এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বিজেপির হিন্দুভোটেও কি ভাঁটা পড়ছে বাংলায়? উপনির্বাচন তুলে দিল বড়সড় প্রশ্ন!

বিজেপির হিন্দুভোটেও কি ভাঁটা পড়ছে বাংলায়? উপনির্বাচন তুলে দিল বড়সড় প্রশ্ন!

রাজ্যের তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। আর এই ভরাডুবির পেছনে কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এনআরসি ভীতি। শাসক থেকে বিরোধী প্রত্যেকেই এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছে এনআরসির জোরদার প্রচার করার ফলেই বিজেপির এই ভরাডুবি। এবারের বিধানসভা উপনির্বাচনে করিমপুরকে রাজ্য বিজেপি বিশেষ নজরে রেখেছিল। সেখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমেছিলেন বিজেপির হয়ে জয়প্রকাশ মজুমদার। প্রথম থেকেই বিজেপির মধ্যে করিমপুর, কালিয়াগঞ্জ ও খড়্গপুর নিয়ে 100% নিশ্চয়তা ছিল যে তাঁরা জিতবে। কিন্তু পরবর্তীতে ভোটের রেজাল্টে দেখা গেল, ফল হয়েছে পুরো উল্টো। একটি জায়গাতেও বিজেপি জিততে পারেনি। তাই এবার প্রশ্ন উঠেছে বিজেপির শক্তি যে হিন্দু ভোট, সেখানেও কি এবার ভাটা পড়েছে?

নির্বাচনের ফলাফলের পর বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার আক্ষেপ সহযোগে বলেছেন, ‘কংগ্রেস জোট করেছে সিপিএমের সঙ্গে কিন্তু ভোট করেছে তৃণমূলের হয়ে।’ যদিও কথাটা অনেকাংশেই সত্যি মনে হলেও বিজেপির অন্দরে এনআরসি ভীতিকেই মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে হারের জন্য। তবে বিজেপির অন্য একটি অংশ মনে করছে, হিন্দুদের ভোট নিয়ে বিজেপির অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই তাঁদের ডুবিয়েছে। করিমপুরের বিজেপির স্থানীয় নেতাদের অনেকের মত, রাজ্য স্তরের নেতা থেকে প্রার্থী প্রত্যেকেই 100% নিশ্চিত ছিলেন লোকসভা ভোটের পর এলাকার হিন্দুরা তাঁদের ভোট দিয়ে যাবেন। ফলে মুসলিমপ্রধান করিমপুর 2 ব্লক নিয়ে তাঁরা অতিরিক্ত মাথা ঘামিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দলের এক স্থানীয় নেতা জানিয়েছে, ‘আমাদের দলের বড় নেতারা মনে করেছিলেন, কড়া পাকের হিন্দুত্ব সামনে রেখে ভোট করলেই হিন্দু ভোট আপনা থেকেই আমাদের বাক্সে এসে পড়বে। তার জন্য বেশি পরিশ্রম করতে হবেনা। বরং মুসলিম এলাকা অর্থাৎ করিমপুর 2 ব্লক থেকে কয়েক হাজার ভোট আনতে পারলেই কেল্লা ফতে হয়ে যাবে।’ করিমপুরের এলাকার বিজেপি নেতারা মনে করছেন, হিসাব কষে মুকুল রায় করিমপুরের মুসলিম নেতাদের কাছে টানতে চেয়েছিলেন। ভোটের দিন জয়প্রকাশ মজুমদারও সেই অংক অনুসরণ করে দু’নম্বর ব্লকে মাটি আঁকড়ে পড়েছিলেন। তবে দলের নিম্নস্তরের প্রত্যেকেই একটাই কথা বলছে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই বিজেপিকে ডুবিয়েছে।

করিমপুর 1 ব্লক এর করিমপুর 1 ও 2 নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত মূলত হিন্দু প্রধান এলাকা। গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় করিমপুর 2 পঞ্চায়েতের 1356 টি ভোট বেড়েছে এবার তৃণমূলের। যেখানে বিজেপি’র কমেছে 449 টি ভোট। একইভাবে করিমপুর ব্লকের সবকটি পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু মাত্র দুটি ব্লকে বিজেপি তাঁদের ভোট বাড়িয়েছে। তবে দেখা যাচ্ছে ভোট বৃদ্ধির পার্থক্য প্রায় ছয় হাজারের মতো।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

শুধুমাত্র এনআরসির কারণে বিজেপির এই ভরাডুবি একথা মানতে নারাজ বিজেপি দলের নিচু স্তরের নেতাকর্মীরা। বরং তাঁরা দলের নেতৃত্বের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে রাজনৈতিক রণকৌশলকেই দায়ী করেছেন হারের জন্য। অন্যদিকে আরএসএস ঘনিষ্ঠ বিজেপির এক নেতা আক্ষেপ সহযোগে জানিয়েছেন উপনির্বাচনে তাদেরকে এড়িয়ে ভোট করা হয়েছে। আরএসএস সংগঠনকে বিজেপি কোন কাজে ব্যবহার করেনি। তবে এখানেই শেষ নয়, দলীয় গোষ্ঠী কোন্দলও বিজেপির হারের পেছনে যথেষ্ট বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সূত্রের খবর, করিমপুরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দিনের পর দিন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বিজেপির অন্দরে।

নিচুস্তরের বিজেপি কর্মীদের আরেকটি অভিযোগ হলো, প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার নিজেই রণকৌশল ঠিক করেছিলেন জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ না করে। জয়প্রকাশ মজুমদার এবং মুকুল রায় নিজেদের মতো করেই ভোট করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, বিজেপি অন্দরের অভিযোগ, যে গোষ্ঠীকে উপনির্বাচনে বিজেপি ভোট করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁরাই তলে তলে তৃণমূলকে সাহায্য করেছে।

শুক্রবার বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার অবশ্য অন্য কথা বলেছেন। নানান অভিযোগের পালটা তিনি বলেন, ‘এইসব কথা ঠিক নয়, সর্বশক্তি দিয়ে হিন্দু এলাকাতেও প্রচার করেছি। তবে ভোটের দিন তৃণমূলের আটকাতে আমি করিমপুর 2 ব্লক এ ছিলাম।’ অন্যদিকে বিজেপির নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মহাদেব সরকার জানিয়েছেন, ‘আমরা বুথভিত্তিক সমীক্ষা করে এই ফলাফলের কারণ বার করার চেষ্টা করছি। তারপরেই এই বিষয়ে কথা বলব।’

তবে ইতিমধ্যে বিধানসভা উপনির্বাচনের পরাজয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে দলের নিচতলা থেকে সাংসদ পর্যন্ত কাউকেই উপনির্বাচনে ভরাডুবির দায় থেকে নিষ্কৃতি দিতে পারছেন না বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্যদিকে সূত্রের খবর, খড়গপুর কালিয়াগঞ্জ ও করিমপুরে গোহারা বিজেপির একাংশ অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে এ রাজ্যের দলীয় 18 জন সাংসদের দিকে। লোকসভা ভোটে 18 টি আসন পেয়ে বিজেপি সেসময় দাবি করেছিল 2021 এর বিধানসভা দখল শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে 3 কেন্দ্রে উপনির্বাচনে হারার পর বিজেপির সব নেতারাই বলতে শুরু করেছেন একুশের আগেই দল ঘুরে দাঁড়াবে। আপাতত দলের হার নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যে দিয়ে গিয়ে বিজেপি পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেবে সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!