এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > দুই বিদায়ী সাংসদ তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী বিজেপিতে? জল্পনার মাঝেই দেখে নিন ‘সন্দেহের’ তালিকা!

দুই বিদায়ী সাংসদ তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী বিজেপিতে? জল্পনার মাঝেই দেখে নিন ‘সন্দেহের’ তালিকা!

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের পরই বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য তথা হেভিওয়েট বিজেপি নেতা মুকুল রায় দাবি করেছিলেন, তৃণমূলের অনেক নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ বিধায়করা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তার সাথে যোগাযোগ রাখছেন। আর মুকুলবাবুর এই দাবিকে সত্য করে লোকসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূলের অনেক সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরা ছাড়াও একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা বলে ডাকা প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ এবং তৃণমূলের ছাত্র রাজনীতির অন্যতম কাণ্ডারী বলে পরিচিত শঙ্কুদেব পণ্ডা,এবং ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং যোগ দিয়েছে বিজেপিতে। যা রাজ্যের শাসকদলের ভিত অনেকাংশেই নড়িয়ে দিয়েছিল বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

এদিকে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং জানিয়েছিলেন যে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের অন্তত 40 জন বিধায়ক তার সাথে যোগাযোগ রাখছেন। আর এরপরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনের পর্ব মিটে যাওয়ার সাথে সাথেই বিভিন্ন সংস্থার তরফে এক্সিট পোল প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় যে রাজ্যে এবার বিজেপি 11 থেকে ২২ টির মতো আসন দখল করতে চলেছে।

আর এরপরই ইন্ডিয়া টুডের মত নিউজ চ্যানেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে তৃণমূলের দুই জন প্রার্থী বিজেপির সাথে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন যাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে ওই সংবাদমাধ্যমে কে কে যোগ দেবেন তাদের নাম না বললেও তাঁরা যে বিদায়ী সংসদ ও এবারের তৃণমূল প্রাথী তা পরিষ্কার বলা হয়েছে। আর বিদায়ী সংসদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন এবারের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায়। ফলে এদের মধ্যে কে কে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তা নিয়ে হিসাব কষতে শুরু করে দিয়েছেন রাজনৈতিকমহল। তাই তাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন প্রায় সকল বিদায়ী সংসদ তথা তৃণমূল প্রার্থীরা। আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কে কে রয়েছেন বিদায়ী সংসদের পাশাপাশি এবারের তৃণমূল প্রার্থী  :-

 

 ১) আলিপুরদুয়ার: দশরথ তিরকে: গতবার এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেছিলেন। এবারেও এই আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে তার ওপর ভরসা রেখে তাকে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২) জলপাইগুড়ি: বিজয় চন্দ্র বর্মন: গতবারের মতো এবারও এই কেন্দ্রে তৃণমূলের তরফে প্রার্থী করা হয়েছে।

৩) বালুরঘাট: অর্পিতা ঘোষ: 2014 সালে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি জয়লাভ করেছিলেন। এবারেও তাকে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে দল।

৪) মালদহ উত্তর: মৌসম বেনজীর নূর: গত 2014 সালে কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করলেও এবারের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগদান করেছেন। বর্তমানে এই মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের তিনি তৃণমূল প্রার্থী।

৫) বনগাঁ,মমতা বালা ঠাকুর: 2014 সালে মতুয়া মহাসঙ্ঘের অন্যতম সদস্যা তথা প্রয়াত বড়মা বীণাপাণি দেবীর প্রয়াত ছেলের বউ মমতা বালা ঠাকুরকে টিকিট দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়ী হয়েও সংসদীয় গিয়েছিলেন তিনি। আর এবারেও তাকে এই কেন্দ্র থেকে দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল।

৫) ব্যারাকপুর: দীনেশ ত্রিবেদী: টানা দীর্ঘদিন তৃণমূলের সাংসদ। এবারে তার টিকিট পাওয়া নিয়ে নানা জল্পনা হলেও শেষ পর্যন্ত তার ওপরই ভরসা রেখেছেন তৃণমূল নেত্রী।

৬) দমদম: সৌগত রায়: প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং অধ্যাপক মানুষ। সংসদে বহুবার দমদমের মানুষের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এবারেও এই সৌগত বাবুকে দমদমের প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

৭) বারাসাত: কাকলি ঘোষ দস্তিদার: 2014 সালের পর 2019 সালেও বারাসাতে দলের হয়ে টিকিট পেয়েছেন তিনি।

৮) জয়নগর: প্রতিমা মন্ডল: গতবারের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে জয়নগর থেকে সাংসদ হয়েছিলেন প্রতিমা দেবী। এবারেও তার উপর ভরসা রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

৯) মথুরাপুর: চৌধুরী মোহন জাটুয়া: দীর্ঘদিনের তৃণমূল সাংসদ বটে। কিন্তু এবারে তার প্রার্থী হওয়া নিয়ে প্রথম থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তার ওপরই ভরসা রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১০) ডায়মন্ড হারবার: অভিষেক বান্দ্যোপাধ্যায় : তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। বর্তমানে যুব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি। গত 2014 সালে প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে নামেন তিনি। ডায়মন্ডহারবারের প্রার্থী করা হয় তাঁকে। আর এবারেও সেই ডায়মন্ডহারবারের প্রার্থী অভিষেক বাবু।

