এখন পড়ছেন
হোম > বিশেষ খবর > শতাব্দী প্রাচীন সংস্থার বিলগ্নীকরন আটকে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএমএস

শতাব্দী প্রাচীন সংস্থার বিলগ্নীকরন আটকে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএমএস

গত ৪ তারিখ কেন্দ্রীয় সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে জানিয়ে দেয় যে হাওড়ার বুকে অবস্থিত বিখ্যাত কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ব্রিজ অ্যান্ড রুফের বিলগ্নিকরণ হচ্ছে না এবং এই সংস্থার নব-পুনরুজ্জীবনের জন্য কেন্দ্র সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নেবে। শতাব্দী প্রাচীন এই বিখ্যাত সংস্থার বিলগ্নিকরণের আলোচনা শুরু হতেই ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের অনুমোদনে ব্রিজ অ্যান্ড রুফ মজদুর সঙ্ঘ দৃঢ়তার সঙ্গে লাগাতার আন্দোলন শুরু করে। পাশাপাশি, নিজেদের দাবি ও বক্তব্য কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা-সাংসদদের পেশ করেন। এরপরেই তাঁরা, ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে ভারী-শিল্প দপ্তরের কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ব্রিজ অ্যান্ড রুফ মজদুর সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক অমিয় মজুমদার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বোঝান, এই সংস্থার বিলগ্নিকরন হলে প্রত্যক্ষভাবে ২৫ হাজার পরিবার ও পরোক্ষভাবে প্রায় লক্ষাধিক পরিবার রাস্তায় চলে যাবে। এছাড়াও উজ্জ্বলবাবুর মধ্যস্থতায় অমিয়বাবুরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বোঝান, শতাব্দী প্রাচীন কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ব্রিজ অ্যান্ড রুফ – এখনো পর্যন্ত লাভজনক এবং ডিভিডেন্ট পেয়িং কোম্পানি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো বাজেটারি সাপোর্ট আমরা না নিয়েই তা এগিয়ে চলেছে। সুতরাং সেই কোম্পানিকে এগিয়ে যেতে কেন্দ্র সরকার আরও সাহায্য করুক এবং আরো কিভাবে বেশি লাভ করা যায় তার পরিকল্পনা করুক, কিন্তু এর বিলগ্নিকরন যেন না করা হয়।

এই ব্যাপারে প্রিয় বন্ধু বাংলার তরফে ব্রিজ অ্যান্ড রুফ মজদুর সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক অমিয় মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দেখুন কেন্দ্র সরকার ও নীতি আয়োগ – কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে হাই প্রায়োরিটি বা লো প্রিউরিটি বেসিসে বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পিছনে কারণ ছিল যাতে এই সংস্থাগুলির আরো বেশি আধুনিকীকরণ করা যায় তাহলে তা আরো বেশি ফলপ্রসূ হবে ভারতবর্ষের অর্থনীতির পক্ষে। যা আদতে দেশের পরিকাঠামগত উন্নতিতে কাজে লাগানো যাবে। কিন্তু, এই সিদ্ধান্ত হয়ত নেওয়া যেতে পারে অলাভজনক সংস্থার ক্ষেত্রে। আমরা সেখানে এই অর্থনৈতিক বছরে প্রায় ২,০৫৬ কোটি টাকার ব্যবসা করেছি, যার মধ্যে লাভের অংশ প্রায় ২৬ কোটি টাকা। তবে, সবথেকে আশাপ্রদ যে ব্যাপারটা তা হল ৬,৬২১ কোটি টাকার কাজ এই মুহূর্তে আমাদের হাতে রয়েছে।

