদের হতে হয়। আপাতত সরকারি হাসপাতালের দুরবস্থা নিয়ে শাসক শিবির কি চিন্তা-ভাবনা করছেন সেদিকে লক্ষ্য রাখছে সবাই।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!