এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বৈশাখীর ব্যবহারে ক্ষোভ বাড়ছে বিজেপির অন্দরে, জোর চাঞ্চল্য রাজ্য বিজেপিতে

বৈশাখীর ব্যবহারে ক্ষোভ বাড়ছে বিজেপির অন্দরে, জোর চাঞ্চল্য রাজ্য বিজেপিতে

রাজ্য-রাজনীতিতে অনেক জল্পনা-কল্পনার যোগ-বিয়োগ ঘটিয়ে অবশেষে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এই মুহূর্তে বঙ্গ-রাজনীতির অন্যতম ‘চর্চিত জুটি’ শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু যোগদানের পর থেকেই বৈশাখীদেবীকে নাকি সামলাতে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে রাজ্য বিজেপিকে – বলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। শুরুটা হলো এদিন যখন রাজ্য বিজেপির মিডিয়া সেল শোভন চট্টোপাধ্যায়কে রাজ্য দফতরে সংবর্ধনা দেবার কথা ঘোষণা করে তখন থেকেই!

কেননা, সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে প্রাথমিকভাবে নাম ছিল না বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন, এই নিয়ে তিনি নালিশ করেন শোভনবাবুকে। তৎক্ষণাৎ শোভনবাবু একরাশ ক্ষোভ নিয়ে সোজা ফোন করেন দিল্লিতে। এরপর ভুল স্বীকার করে রাজ্য নিয়ে বৈশাখীদেবীর নাম আমন্ত্রণপত্রে যুক্ত করে বিজেপি। এতো গেলো সেদিনের কথা কিন্তু বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। এই নিয়ে রীতিমত ঝড় বয়ে যায় গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে বলে জানা গেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন সূত্র থেকে!

গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই রীতিমত প্রশ্ন উঠতে শুরু করে – তবে কি বৈশাখীদেবীকে দায়ে পরেই দলে নিতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য বিজেপি? কেননা, শোভনবাবু রাজ্য-রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই হেভিওয়েট নেতা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়ে এলেও, বৈশাখীদেবীর রাজনৈতিক আকাশে উত্থান, কার্যত শোভনবাবুর সঙ্গে বহুচর্চিত ‘বন্ধুত্বের’ সম্পর্কের জেরে! আর তাই কি দলে নিলেও শোভনবাবুর সমান ‘রাজনৈতিক’ সম্মান ও স্বীকৃতি দিতে রাজি নয় গেরুয়া শিবিরের একাংশ?

যদিও এই নিয়ে তড়িঘড়ি ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি রসিকতার সুরেই বলেন, ‘আমরা যেমন জানি ভাত-ডাল, তেমনই শোভনদা ও বৈশাখীদি। আলাদা করে বলার কী আছে!’ যদিও এতেও আপত্তি বৈশাখীদেবীর – বিজেপি রাজ্য সভাপতির এহেন মন্তব্যে রীতিমত ক্ষুব্ধ তিনি এবং সেকথা প্রকাশ্যে জানিয়েও দিয়েছেন! যা নিয়ে রীতিমত উষ্মা প্রকাশ করছেন রাজ্য বিজেপির একাংশ। কেননা, এদিন বিজেপির দফতরে শোভনবাবু-বৈশাখীদেবীর ঢোকার কথা ছিল দুপুর দুটোয়, তাঁরা এলেন সাড়ে তিনটেয়।

দুজনের অপেক্ষায় ঠায় বসে থাকলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ! এরকম ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে কবে ঘটেছে – কিছুতেই মনে করতে পারছেন না, রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরে নিয়মিত আনাগোনা থাকা বহু নেতা-কর্মীই! আর এই নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরের ফিসফাস, এই মুহূর্তে রাজ্য-বিজেপির হিন্দুত্বের পোস্টার-বয় দিলীপ ঘোষকেও ফেলে দিয়েছে বেজায় বিড়ম্বনায়! কেননা, শোভনবাবু ও বৈশাখীদেবীকে গেরুয়া শিবিরে আনার পিছনে রয়েছেন তিনিই।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

অথচ, রীতিমত ডাকাবুকো রাজনীতিবিদ বলে পরিচিত দিলীপবাবুকে তাঁদের জন্যই একরাশ গুঞ্জনের ঢেউ সামলাতে হচ্ছে দলের অন্দরেই! আর এই নিয়েই রীতিমত চাপা ক্ষোভ রাজ্য বিজেপির অন্দরে। কেননা দিলীপবাবুর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, ভরা সাংবাদিক বৈঠকে তির্যকভাবে বৈশাখীদেবী বলেন, ‘ডাল-ভাত যেটা বলেছেন, ঠিক বুঝলাম না! কাকে ডাল বা ভাত বলেছেন? ভাত শোভনদা হলে ডালের মতো মিশে যাব, এই ধারনা ভুল। ওনাকে ডাল বলে থাকলে – আমার সেই ক্ষমতা নেই, শোভনদাকে বহন করে নিয়ে যাব!’

আর এই কথাটা যে কোনোভাবেই দিলীপ ঘোষের অনুগামীরা বা বিজেপির সদস্যরা ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে কান পাতলেই! তবে এখানেই শেষ নয়, আরোও বাকি শোভনবাবু ও বৈশাখীদেবীকে নিয়ে গেরুয়া শিবিরের বিড়ম্বনা-পর্ব! সূত্রের খবর, এই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের পর সমস্ত দলীয় বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেন দিলীপবাবু। সেখানে, স্বাভাবিকভাবেই ডেকে নেন সদ্য দলে যোগ দেওয়া ও তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হওয়া শোভনবাবুকেও।

অথচ বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হলেও, সেই বৈঠকেও নাকি থাকার চেষ্টা করেছিলেন বৈশাখীদেবী! কিন্তু যেহেতু তিনি বিধায়ক নন তাই তাঁকে নিয়ম অনুযায়ী ভেতরে ঢুকতে দেওয়া না হওয়ায়, নাকি বেজায় চটেছেন শোভনবাবুর এই ‘বিশেষ বন্ধু’। বিজেপি রাজ্য সদর দপ্তরে আর বিন্দুমাত্র কালক্ষেপ না করে, সোজা গাড়িতে গিয়ে বসেন আর শোভনবাবুর অপেক্ষা করতে থাকেন! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হেভিওয়েট রাজ্যনেতার কথায়, প্রথম দিন থেকেই নিজেকে ‘কেউকেটা’ মনে করা বৈশাখীদেবীকে নিয়ে তৈরী হচ্ছে দলের অন্দরেই ক্ষোভ।

এছাড়াও অনেক বিজেপি নেতা-কর্মীর যুক্তি হল, শোভনবাবু না হয় তৃণমূলের মন্ত্রী, মেয়র ছিলেন কিন্তু বৈশাখীদেবী তৃণমূলের কোন হেভিওয়েট পদে ছিলেন? তিনি শোভনবাবুর বান্ধবী হতে পারেন, কিন্তু রাজ্য-রাজনীতিতে তো আর এমন কোনো বড়সড় নাম নন! ফলে, বিজেপি যে দাবি করে এখানে ‘কর্মের’ মাধ্যমেই নিজের যোগ্যতা প্রমান করতে হয়, আর তারফলেই জোটে পদ – বৈশাখীদেবীর ‘সৌজন্যে’ তাকি আপাতত জলাঞ্জলি দিতে হবে? যদিও এখনই এই নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন কেউই, কিন্তু বৈশাখীদেবীকে নিয়ে ইতিমধ্যেই যে একটা চাপা ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলতে শুরু করে দিয়েছে বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে – তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Top
error: Content is protected !!