অমিয়বাবু আরো জানান, আগামী অর্থনৈতিক বছরে ব্রিজ অ্যান্ড রুফ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি কাজ করতে চলেছে এবং তা হলে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার কাছাকাছি আমরা লাভ করতে পারব। সব থেকে বড় কথা, এই কোম্পানি যেসব জায়গায় কাজ করে – বিশেষ করে, সীমান্তবর্তী এলাকা বা উত্তর-পূর্ব ভারতের এলাকা – সেখানে বিএসএফের সঙ্গে ব্রিজ তৈরী করা, সীমান্তে বেড়া লাগলো, রাস্তা, সস্তায় বাড়ি তৈরী, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, স্মার্ট সিটিস, হাইড্রো কার্বন সেক্টর – সমস্তই কিন্তু দ্রুত উন্নয়নশীল সেক্টর। আমাদের মেজর ক্লায়েন্টের মধ্যে রয়েছে – পেট্রোকেমিক্যাল, থার্মাল পাওয়ার, ক্যালকাটা পোর্ট ট্রাস্ট, পুরসভা, পিডব্লিউডি, রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম লিমিটেড, ভেল প্রভৃতি পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টর।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এরপরে অমিয়বাবু জানান, আমরা মাননীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বোঝাতে পারি যে, স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়ে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার এই সংস্থার সঙ্গে জড়িত। আর এরপরেই, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় ও আমাদের সঙ্গে গত ৪ তারিখে বিকেলবেলায় আলোচনায় বসেছিলেন। সেখানে, সমস্ত বিষয় বুঝে তিনি সরাসরি – নীতি-আয়োগের ভাইস-চেয়ারপারসন রাজীব কুমারের সঙ্গে ২০ মিনিট কনফারেন্স করিয়ে দেন। ওই বৈঠকে মাননীয় মন্ত্রীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ছিল – ব্রিজ এন্ড রুফের ঐতিহ্য নিয়ে একটি দুর্দান্ত মন্তব্য। এই কোম্পানির ৯৯ বছরের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি রাজীব কুমারকে বলেন, এই সুদীর্ঘ ইতিহাসের জন্য আমি একজন বাঙালি হিসাবে গর্ববোধ করছি। কিন্তু, ইডেনে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে কোনো ব্যাটসম্যান ৯৯ এ আউট হয়ে গেলে আমরা যে বড় ব্যাথা পাই!

অমিয়বাবুর বক্তব্য, কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর এই কথার পরেই রাজীব কুমার অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কোম্পানির বিলগ্নিকরন স্থগিত করে দেন। এর সাথেই তিনি যোগ করেন, আসলে বাম জামানায় ৩৪ বছরের অপশাসনে ৫৮ হাজার কল-কারখানা স্তব্ধ হয়ে গেছে। তৃণমূল জমানাতেও তার খুব একটা পরিবর্তন হয় নি। ফাঁকিবাজির যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তারফলে কর্ম-সংস্কৃতি তলানিতে চলে গেছে। কিন্তু আমাদের স্লোগান হল – করেঙ্গে কাম, করকে লেঙ্গে পুরে দাম। আমরা আমাদের শ্রমের জন্যই বেতন নেব। তারফলে – শ্রমিকের হীত, রাষ্ট্রের হীত, উদ্যোগের হীত। কেন্দ্র সরকারও তা বুঝেছে আর তাই আমাদের এই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও কর্মসংস্কৃতিকে কুর্নিশ জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এরপর অত্যন্ত প্রত্যয়ী হয়ে অমিয়বাবু জানান, এই সবে শুরু – আগামীদিনে উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্ত্বে বাংলা জুড়ে আরো শিল্প-কারখানার পুনরুজ্জীবন ও বিলগ্নিকরন আটকানোতে পথ দেখাবে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ। ভারতবর্ষের বুকে ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ হচ্ছে বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন এবং পশ্চিমবঙ্গেও আমাদের সংগঠনের দ্রুত প্রসার হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পরে শ্রমিক শ্রেণী আমাদের পাশে দাঁড়াবেন না এটা হতে পারে না! ৪ তারিখের এই সিদ্ধান্তের পরে আমরা বিভিন্ন আধিকারিকদের এবং শ্রমিক ভাইদের কাছ থেকে বার্তা পাচ্ছি, তাঁরা আমাদের এগিয়ে যাবার ও পাশে থাকার কথা বলে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন। সুতরাং আগামী দিনে বিএমএসই ভরসা একথা সকলেই বুঝতে পারছেন। তাই আমরা অত্যন্ত প্রত্যয়ী, বাংলায় শ্রমিকের স্বার্থরক্ষায় ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ যেভাবে কাজ করছে তাতে আমাদের সংগঠন আরো দ্রুততার সঙ্গে বাড়বে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!