১২) কলকাতা উত্তর: সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সহকর্মী। উত্তর কলকাতারও দীর্ঘদিনের তৃণমূল সাংসদ।মাঝে চিটফান্ড কাণ্ডে তার গ্রেপ্তারি নিয়ে সর্বত্র শোরগোল পড়ে যায়। আর তারপর থেকেই তাকে টিকিট দেওয়া নিয়ে নানা মহলে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। তবে এবারেও তাকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

১৩) হাওড়া: প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়: ক্রীড়া জগতের একজন পরিচিত মুখ হিসেবে গত 2014 সালে এই হাওড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেন তৃণমূল নেত্রী। আর এবারেও সেই প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সেই কেন্দ্রের প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৪) উলুবেড়িয়া: সাজদা আহমেদ: দীর্ঘদিন এখানে তৃণমূল সাংসদ ছিলেন সুলতান আহমেদ। তবে এবার সুলতান আহমেদের মৃত্যুতে সেই কেন্দ্রে তারই স্ত্রী সাজদা আহমেদকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

১৫) শ্রীরামপুর: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট বলেই পরিচিত। বিশিষ্ট আইনজীবীও বটে। গত 2014 সালের পর শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রে এবারও তিনি তৃণমূলের প্রার্থী।

১৬) হুগলি: রত্না দে নাগ: বিগত 2014 সালের পর 2019 সালে এই হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে ফের তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন রত্নাদেবী।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

১৭) আরামবাগ: অপরুপা পোদ্দার: গত 2014 সালে তিনি আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে সংসদে গিয়েছিলেন। তবে এবারে তার সাথে তৃণমূল ত্যাগী বর্তমান বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের যোগাযোগ নিয়ে প্রথম থেকেই তিনি টিকিট পাবেন কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত অপরূপা পোদ্দারের উপর ভরসা রেখে তাকে আরামবাগ লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৮ তমলুক: দিব্যেন্দু অধিকারী: তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত। দীর্ঘদিন এখানে তৃণমূলের বর্তমান মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জয়লাভ করে সংসদে গিয়েছিলেন। তবে এবার তার ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

১৯) কাঁথি: শিশির অধিকারী: দীর্ঘদিনের প্রবীণ তৃণমূল নেতা। দীর্ঘদিনের সাংসদও বটে। এবারেও তাকে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

২০) ঘাটাল: দীপক অধিকারী: গত 2014 সালে এই কেন্দ্র থেকে সুপারস্টার দেবকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারেও তাকেই প্রার্থী করেছেন তিনি।

21) পুরুলিয়া: মৃগাঙ্ক মাহাতো: গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুরুলিয়া এলাকায় বিজেপির অনেকটাই প্রভাব বেড়েছিল। এবারে এই পুরুলিয়ায় মৃগাঙ্ক মাহাতোকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

২২) বর্ধমান পূর্ব: সুনীল মণ্ডল: গত 2014 সালের বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এবারেও তাকে এই কেন্দ্র থেকে টিকিট দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২৩) বর্ধমান দুর্গাপুর: মমতাজ সঙ্ঘমিত্রা: গত 2014 সালের পর ফের এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন মমতাজ সংঘমিত্রা।

২৪) বীরভূম ,শতাব্দী রায়: গত 2009 সাল থেকে একটানা তৃণমূল সাংসদ। এবারে তার টিকিট পাওয়া নিয়ে নানা মহলে নানা জল্পনা হলেও শেষ পর্যন্ত তার ওপরই ভরসা রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২৫) মুনমুন সেন ,বাঁকুড়া, আসানসোল : মুনমুন সেন হলেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের মেয়ে। তিনি ২০১৪ সালে তৃণমূলের টিকিটে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন এবারে তাঁর উপর ফের ভরসা রাখলেও বাঁকুড়া নয় এবারে তৃণমূল নেত্রী তাঁকে আসানসোল থেকে টিকিট দিয়েছেন।

এক্সিট পোল প্রকাশ্যে আসার পরই টাইমস নাওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইতিমধ্যেই দুজন তৃণমূল প্রার্থী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন।যদিও সেখানে কোনো নাম নেওয়া হয়নি। ফলে রাজনৈতিকমহলের মতে একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছাড়া বাকি সবাইই রয়েছেন সন্দেহের তালিকায়। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফ থেকে একে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়া হলেও অন্দরে জোর গুঞ্জন চলছে যে প্রায় এদের সকলের উপরেই নজরদারি শুরু হয়ে গেছে।

যেহেতু এক সর্ব-ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে ‘তৃণমূলের বিদায়ী সাংসদ’ ও ‘এবারেও তৃণমূলের প্রার্থী ‘ সেই ভিত্তিতে যে নামগুলি নিয়ে জল্পনা চলছে – এই তালিকা সম্পূর্ণভাবে তার ভিত্তিতে করা। কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় বা কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে রচিত নয়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!