এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > বসন্ত উৎসবকে ঘিরে অনিশ্চয়তার আশংকা, রাস্তা বাতলাতে বৈঠকে বসছেন প্রশাসন ও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ

বসন্ত উৎসবকে ঘিরে অনিশ্চয়তার আশংকা, রাস্তা বাতলাতে বৈঠকে বসছেন প্রশাসন ও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ


বসন্ত উৎসবকে ঘিরে বিশ্বভারতী জমজমাট হয়ে ওঠে প্রতিবছর। কিন্তু গত বছর বিশ্বভারতীতে দোল পূর্ণিমার দিন বসন্ত উৎসবকে ঘিরে চূড়ান্ত বিশৃংখলার আবহ তৈরি হয়। আর তারপরেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বেঁকে বসেন। তাঁরা এ বছর দোলের দিন বসন্ত উৎসব করবেন না বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, সরকারি কর্তৃপক্ষ বিশ্বভারতীর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত হননা। আর তার জন্যই বসন্ত উৎসব নিয়ে জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন। যদিও এই বৈঠকে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।

বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রশাসনের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ার কারণ সেদিন বিশ্বভারতীতে মাঘ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল। তাই এবার বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বসন্ত উৎসবকে নির্বিঘ্নে করার জন্য আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সভাগৃহে প্রশাসনের কর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, বসন্ত উৎসবে শান্তিনিকেতন ভিড়ে উপছে পড়ে। সেই ভিড় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য সমস্যার কারণে বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে এই বসন্ত উৎসব না করার সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের যে সিদ্ধান্ত বসন্ত উৎসব না করার, তা নিয়ে মুখ খুললেন। তিনি তাঁর আপত্তি জানান এ ব্যাপারে। অন্যদিকে সূত্রের খবর, বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তাই নিয়ে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বোলপুরে এসে জানিয়েছিলেন, প্রত্যেক বছর বসন্ত উৎসবের দিন স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে বিশ্বভারতীকে সব রকম প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়। তাই এবারও সেই একই নিয়ম মেনে চলা হবে।

আর শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস পাওয়ার পরেই বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো হয় বৈঠকে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে জেলা প্রশাসনের কর্তারা যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়াও রাজ্যে কৃষিমন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মৎস্য মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ এই বৈঠকে ছিলেন বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী আশীস বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বসন্ত উৎসব কে ঘিরে যে অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে, তা যাতে আগামী দিনে না হয় তার জন্য বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে সমস্ত রকম সহযোগিতা করবে রাজ্য সরকার।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিত থাকার কারণেই তাঁরা অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, আগামী 11 ই ফেব্রুয়ারি বসন্ত উৎসব ঘিরে একটি বৈঠক করা হবে। যেখানে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা সহ রাজ্যের মন্ত্রী ও সাংসদরাও। ইতিমধ্যে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন এজেন্সির চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল, কৃষিমন্ত্রী আশীস বন্দ্যোপাধ্যায়, মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, জেলা শাসক, পুলিশসহ অন্তত 44 জনকে আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটেয় বৈঠক শুরু হবে।

এদিকে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকার এই বৈঠক সম্পর্কে জানিয়েছেন, ”বিশ্বভারতী প্রথম থেকেই চেয়েছিল বসন্ত উত্‍সব সুষ্ঠুভাবে করার জন্য সমস্ত দায়ভার রাজ্য সরকার নিক। তাই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে পদাধিকারী সকলকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠক শেষে বসন্ত উত্‍সব নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে।” সূত্রের খবর, আগামী 11 ই ফেব্রুয়ারি বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হবে শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবের দরজা আগের মতোই সকলের জন্য অবারিত দ্বার থাকবে নাকি তা শুধুমাত্র বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেই সীমিত থাকবে।

সূত্রের খবর, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বিশ্বভারতীর উপাচার্য জানিয়েছিলেন, প্রশাসনিক সমস্যার কারণেই তাঁরা বসন্ত উৎসব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ, পৌষ মেলার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা হয়েছিল। সে কারণেই বিশ্বভারতী বসন্ত উৎসব বহিরাগতদের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে এরকম যুক্তি মানতে চাওয়া হয়নি। তাই সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়, তাঁরা যেন তাঁদের প্রশাসনিক অসুবিধার কথা লিখিত ভাবে রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেন। আর সেই শর্ত মেনেই আগামী 11 ই ফেব্রুয়ারি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। ওইদিনই চূড়ান্ত হয়ে যাবে আদৌ এ বছর বসন্ত উৎসব হবে, না হবে না।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!